26/02/2026 : 9:55 AM
আমার বাংলাদক্ষিণ বঙ্গপূর্ব বর্ধমানমঙ্গলকোট

মঙ্গলকোটে শ্রীরামচন্দ্রের পুজোঃ লকডাউনে পুলিশ ও গ্রামবাসীর সমন্বয়ের অনন্য নজির

জিরো পয়েন্ট নিউজ – পরাগ জ্যোতি ঘোষ, গুসকরা, ৬ অগস্ট ২০২০:


গতকাল অযোধ্যায় রাম মন্দিরের ভূমি পূজা উপলক্ষে মঙ্গলকোটের চানকে শ্রীরামচন্দ্রের পুজোর আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই গ্রামের মানুষজন সম্মানজনক দূরত্ববিধি মেনে ৪ থেকে ৫ জন সেখানে পুজোর প্রস্তুতি চালাচ্ছিলেন। হঠাৎ সেখানে হাজির হয় মঙ্গলকোট থানার পুলিশ। গতকাল যেহেতু রাজ্যে সম্পূর্ণ লকডাউন ছিল তাই মঙ্গলকোট থানার পুলিশের বক্তব্য ছিল এদিন প্রকাশ্যে জমায়েত করে কোন পুজো করা যাবে না। পুলিশ জানায়, তারা আগামী কাল ,পরশু যে কোনদিন পুজো করতে পারেন। কিন্তু এদিন যেহেতু সরকারিভাবে লকডাউন ঘোষণা করা আছে তাই তারা কোথাও পুজোর অনুমতি দিতে পারেন না। কারণ জমায়াতের আশঙ্কা আছে।

কিন্তু উপস্থিত মানুষজন পুলিশের কথা তীব্র বিরোধিতা করেন। তারা বলেন তারা লকডাউন সব কিছু নিয়ম মেনে এই পুজো চালাচ্ছেন। তারা কোন জমায়েত করেননি। যেহেতু বর্ষার দিন তাই তারা বিগ্রহের মাথায় ট্রিপল খাটিয়েছেন। কারণ যে কোন মুহূর্তে বৃষ্টি এলে ভগবান শ্রীরামচন্দ্র ভিজে যাবেন এবং পুজো পদ্ধতিতেও ব্যাঘাত হবে। পরে পুলিশ জানায়  কোনো রকম মাইক ব্যবহার করা যাবে না এবং এভাবে জাঁকজমকভাবে পুজো করা যাবেনা এই লক ডাউনে। অবশেষে তাদের কথা মেনে তারা মাইক খুলে দিচ্ছেন ঠিকই কিন্তু বিগ্রহের উপরে চাঁদোয়াটি তারা খুলতে পারেন না। কারণ এতে ভগবানের অবমাননা করা হয়। কখনোই ঈশ্বরের মাথায় বৃষ্টির জল পড়তে পারেনা। তারা এই অভিযোগ তোলেন যে পুলিশ অন্য কোথাও লকডাউন অমান্যকারীদের ধরপাকড় করছেন না অথচ তাদেরকে অহেতুক হয়রানি করছেন ।

এর পরই পুলিশ এখান থেকে চলে যায় এবং পরবর্তীকালে মঙ্গলকোট থানা থেকে ছোট বাবু এসে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং সকলকে অনুরোধ করেন যেহেতু লকডাউন চলছে তাই কোন রকম জমায়েত তারা করতে দিতে পারেননা। জমায়েত না করে যেটুকু সম্ভব হয় সেভাবেই পূজা পদ্ধতি সমাধান করতে পারে। মানুষজন সেটি মেনে নেন এবং তারা মাইক খুলে দেন এবং পূজাপদ্ধতি সম্পন্ন করেন। বিকেলের দিকে বড়বাবু আসেন এবং সকলকেই শান্তিপূর্ণ ভাবে পূজাপদ্ধতি করার জন্য অনুরোধ করেন লকডাউন এর নিয়ম কানুন মেনে। পুরো বিষয়টি সন্ধ্যার দিকে ডিআইবি সাহেব নিজে পর্যবেক্ষণ করেন এবং খুব শান্তিপূর্ণভাবেই শ্রীরামচন্দ্রের পুজো সুসম্পন্ন হয়।

স্থানীয় এক মানুষ বলেন এক নাম, এক রাম। তাই জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলেরই আরাধ্য দেবতা তিনি। সকলের মধ্যে সংহতি স্থাপনই তাদের উদ্দেশ্য। অহেতুক কোন অশান্তি কেউই চান না। তাই এলাকায় যাতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে সংহতি বজায় রেখে চলা যায় সেই চেষ্টাই করতে হবে সকলকে।

Related posts

দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে বস্ত্রবিতরণ বর্ধমানে

E Zero Point

বর্ধমান শহরকে যান জট মুক্ত করতে প্রাচীন দুই বাজার সরানোর সিদ্ধান্ত

E Zero Point

পশ্চিম বর্ধমানে সোমবার থেকে বাস চলবে

E Zero Point

মতামত দিন