জিরো পয়েন্ট নিউজ ডেস্ক, ২৩ এপ্রিল ২০২১:
জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মুখে লাগাম পরাতে একমত হয়েছেন বিশ্বনেতারা। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণের হার অর্ধেকে নামিয়ে একমত হয়েছেন তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র আয়োজিত দুই দিনের জলবায়ুবিষয়ক ভার্চুয়াল সম্মেলনের শুরুতে এ লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা আসে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইউশিহিদে সুগাসহ ৪০টি দেশের নেতারা যোগ দিয়েছিলেন ওই ভার্চুয়াল সম্মেলনে।
সম্মেলনের শুরুতে বাইডেন তার দেশে কার্বন নির্গমন ২০৩০ সালের মধ্যে অর্ধেক কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর ২০৫০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক খাতকেও কার্বনমুক্ত করার বৃহত্তর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বাইডেন। সেদিক থেকেও তার ঘোষিত নতুন লক্ষ্যমাত্রা একটি মাইলফলক।
সিএনএন বলছে, নতুন এই লক্ষ্যমাত্রা বিশ্বে বেশি কার্বন নিগর্মনকারী অন্য দেশগুলোকেও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিতে উৎসাহিত করবে বলে যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কার্বন নির্গমন কমানোর আন্তর্জাতিক চেষ্টা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার পর বিশ্ব উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশ্বের নেতৃত্ব দেওয়ার জায়গাটি ফিরে পাওয়ার চেষ্টায় আছে যুক্তরাষ্ট্র।
সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে বাইডেন বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার মূল্য বেড়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র আর বসে নেই। আমরা ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিচ্ছি।’
এ বছরের শেষে গ্লাসগোতে জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। বাইডেন বলেন, ‘গ্লাসগোর সম্মেলন এবং এখনকার সম্মেলনের মাঝে দেশগুলো যে পদক্ষেপ নেবে তা আমাদের বিশ্বকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নেবে।’
জলবায়ু পরিবর্তন রোধের লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র আবার সামনের সারিতে ফিরে আসার জন্য বাইডেনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।
একই সঙ্গে বাইডেন গ্রিনহাউজ গ্যাস অর্ধেকে নামিয়ে আনার যে ঘোষণা দিয়েছেন তাও গেম-চেঞ্জিং বলে প্রশংসা করেছেন তিনি। জনসন বলেন, ‘যুক্তরাজ্যও একই কাজ করছে। আর বিশ্বজুড়েই আমরা একযোগে এ কাজ করে যেতে পারি।’ সম্মেলনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। তিনি বলেন, আমাদেরকে মানুষ এবং প্রকৃতির মধ্যে সখ্য রাখায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতেই হবে।
চীন এর আগে ২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষ হওয়া এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানির পথে হাঁটার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সে কথাই সম্মেলনে আবার বলেন শি। চীন যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় আছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন বলেছেন, ‘জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বাইডেন-হ্যারিসের প্রশাসন ইতিহাসে অন্য সবার চেয়ে বেশি কাজ করবে। এটি ইতিমধ্যে আমাদের সরকারের এবং আমাদের দেশজুড়ে একটি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা। আমরা আজ যে সিদ্ধান্ত নেব তার ওপর নির্ভর করছে আমাদের ভবিষ্যৎ।’
এ সময়ের মধ্যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নও কার্বন নিঃসরণ ৫৫ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। কিন্তু আদৌ কি সম্ভব এ মাইলফলক অর্জন করা, যা পৃথিবীকে বাঁচানোর জন্য খুবই জরুরি? ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, শুধু পরিকল্পনা বা প্রতিশ্রুতি নয়, সঠিক কর্ম-উদ্যোগ ও তা বাস্তবায়নই মূল।










