29/09/2022 : 4:48 PM
BREAKING NEWS
আমার দেশব্যবসা বণিজ্য

১২৫তম সিআইআই-এর বার্ষিক সভায় উদ্বোধনী ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

প্রধানমন্ত্রী  নরেন্দ্র মোদী আজ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বণিকসভা ভারতীয় শিল্প মহাসঙ্ঘের ১২৫তম বার্ষিক সভায় উদ্বোধনী ভাষণ দেন। এ বছরের বার্ষিক সভার মূল বিষয় নতুন এক বিশ্বের জন্য ভারতকে উপযুক্ত করে গড়ে তোলা : জীবন, জীবন-জীবিকা এবং বিকাশ।

এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, করোনার কারণে এ ধরনের অনলাইন অনুষ্ঠান অত্যন্ত স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। মানুষের কাছে এ এক বড় শক্তি, যা প্রতিটি জটিল সময়ে ভবিষ্যৎ পন্থা খুঁজে বের করতে সাহায্য করে। তিনি বলেন, একদিকে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং দেশবাসীর জীবন বাঁচাতে হবে। অন্যদিকে, অর্থ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল এবং গতিময় করে তুলতে হবে।

এ বছরের বার্ষিক সভার মূল বিষয়ের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী  উন্নয়নে গতি আনতে আলোচনা শুরু করার জন্য ভারতীয় শিল্প সংস্থাগুলির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, শিল্প সংস্থাগুলিকে প্রচলিত ধ্যান-ধারণার বাইরে গিয়ে অবশ্যই বিকাশের গতি  জোরদার করার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করতে হবে। তিনি বলেন, ভারতের সক্ষমতা ও সঙ্কট মোকাবিলার ক্ষেত্রে তাঁর যে আস্থা রয়েছে, তা ভারতের মেধা ও প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তাই, স্বাভাবিকভাবে শিল্পোদ্যোগীরা দেশের অগ্রগতি বজায় রাখতে যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা তাঁকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা আর্থিক গতিকে মন্থর করে তুললেও এখন সবচেয়ে বড় বিষয় হ’ল – ভারত লকডাউন পর্ব পেরিয়ে আনলক ফেজ-১ এ প্রবেশ করেছে। এই আনলক ফেজ-১ আর্থিক কর্মকান্ডের একটি বড় অংশকে পুনরায় কাজকর্ম  চালুর জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এমনকি, ৮ই জুনের পর আরও অনেক কিছুই পুনরায় শুরু হতে চলেছে। তাই বলা যায়, অগ্রগতির পথে সওয়ার হওয়ার প্রচেষ্টা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, করোনা ভাইরাস যখন বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছিল, তখন ভারত ঠিক সেই সময় সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছিল। ‘আজ আমরা উপলব্ধি করতে পারছি, ভারতে লকডাউনের  প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী’। তিনি আরও বলেন, করোনার বিরুদ্ধে অর্থ ব্যবস্থাকে পুনরায় সুদৃঢ় করা এখন আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এজন্য সরকার এমন একাধিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা অবিলম্বে কার্যকর করা প্রয়োজন এবং দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে তার প্রভাব স্থিতিশীল করা জরুরি।

জটিল এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের সাহায্যার্থে গৃহীত পদক্ষেপগুলির কথা উল্লেখ করে  মোদী বলেন, দরিদ্র মানুষের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ যোজনা বড় ভূমিকা পালন করছে। এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৭৪ কোটি উপভোক্তাকে বিনামূল্যে রেশন বিলি করা হয়েছে। এমনকি, প্রবাসী শ্রমিকদেরও বিনামূল্যে রেশন দেওয়া হচ্ছে। মহিলা, ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তি, বয়স্ক ব্যক্তি, শ্রমিক শ্রেণী – সমাজের প্রত্যেকেই এই কর্মসূচি থেকে লাভবান হয়েছেন। লকডাউনের সময় সরকার সম্পূর্ণ নিখরচায় দরিদ্র মানুষকে ৮ কোটিরও বেশি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করেছে। এমনকি, বেসরকারি সংস্থার ৫০ লক্ষ কর্মী তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ইপিএফ বাবদ ২৪ শতাংশ হারে সরকারি অনুদান পেয়েছেন, যার মোট পরিমাণ ৮০০ কোটি টাকা।

প্রধানমন্ত্রী আত্মনির্ভর ভারত গঠন এবং দেশকে দ্রুত উন্নয়নের পথে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে ৫টি বিষয়ের কথা উল্লেখ করেন। এগুলি হ’ল – সদিচ্ছা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তিকরণ, বিনিয়োগ, পরিকাঠামো এবং উদ্ভাবন। এই ৫টি বিষয়ের কথাই সরকারের সদ্য ঘোষিত সাহসী সিদ্ধান্তগুলিতে প্রতিফলিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের কাছে সংস্কার-সাধন কোনও অপ্রত্যাশিত বা অযাচিত সিদ্ধান্ত নয়। বরং, সংস্কার হ’ল আমাদের কাছে এক ধারাবাহিক, পরিকল্পিত, সুসংবদ্ধ, আন্তঃসংযুক্ত এবং ভবিষ্যৎমুখী প্রক্রিয়া। আমাদের কাছে সংস্কারের অর্থ হ’ল সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহসীকতা এবং প্রত্যেকটি সিদ্ধান্তের যুক্তিসঙ্গত সমাধানে পৌঁছনো।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এমন কিছু ক্ষেত্রে নীতিগত সংস্কার-সাধন করছে, যেগুলির ব্যাপারে দেশবাসী আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর কৃষি ক্ষেত্রে যে সমস্ত নীতি-নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছিল তা, পক্ষান্তরে কৃষকদেরকে মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। কৃষি উৎপাদন বিপণন কমিটিতে সংস্কারের পর এখন কৃষকরা দেশের যে কোনও রাজ্যে নিজের পছন্দ মতো এলাকায় উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে পারেন।

