জিরো পয়েন্ট নিউজ, আনোয়ার আলি আনসারী, ১৯ জুন, ২০২৬:
রাজ্যের ইতিহাস ও ঐতিহ্য স্মরণ করতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে পালিত হয় রাজ্য দিবস কিংবা আধুনিক ভাষায় রাজ্যের জন্মদিন পালিত হয়। এই দিনটি সাধারণত সেই তারিখকে স্মরণ করে যেদিন রাজ্যটি গঠিত হয়েছিল বা বর্তমান সাংবিধানিক স্বীকৃতি পেয়েছিল।
ভারতের স্বাধীনতার পর ১৯৪৯ সালের ৩০ মার্চ রাজস্থান গঠিত হয়। ১৯৫৬ সালের ১ নভেম্বর পুনর্গঠিত রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে মধ্য প্রদেশ। ১৯৫৬ সালে ১ নভেম্বর কন্নড় ভাষাভাষী অঞ্চল একত্রিত হয়ে কর্নাটক রাজ্য গঠিত হয়। ভাষাভিত্তিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে ১ নভেম্বর কেরল, অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্য গঠন হয়। ১৯৬০ সালে ১ মে বোম্বে রাজ্য ভেঙে মহারাষ্ট্র ও গুজরাট রাজ্য গঠিত হয়। ১৯৬৩ সালের ১ ডিসেম্বর নাগাল্যান্ড পৃথক রাজ্যের মর্যাদা লাভ করে। ১৯৬৬ সালে পাঞ্জাব থেকে পৃথক হয়ে ১ নভেম্বর হরিয়ানা ও পাঞ্জাব রাজ্য গঠিত হয়। ১৯৭২ সালের ২১ জানুয়ারি পূর্ণাঙ্গ রাজ্য হয় মেঘালয়, মনিপুর ও ত্রিপুরা। ১৯৭৫ সালের ১৬ মে ভারতের ২২তম রাজ্য হয় সিকিম। আবার ২০০০ সালের ১ নভেম্বর মধ্যপ্রদেশ থেকে পৃথক হয়ে রাজ্য হয় ছত্তিশগড়। ২০০০ সালের ৯ নভেম্বর উত্তরপ্রদেশ থেকে পৃথক হয় উত্তরাখন্ড। ২০০০ সালের ১৫ নভেম্বর বিহার থেকে পৃথক হয় ঝাড়খণ্ড। ২০১৪ সালে ২ জুন পৃথক রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে তেলেঙ্গানা।
‘পশ্চিমবঙ্গের জন্য’ নামক একটি সংগঠন ২০১৪ সালে ২০ জুন আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ দিবস বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে। তারপর বিজেপির উদ্বাস্তু সেল ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ নিয়মিত পালন করতে শুরু করে । ২০২o সালে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগ দেন রাজ্যর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালে রাজ্যের তৎকালীন বিরোধী দলনেতা তাঁর বিজেপি বিধায়কদের নিয়ে সদলে কলকাতা ময়দানে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তির পাদদেশে ২০ জুন দিনটি পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসাবে পালন করছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস ২০ জুন ২০২৩-এ রাজভবনে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করেছিলেন। কিন্তু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় “পশ্চিমবঙ্গ দিবস” হিসেবে এই দিনকে মানতে চাননি। সুতরাং বিজেপি ও রাজভবন দ্বারা পালিত পশ্চিমবঙ্গ দিবসের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে বিধানসভায় বাংলা দিবসের প্রস্তাব পেশ করা হয়েছিল।অনেক আলোচনার পর ২২ আগস্টে ভারতীয় বঙ্গাব্দ অনুযায়ী ১ বৈশাখ (১৫ এপ্রিল) তারিখ, অর্থাৎ ভারতীয় পয়লা বৈশাখ উদ্যাপনের দিনকে বাংলা দিবস হিসেবে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিলো।
২০২৬ সালে ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের পতন পর ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার ২০ জুন সরকারি ভাবে পশ্চিমবঙ্গ দিবস অর্থাৎ রাজ্যের জন্মদিন পালনের সরকারি নির্দেশ জারি করেছে। রাজ্য বিজেপির মতে ২০ জুন—পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এক গৌরবময় ও স্মরণীয় দিন। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দূরদর্শী নেতৃত্ব, অদম্য সংগ্রাম এবং ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলেই বাংলা আজ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় ধরে রাখতে পেরেছে।
