জিরো পয়েন্ট নিউজ, বিশেষ প্রতিবেদন, ২০ জুন ২০২৫ :
ডক্টর রমলা মুখার্জী
প্রত্যেক প্রদেশের মতনই পশ্চিমবঙ্গের একটি নির্দিষ্ট দিবস প্রয়োজন। কারণ এই পশ্চিমবঙ্গ দিবসই হল পশ্চিমবঙ্গের আত্মপরিচয়।
পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অন্যতম সমৃদ্ধ একটি রাজ্য। এই রাজ্যটি একদিকে যেমন স্বাধীনতা সংগ্রামে গৌরবময় তেমনি অপরদিকে সাহিত্য, শিল্প, সংগীত, বিজ্ঞান ইত্যাদি নানা দিকেও অগ্রণী। সেই কারণেই পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন সমগ্র পশ্চিমবঙ্গবাসীর কাছে অতি প্রয়োজন। পশ্চিমবঙ্গ দিবস কেবল একটি প্রশাসনিক দিবস নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয়, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং ইতিহাসকে স্মরণ করার দিন। এই দিনটি উদযাপনের মাধ্যমে আমরা স্মরণ করব যে পশ্চিমবঙ্গের পরিচয় শুধুমাত্র তার ভৌগোলিক সীমানা দিয়ে মাপা যায় না, তার ভাষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, বিজ্ঞান, মূল্যবোধ ইত্যাদির মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের আসল সত্তা নিহিত আছে।
নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনার মধ্যে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ একটি স্বতন্ত্র রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পশ্চিমবঙ্গ দিবস স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নানা ত্যাগ ও লড়াইয়ের প্রতীক। তাই পশ্চিমবঙ্গ দিবসে আমরা সমস্ত স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সম্মান জানাবো।
পশ্চিমবঙ্গের ভাষা হলো বাংলা ভাষা। এই সমৃদ্ধশীল, ঐতিহ্যময় ভাষাকে কেন্দ্র করেই আমরা পেয়েছি রবীন্দ্রনাথ, নজরুল , শরৎচন্দ্র, বঙ্কিমচন্দ্র, জীবনানন্দ, তারাশঙ্কর মতো অসংখ্য বিখ্যাত সাহিত্যিকদের। তাঁদের সাহিত্যকর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেবার দিন হল পশ্চিমবঙ্গ দিবস। শুধু সাংস্কৃতিক বা সাহিত্যেই নয় শিক্ষাকেও তার পাশাপাশি প্রসার এবং প্রচার করার দিন হল পশ্চিমবঙ্গ দিবস। বিজ্ঞানকে আরও বেশি আধুনিক করে প্রয়োগ করার দিন হলো পশ্চিমবঙ্গ দিবস। এই দিন সমগ্র পশ্চিমবঙ্গবাসীর শপথ নেবার দিন। আমরা সম্মিলিতভাবে এই শপথ নিই, “আমরা সবাই মিলেমিশে হাত ধরাধরি করে বাস করব, সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ মুছে, হিংসা হানাহানি ভুলে পশ্চিমবঙ্গকে শ্রেষ্ঠ স্থানে এগিয়ে নিয়ে যাব। সমস্ত রকম উৎসব আমরা একসঙ্গে সমবেতভাবে পালন করব। কোন ধর্মকে আঘাত না করে উৎসব প্রিয় বাঙালি সমস্ত ধর্মের উৎসব উদারতার সঙ্গে, আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করবো।” নদীমাতৃক পশ্চিমবঙ্গে কৃষিজ সম্পদ বৃদ্ধির চেষ্টাই হবে আমাদের পশ্চিমবঙ্গকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মূল লক্ষ্য আর সেখানেই পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের সার্থকতা। সবাই যদি সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করি অবশ্যই আমরা সাহিত্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, কৃষি, বিজ্ঞান সবকিছুতেই চরম উৎকর্ষতায় পৌঁছে পশ্চিমবঙ্গকে শ্রেষ্ঠ আসনে বসাতে পারবো, আর তবেই সার্থক হবে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন। সে উদযাপন যে তারিখেই হোক না কেন তার মূল উদ্দেশ্য হলো পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক উন্নয়ন এবং পুরানো ইতিহাসকে স্মরণ করে সম্মানীয় ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদন।