নরেন্দ্র মোদী আরও বলেন, শ্রমিক কল্যাণের বিষয়টিকে বিবেচনায় রেখে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে শ্রম ক্ষেত্রে সংস্কার করা হচ্ছে। নন-স্ট্র্যাটেজিক সেক্টর, যেখানে বেসরকারি সংস্থাগুলির সামিল হওয়ার অনুমতি ছিল না, এখন তা সকলের জন্যই খুলে দেওয়া হয়েছে। কয়লা ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক খননে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে সরকার খনি ক্ষেত্র, শক্তি ক্ষেত্র, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্র, শিল্প ক্ষেত্র প্রতিটি ক্ষেত্রেই নতুন নতুন সুযোগ-সুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে। এর সুফল পাচ্ছেন যুবসম্প্রদায়। এখন দেশের স্ট্র্যাটেজিক ক্ষেত্রেও বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ বাস্তব রূপ পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ক্ষেত্র আমাদের দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। এই ক্ষেত্রটির জিডিপি-তে অবদান ৩০ শতাংশ। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলির শিল্প সংক্রান্ত সংজ্ঞায় সংশোধনের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করা হয়েছে। এর ফলে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি সংস্থাগুলির বিকাশ আরও ত্বরান্বিত হবে এবং নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখাও সম্ভব হবে। এমনকি, ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত সরকারি সংগ্রহের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বরাতের ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে, যাতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলি সরকারি এই সুবিধা নিতে পারে।

ভারতের কাছ থেকে বিশ্বের প্রত্যাশা বাড়ছে বলে অভিমত প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন সারা  বিশ্বের আরও বেশী আস্থা ভারতের ওপর। ভারত ১৫০টির বেশি দেশকে চিকিৎসা সংক্রান্ত সামগ্রী সরবরাহ করেছে। সমগ্র বিশ্ব এখন একজন বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার চাইছে। তাই, ভারতের সেই সম্ভাবনা, শক্তি ও সক্ষমতা রয়েছে। তিনি শিল্প সংস্থাগুলিকে ভারতের প্রতি অবশিষ্ট বিশ্বের যে আস্থার মনোভাব গড়ে উঠেছে, তার সুফল গ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, পুনরায় অগ্রতির পথে ফিরে আসা খুব একটা জটিল ব্যাপার নয়। এখন বড় বিষয় হ’ল – ভারতীয় শিল্প সংস্থাগুলির কাছে একটি সুস্পষ্ট বার্তা রয়েছে, যা হ’ল আত্মনির্ভর ভারত। তিনি আত্মনির্ভর ভারত প্রসঙ্গে বলেন, আমরা আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবো এবং অবশিষ্ট বিশ্বকে আলিঙ্গণ করবো। আত্মনির্ভর ভারত হ’ল বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে পূর্ণ অংশগ্রহণ এবং সমর্থন।

প্রধানমন্ত্রী এক মজবুত স্থানীয় সরবরাহ-শৃঙ্খল গড়ে তুলতে বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জর দিয়ে বলেন, যা ভারতকে বিশ্ব সরবরাহ-শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত করবে। তিনি সিআইআই – এর মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলিকে করোনা পরবর্তী সময়ে নতুন ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে ভারতকে আত্মনির্ভর করে তোলার জন্য আরও উদ্যোগী হতে আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশে তৈরি পণ্য সামগ্রীগুলিকে গুণমানের দিক থেকে বিশ্বের উপযোগী করে তুলতে হবে। তিনি শিল্প সংস্থাগুলিকে সমস্ত ক্ষেত্রেই উৎপাদনশীলতা বাড়াতে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করার পরামর্শ দেন।

প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষকদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলে বিনিয়োগের সুবিধা গ্রহণের আহ্বান জানান। এখন গ্রামগুলির কাছেই স্থানীয় কৃষি পণ্যের ক্লাস্টার গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। দেশের অগ্রগতির যাত্রাপথে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে অংশীদার হিসাবে সরকার গণ্য করে থাকে। তিনি শিল্প সংস্থাগুলিকে আশ্বস্ত করে বলেন, আত্মনির্ভর ভারত অভিযানের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকটি বিষয়ে চাহিদা মেটানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শ্রী মোদী দেশকে স্বনির্ভর করে তোলার জন্য শিল্প সংস্থাগুলিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলার সংকল্প পূরণে শিল্প সংস্থাগুলিকে তাঁদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করতে হবে।

Related posts

অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি গুলিকে কর্পোরেটাইজেশন করার উদ্যোগ

E Zero Point

দেশে ইস্পাতের ব্যবহার বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা

E Zero Point

জল জীবন মিশনে গবেষণা এবং উন্নয়নে উৎসাহদান

E Zero Point

মতামত দিন