কিন্তু কেন এই দিনটিকেই ভারতীয় জনতা পার্টি বেছে নিলো তার ইতিহাস, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট জানা প্রয়োজন। তার সাথে এটাও জানা দরকার ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কেই কেনো পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জন্মদাতা হিসাবে উল্লেখ করা হচ্ছে। এর বাস্তবতা কী? না শুধুই রাজনৈতিক প্রচার প্রসার।
বঙ্গভঙ্গ বাংলার ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯০৫ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের শাসনকর্তা লর্ড কার্জনের নির্দেশে প্রথম বঙ্গভঙ্গ সম্পন্ন হয়।বাংলা বিভক্ত করার ধারনাটি অবশ্য লর্ড কার্জন থেকে শুরু হয়নি। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামল ১৭৬৫ সাল থেকে বিহার ও ওড়িশা বাংলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফলে সরকারি প্রশাসনিক এলাকা হিসেবে বাংলা অতিরিক্ত বড় হয়ে যায় এবং ব্রিটিশ সরকারের পক্ষে এটির সুষ্ঠু শাসনক্রিয়া দুরূহ হয়ে পড়ে। বঙ্গভঙ্গের সূত্রপাত এখান থেকেই।কিন্তু ১৯১১ সালে প্রচণ্ড গণআন্দোলনের ফলশ্রুতিতে বঙ্গভঙ্গ রহিত হয়।
বঙ্গভঙ্গ এক প্রচণ্ড রাজনৈতিক অস্থিরতার সৃষ্টি করে। যারা ধর্মকেন্দ্রিক সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিপক্ষে ছিলেন তারা কেউই বঙ্গভঙ্গকে সমর্থন জানাননি। কেননা, বঙ্গভঙ্গের অন্যতম একটি কারণ ছিল ব্রিটিশ সরকারের Divide and Rule Policy, পরবর্তীতে যাতে তারা সফল হয়। ব্রিটিশ শাসনের শুরু থেকে তাদের বৈষম্যমূলক আচরণের ফলে মুসলমানরা ধীরে ধীরে সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রাধান্য হারাতে থাকে। তাছাড়া, স্মরণাতীতকাল থেকে পূর্ব বাংলায় মুসলমানদের ও পশ্চিম বাংলায় হিন্দুদের প্রাধান্য বিরাজমান ছিল। এজন্য ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের সামাজিক ও ধর্মীয় বিষয় বিবেচনা করে বঙ্গভঙ্গের জন্য উদ্যোগী হয়। পূর্ব বঙ্গের মুসলিমদের এই ধারণা হয় যে নতুন প্রদেশের ফলে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ইত্যাদি ক্ষেত্রে তাদের সুযোগ বেড়ে যাবে। একইসাথে, পশ্চিমবঙ্গের জনগণ এই বিভক্তি মেনে নিতে পারেনি এবং প্রচুর পরিমাণে জাতীয়তাবাদী লেখা এই সময় প্রকাশিত হয়।
দেশের স্বাধীনতার পূর্বে ১৯১২ সালের ২২ মার্চ তারিখটি অবিভক্ত বাংলার এবং সামগ্রিকভাবে ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনটিতেই ব্রিটিশ শাসক বাংলা প্রদেশ থেকে পৃথক করে বিহার ও ওড়িশা নামক নতুন একটি প্রদেশ গঠন করা হয়েছিল।
১৯৩৫ সালে তৎকালীন ভারত সরকার আইনের আওতায় বঙ্গীয় আইনসভা প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। যা ব্রিটিশ ভারতের বৃহত্তম আইনসভা ছিল, বাংলার বিধানসভার (বর্তমানে বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য) নিম্নকক্ষ হিসেবে এটি ব্যবহৃত হতো। প্রথম নির্বাচন ১৯৩৭ সালে হয়েছিল। কংগ্রেস দল একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল তবে আইনসভা বর্জনের নীতিমালার কারণে সরকার গঠন করতে অস্বীকার করেছিল। কৃষক প্রজা পার্টি এবং বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগ বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র বিধায়ক দ্বারা সমর্থিত, প্রথম সরকার গঠন করেছিল। এ কে ফজলুল হক প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৪৭ সালে বাংলার শেষ প্রধানমন্ত্রী এইচ এস সোহরাওয়ার্দী সমগ্র প্রদেশের জন্য একটি পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। শরৎচন্দ্র বসু অবিভক্ত বাংলার সমর্থক ছিলেন। দ্বিজাতি তত্ত্ব এর উপর ভিত্তি করে ভারতের বিভক্তির পরে এটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, এখানে ধর্মীয় বিষয়টিকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে। তখন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগ নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী