৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ার পূর্বাভাস
দক্ষিণবঙ্গ:
দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই অধিকাংশ স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলার এক-দু’টি স্থানে ভারী বৃষ্টি (৭–১১ সেমি) হতে পারে।
এছাড়া দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই এক-দু’টি স্থানে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ দমকা হাওয়া বইতে পারে। হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০–৪০ কিলোমিটার হতে পারে।
উত্তরবঙ্গ :
উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই অনেক স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি হতে পারে।
দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলার এক-দু’টি স্থানে ভারী বৃষ্টি (৭–১১ সেমি) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই এক-দু’টি স্থানে বজ্রবিদ্যুৎ ও ঘণ্টায় ৩০–৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া হতে পারে।
বৃষ্টির সময়কাল:
৪ সেপ্টেম্বরের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করে কোনও একটি সময়ে বৃষ্টি হবে—এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি। তাই সকাল, দুপুর, বিকেল বা রাত—যেকোনও সময় দফায় দফায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
কলকাতার ক্ষেত্রে এক-দু’টি দফায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
কেন এমন আবহাওয়া?
এর পিছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আবহাওয়াগত কারণ রয়েছে—
উত্তর-পূর্ব মধ্যপ্রদেশ ও সংলগ্ন এলাকায় একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ এলাকা রয়েছে। এটি পরবর্তী সময়ে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মৌসুমি অক্ষরেখা এই নিম্নচাপের কেন্দ্র থেকে ডাল্টনগঞ্জ, দীঘা হয়ে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে আর্দ্র দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রবাহ বজায় থাকছে।
পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের ওপর একটি উচ্চস্তরের ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। এর প্রভাবেও পশ্চিমবঙ্গের বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা ও অস্থিতিশীলতা বজায় থাকছে।
এই তিনটি পরিস্থিতির সম্মিলিত প্রভাবে ৪ সেপ্টেম্বর রাজ্যের বিভিন্ন অংশে দফায় দফায় বৃষ্টি, বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
সার্বিক চিত্র
দক্ষিণবঙ্গ: অধিকাংশ জায়গায় বৃষ্টি + পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া ও উত্তর ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা।
উত্তরবঙ্গ: অনেক জায়গায় বৃষ্টি + দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা।
বজ্রঝড়: রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ঘণ্টায় ৩০–৪০ কিমি বেগে দমকা হাওয়াসহ বজ্রপাত হতে পারে।
সতর্কতা
বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, জলাশয় বা গাছের নিচে থাকবেন না। ভারী বৃষ্টির সময় নিচু এলাকায় সাময়িক জল জমতে পারে। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টির সময় ভূমিধস ও পাহাড়ি ঝোরায় জল বাড়ার বিষয়ে সতর্ক থাকুন।
