জিরো পয়েন্ট বিশেষ প্রতিবেদন, ১ মে ২০২৫ :
মানস রায়, শিক্ষক ও সমাজসেবী, মেমারি, পূর্ব বর্ধমান
“সবাই ভুল, শুধু আমি ঠিক—এই মানসিকতা আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?”
বর্তমান সময়ে মানুষের জীবনযাপন, চাহিদা আর চিন্তাধারায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। একদিকে আমরা উন্নত প্রযুক্তি, দ্রুতগামী জীবন আর ‘মাই ওয়ে ইজ দ্য বেস্ট’ টাইপ আত্মবিশ্বাসের যুগে আছি। অন্যদিকে, সেই আত্মবিশ্বাস ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে একধরনের আত্মকেন্দ্রিকতা আর অসহিষ্ণুতায়। আজকাল মানুষ যেন সব কিছুই বিচার করছে নিজের ব্যক্তিগত পছন্দ, বিশ্বাস আর অভিজ্ঞতার চোখ দিয়ে। যার সঙ্গে মেলে, সে ‘স্মার্ট’, ‘ওকে’, ‘নিজের মতো’; আর যার সঙ্গে মেলে না, সে ‘ভুল’, ‘মূর্খ’ বা ‘টক্সিক’।

এভাবে আমরা একটা “সহমত না হলে শত্রু” টাইপ কালচারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। ধর্ম, রাজনীতি, সংস্কৃতি—সব জায়গাতেই একধরনের একমুখী দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করছে। এক সময় যেখানে বিতর্ক মানে ছিল ভিন্নমতকে বুঝে তার যুক্তির সম্মান দেওয়া, আজ সেটাই হয়ে গেছে অপমান আর ব্যক্তিগত আক্রমণের ক্ষেত্র। এই অসহিষ্ণুতা শুধু বড় বিষয়ে নয়—ছোটখাটো জিনিসেও। কেউ হয়তো নিরামিষ খায়, কেউ আবার গরম জল খায় না—তবুও তা নিয়ে ব্যঙ্গ, ট্রোল শুরু হয়ে যায়। যেন অন্যের পছন্দ সহ্য করা মানেই নিজের পরিচয় দুর্বল হয়ে গেল।
কেন এমন হচ্ছে? এর পিছনে কিছু কারণ হতে পারে:

সোশ্যাল মিডিয়া: প্রতিটি মানুষ আজ নিজের মতামত প্রচারের প্ল্যাটফর্ম পেয়ে গেছে, কিন্তু সেই সঙ্গে বেড়ে গেছে ইগো। দ্রুত জীবনের গতি: সময় কম, ধৈর্য কম—শুনে বোঝার আগেই রায় দিয়ে দেওয়া হয়।ভয় বা অনিরাপত্তা: নিজের চিন্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে মানুষ ভিন্নমতকে হুমকি ভাবে।

সমাধান কোথায়?
শোনা শিখতে হবে, বোঝার চেষ্টা করতে হবে।
ভিন্নমত মানেই শত্রু না—এটাই মানতে হবে।
সহমতের চেয়েও সহিষ্ণুতার মূল্য অনেক বেশি।
নিজেকে বড় মনে করাটা খারাপ না, কিন্তু তার মানে এই নয় যে অন্যরা ছোট। এই পৃথিবী বহু রঙের, বহু ভাষার, বহু ভাবনার—সবাইকে জায়গা দিতে পারলেই সত্যিকারের সভ্যতা গড়ে উঠবে।