একটি ভিত্তিগত পরিকল্পনা পেশ করেন যে, পূর্ব এবং পশ্চিম বাংলা ভারত কিংবা পাকিস্তানের অংশ হিসেবে না যুক্ত হয়ে বরং একটি স্বতন্ত্র রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন অবসানের প্রাক্কালে সোহ্রাওয়ার্দী সমগ্র বাংলা, আসাম ও বিহারের মানভূম, সিংভূম ও সম্ভবত পূণির্য়া জেলা সমন্বয়ে পূর্বভারতে বৃহৎ বাংলা নামে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করে ছিলেন। তবে পরিকল্পনাটি সরাসরি সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ বাতিল করে দেয়। প্রাথমিকভাবে, বাংলা প্রদেশের মুসলিমলীগ নেতারা দ্বিধা বিভক্ত ছিলেন। কিন্তু মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ সোহরাওয়ার্দীর প্রস্তাবের বৈধতা বুঝতে পেরে পরিকল্পনাকে পরোক্ষ সমর্থন দিয়েছিলেন। তবে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে গুটিকয়েক নেতাই এই পরিকল্পনার সাথে একমত ছিলেন। তাদের মাঝে ছিলেন বাংলা প্রদেশের প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতা এবং নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোসের বড় ভাই শরৎ চন্দ্র বোস এবং কিরণ শঙ্কর রায়। তবে, জওহরলাল নেহেরু এবং বললভভাই প্যাটেল সহ বেশিরভাগ নেতা এই পরিকল্পনা বাতিল করেন। এছাড়াও শ্যাম প্রসাদ মুখার্জীর নেতৃত্বাধীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল এর তীব্রভাবে বিরোধিতা করে। তাদের মতামত ছিলো যে, এই পরিকল্পনা আসলে বিভক্তিকরনের বিপক্ষে সোহরাওয়ার্দীর দ্বারা একটি চাল মাত্র যাতে কলকাতা শহর সহ শিল্পোন্নত পশ্চিম অংশের উপর লীগ নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে। তিনি মনে করতেন হিন্দু সংখ্যালঘুদের চিরতরে মুসলিম সংখ্যাগুরুদের দয়ার উপর চলতে হবে। যদিও কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া পরিকল্পিত প্রস্তাবটি আলোর মুখ দেখা সম্ভব ছিলো না। পরে শরৎচন্দ্র বোস সোহরাওয়ার্দীর পরিকল্পনাকে সমর্থন করেননি।
এদিকে ১৯৪৬ সালে বিশেষ করে কলকাতায় এবং নোয়াখালী দাঙ্গার ডাইরেক্ট এ্যাকশন ডে -এর পর হিন্দু মহাসভা প্রধান শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বাঙালি হিন্দু স্বদেশ আন্দোলন হল বাংলা ভাগের জন্য বাঙালি হিন্দু জনগণের আন্দোলন।
১৯৪৭ সালের ২০ জুন, বঙ্গীয় আইন পরিষদের বঙ্গ প্রদেশের ভবিষ্যত নির্ধারণের জন্য মিলিত হয় যেখানে ভারত বা পাকিস্তানের মধ্যে সংযুক্ত বাংলা বা পূর্ব বাংলা এবং পশ্চিমবঙ্গে বিভক্ত যথাক্রমে বাঙালি মুসলমান এবং বাঙালি হিন্দুদের আবাসস্থল হিসাবে গঠনের প্রস্তাব হয়। প্রাথমিক যৌথ অধিবেশনে, পরিষদ ১২০-৯০ দ্বারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে যদি বঙ্গ পাকিস্তানের নতুন গণপরিষদে যোগ দেয় তবে এটি ঐক্যবদ্ধ বা অবিভক্ত থাকবে। পরে, পশ্চিমবঙ্গের আইনপ্রণেতাদের একটি পৃথক বৈঠকে ৫৮-২১ ভোটে সিদ্ধান্ত নেয় যে প্রদেশটি বিভক্ত করা উচিত এবং পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের বিদ্যমান গণপরিষদে যোগদান করা উচিত। পূর্ব বাংলার আইনপ্রণেতাদের আরেকটি পৃথক সভায় ১০৬-৩৫ ভোটে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে প্রদেশটি বিভক্ত করা উচিত নয় এবং ১০৭-৩৪ ভোট দেশভাগের ক্ষেত্রে পূর্ব বাংলা পাকিস্তানে যোগ দেবে।
১৯৪৭ সালে বঙ্গভঙ্গ ভারত বিভাজনের একটি অংশ হিসেবে ধর্মের উপর ভিত্তি করে ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত বঙ্গ প্রদেশ ভারত এবং পাকিস্তানের অংশ হিসেবে বিভক্ত হয়। প্রধানত হিন্দু অধ্যুষিত পশ্চিমবঙ্গ ভারত এবং মুসলিম অধ্যুষিত পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হয়।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের আইনপ্রণেতাদের পৃথক বৈঠকে ৫৮-২১ ভোটের মধ্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় একজন ছিলেন। আর তাঁকে বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জনক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। কিন্ত শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছাড়া বাকি ৫৭ জন কে কে পক্ষে ছিলেন? সেটাও জানা দরকার পশ্চিমবঙ্গবাসীর।
