জিরো পয়েন্ট নিউজ –অতনু ঘোষ, মেমারি, ১১ নভেম্বর ২০২৪ :
পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার অন্তর্গত শ্যামনগর গ্রামে শ্যামনগর তরুণ সংঘ ও গ্রামবাসীদের উদ্যোগে এবং এলাকাবাসীদের সহযোগিতায় শুরু হয় জগদ্ধাত্রী আরাধনা। জগদ্ধাত্রী পূজা মানেই হুগলির চন্দননগর কিংবা বৈঁচী। তাক লাগানো আলোক ও মন্ডপ সজ্জা দেখতে লাখো মানুষের সমাগম হয়।

কিন্তু চন্দননগর থেকে অনেকটা দূরে পূর্ব বর্ধমানের মেমারির শ্যামনগর গ্রামেও জগধাত্রী পুজো কে কেন্দ্র করে গ্রামবাসী ও এলাকাবাসীদের মধ্যে আনন্দ উদ্দীপনা থাকে তুঙ্গে। কোথাও কোথাও শুধুমাত্র নবমী থেকে পুজো শুরু হলেও, শ্যামনগর তরুণ সংঘের জগদ্ধাত্রী পুজো তার দিন ধরেই হয়ে আসছে থেকেই। সপ্তমী,অষ্টমী, নবমী ওদশমী।
পুজোর প্রথম দিন অর্থাৎ সপ্তমীর দিন থেকে দশমীর দিন পর্যন্ত প্রতিদিন মণ্ডপ প্রাঙ্গনে আয়োজন করা হয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের। বাড়ির যাবতীয় কাজ গুছিয়ে গ্রামের মহিলারা সন্ধ্যা হতেই হাজির হয় মন্ডপ প্রাঙ্গণে,বয়স্ক প্রবীণ প্রবীণারাও কার্তিকের সন্ধ্যায় হালকা শীতের আমেজ গায়ে নিয়ে বেশ তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করে সান্ধ্যকালীন অনুষ্ঠান।
শুধুমাত্র মহিলারা কেন? এক কথায় বলতে গেলে আট থেকে আশি কেউই বাদ যায়না। এবং সবচেয়ে বড় কথা যে এই সান্ধ্যকালীন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে সকল ধর্মের মানুষের সমাগম ঘটে শ্যামনগর বাড়োয়ারী তলায় জগদ্ধাত্রী মন্ডপ প্রাঙ্গনে। এক কথায় বলতে গেলে পূজোর এই চারদিন হিন্দু-মুসলিম সকলে মিলে আনন্দে মেতে থাকে এই জগধাত্রী পুজোয়। যেন সর্ব ধর্ম সমন্বয়ের এক মিলনক্ষেত্র হয়ে ওঠে শ্যামনগর বাড়োয়ারী তলা।
দশমীর দিন দুপুরে মায়ের খিচুড়ি ভোগ প্রসাদ বিতরণ করা হয়। গ্রামের পাশাপাশি আশেপাশে গ্রামের বহু মানুষ এই খিচুড়ি ভোগ প্রসাদ গ্রহণ করেন এবং প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার ভক্তের খিচুড়ি ভোগ প্রসাদের আয়োজন করা হয় পূজো উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে। এবং আগের দিন রাত থেকেই সবজি কাটার কাজে হাত লাগান গ্রামের মেয়েরা এবং ভোর রাত থেকেই শুরু হয়ে যায় রান্নার কাজ।
পুজো কমিটির সদস্য শান্তনু ঘোষ, সজল ঘোষ, সোমনাথ মালিকদের কোথায় জানা যায় যে গ্রামে জগদ্ধাত্রী পুজো হতো না, জগদ্ধাত্রী পুজো গ্রামের মানুষদের ছুটে যেতে হতো বৈঁচী কিংবা চন্দননগর, গ্রামের মহিলাদের পাশাপাশি ছোট কচিকাঁচারা এবং বয়স্ক বয়স্কারা সেই আনন্দ থেকে অনেকটাই দূরে থাকতো। এবং তার পরই গ্রামে জগধাত্রী পুজোর ভাবনা-চিন্তা শুরু হয় এবং গ্রামের একদল উঠতি যুবকের উদ্যোগে, যুবক বললে ভুল হবে কারণ আজ তারা যুবক,১১ বছর পিছিয়ে গেলে তারা এই সময় কিশোর, যাই হোক তারপর থেকেই শুরু হয় শ্যামনগর গ্রামে জগধাত্রী মায়ের আরাধনা।
গোটা গ্রাম এলইডি লাইট দিয়ে সজ্জিত করা হয় এবং এই আলোকসজ্জা চন্দননগর কিংবা বৈঁচি থেকে কোন অংশে কম নয় তা দেখে বোঝা যায়। এবছর দশমী সোমবার। মঙ্গলবার মায়ের বিসর্জন। প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও মঙ্গলবার দুপুর থেকে মাকে নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হবে মন্ডপ প্রাঙ্গণ থেকে। এবং গোটা গ্রাম প্রদক্ষিণ করে সন্ধ্যাবেলায় মায়ের ভাসান করা হবে ক্রেনের সাহায্যে। এবং প্রতিবছরই দেখা যায় যে এই শোভাযাত্রায় নারী পুরুষ নির্বিশেষে গ্রামের সকল বয়সের মানুষেরা অংশগ্রহণ করেন।