তথ্য অনুসারে জানা যায়, বাকিরা হলেন- গোবিন্দলাল ব্যানার্জী, প্রমথনাথ ব্যানার্জী, শিবনাথ ব্যানার্জী, সুশীল কুমার ব্যানার্জী, সুরেশ চন্দ্র ব্যানার্জী, মোহিনী মোহন বর্মন, হেমন্ত কুমার বসু, জ্যোতি বসু, চারু চন্দ্র ভাণ্ডারী, সতীশ চন্দ্র বোস, রতনলাল ব্রাহ্মণ, মিহির লাল চট্টোপাধ্যায়, অন্নদা প্রসাদ চৌধুরী, মিস বীণা দাস, রাধা নাথ দাস, স্যার উদয় চাঁদ মহতাব, নিকুঞ্জ বিহারী মাইতি, বিষাপতি মাঝি, ভূপতি মজুমদার, ঈশ্বরচন্দ্র মাল, আশুতোষ মল্লিক, অন্নদা প্রসাদ মণ্ডল, বাঁকুবিহারী মণ্ডল, কৃষ্ণ প্রসাদ মণ্ডল, ধীরেন্দ্র নারায়ণ মুখার্জী, কালীপদ মুখার্জী, মুকুন্দ বিহারী মল্লিক, বাসন্তীলাল মোরারকা, খগেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত, কানাইলাল দাস, কানাই লাল দে, হরেন্দ্রনাথ দলুই, সুকুমার দত্ত, নিহারেন্দু দত্ত-মজুমদার, বিপিন বিহারী গাঙ্গুলী, অরবিন্দ গায়েন, এ. কে. ঘোষ, বিমল কুমার ঘোষ, ডি. গোমেজ, ডম্বর সিং গুরুং, ঈশ্বর দাস জালান, দেবী প্রসাদ খৈতান, চারু চন্দ্র মহান্তি, অর্ধেন্দু শেখর নস্কর, হেম চন্দ্র নস্কর, যাদবেন্দ্র নাথ পাঁজা, এল. আর. পেন্টোনি, আর. ই. প্ল্যাটেল, আনন্দীলাল পোদ্দার, রজনী কান্ত প্রামাণিক, কমল কৃষ্ণ রায়, যোগ্নেশ্বর রায়, মিসেস ই. এম. রিকেটস, রাজেন্দ্র নাথ সরকার, দেবেন্দ্র নাথ সেন, বিমল চন্দ্র সিনহা, জি. সি. ডি. উইলকস। বিপক্ষে ছিলেন ২১ জন তাঁরা হলেন -আব্দুল আহাদ, এ. এফ. এম. আব্দুর রহমান, আব্দুস সবুর খান, আবুল হাশেম, হুসন আরা বেগম, ইলিয়াস আলী মোল্লা, এম. এ. এইচ. ইস্পাহানি, জসিমউদ্দীন আহমেদ, মোহাম্মদ শরীফ খান, মোজাম্মেল হোসেন, মুহাম্মদ ইদ্রিস, মুহাম্মদ কমরুদ্দিন, মুহাম্মদ রফিক, সৈয়দ মুহাম্মদ সিদ্দিক, মোশাররফ হোসেন, কে. নুরুদ্দিন, সিরাজুদ্দিন আহমেদ, এইচ. এস. সোহরাওয়ার্দী, এ. এম. এ. জামান।
স্বাভাবিক ভাবেই বঙ্গীয় আইন পরিষদের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জন্মের বিপক্ষে ২১ জন প্রতিনিধি ছিলেন অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ ও কৃষক প্রজা পার্টির। আর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জন্মের পক্ষে ৫৮ জন প্রতিনিধিদের মধ্যে বেশিরভাগ ছিলো ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের। এটি ছিল আইন পরিষদের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল এবং প্রধান বিরোধী দল। হিন্দু বা সাধারণ আসনগুলোর বেশিরভাগই ছিল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে। এই দলের অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন শরৎচন্দ্র বসু এবং কিরণ শঙ্কর রায়। আইন পরিষদে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি বামপন্থী দলটিরও প্রতিনিধিত্ব ছিল। অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। হিন্দু মহাসভার একমাত্র প্রতিনিধি ছিলো ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। এছাড়াও ইউরোপীয় গ্রুপ, অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান ও ভারতীয় খ্রিস্টান প্রতিনিধি, তফসিলি জাতি দল, স্বতন্ত্র হিন্দু-মুসলিম সদস্যবৃন্দ।
তাহলে পরিশেষে বলা যেতে পারে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অথবা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জন্মদাতা হিসাবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছাড়াও কংগ্রেস নেতা ও বামপন্থী নেতাদেরও গুরুত্ব কোনো অংশে কম নয়।
তথ্যসূত্র : ইন্টারনেট, বিধানসভা ডিজিটাল লাইব্রেরি বুক, উইকপেডিয়া
