29/09/2022 : 2:01 PM
BREAKING NEWS
আমার দেশ

কেরলে গর্ভবতী হাতি খুনে তীব্র প্রতিক্রিয়া নেট দুনিয়ায়

বিশেষ প্রতিবেদনঃ কেরলে লোকালয়ে চলে আসা একটি গর্ভবতী হাতিকে বাজি ভরা আনারস খাইয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর কেরালার মালাপ্পুরম জেলায়। বনকর্মীরা জানিয়েছেন, হাতিটি খাবারে সন্ধানে বন থেকে লোকালয়ে চলে আসে। সেখানেই ওই হাতিটিকে বাজি-বারুদে ঠাসা একটি আনারস খাইয়ে দেওয়া হয়। আর আনারস খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাতিটির মুখের মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটে। ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় মুখ ও জিভ। অসহ্য যন্ত্রণা এবং খিদে নিয়ে সারা গ্রাম হেঁটে বেড়ায় সে। কিন্তু কোনও বাড়ি বা মানুষের ছিটেফোঁটাও ক্ষতি করেনি সে। নিজের চেষ্টাতেই খুঁজতে-খুঁজতে হাতিটি পৌঁছে যায় ভেলিয়ার নদী পর্যন্ত। জলের খোঁজ পেয়েই সে চুপচাপ দাঁড়িয়ে পড়ে নদীর মাঝে। আর সেই দাঁড়িয়ে থেকেই মৃত্যু হয় তার।

বন্য কর্মী কৃষ্ণন জানিয়েছেন, অন্য দুটি কুনকি হাতি দিয়ে নদী থেকে এই হাতিটিকে তোলার চেষ্টা হলেও সে কোনও সাড়াশব্দ দেয়নি। কৃষ্ণন বলছেন, ‘আমার মনে হয় ওর ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় কাজ করছিল। মৃত্যু আসন্ন ভেবেই সে আমাদের কিছু করতে দেয়নি।’ নদীতে দাঁড়িয়েই শেষ নিঃশ্বাস নেয় সে। মৃত্যুর পর তার দেহ ট্রাকে করে জঙ্গলে নিয়ে যান বনবিভাগের কর্মীরা, সেখানেই দাহ করেন তাকে। কৃষ্ণনের কথায়, ‘ডাক্তার ময়নাতদন্ত করে জানান, খুব তাড়াতাড়ি এক সন্তানের জন্ম দিত ও। মরার সময় কী যে কষ্ট হচ্ছিল ওর। মাথা নত করে ওর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলাম আমরা।’ হাতিটিকে জঙ্গলের মধ্যেই সমাধিস্থ করা হয়েছে।

এই বীভৎস ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। হাজারে হাজারে মানুষ দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। টুইটারে পশুর বিরুদ্ধে এমন নিষ্ঠুর জঘন্য কাজের প্রতিবাদে একের পর এক স্কেচ এবং ছবি শেয়ার করেছেন মানুষএকজন টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন, “সাক্ষরতার হার শিক্ষার প্রতিফলন ঘটায় না।”

বিজেপি নেতা তথা পশু অধিকার কর্মী মানেকা গান্ধী  জানিয়েছেন, মালাপ্পুরমে গর্ভবতী হাতিকে নৃশংসভাবে মেরে দেওয়ার পরও কেরল সরকার কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। মানেকা গান্ধী জানান, ভারতের মধ্যে সবচেয়ে হিংসাত্মক জেলা হল মালাপ্পুরম। কেরলে প্রত্যেক তিনদিন অন্তর হাতিদের হত্যা করা হয়। তিনি বলেন, ‘‌এটা খুন, মাললাপ্পুরম এ ধরনের ঘটনার জন্য বিখ্যাত। এটা ভারতের সবচেয়ে হিংসাত্মক জেলা। এখানকার বাসিন্দারা এতটাই নিষ্ঠুর যে তারা রাস্তায় বিষ ছড়িয়ে রাখে যাতে ৩০০-৪০০ পাখি ও রাস্তার কুকুর তা খেয়ে মারা যায়।’‌ মানেকা বলেন, ‘মালাপ্পুরমের ঘটনার বিরুদ্ধে ‌কেরল সরকার কোনও পদক্ষেপ করেনি, মনে হচ্ছে তারা ভয় পেয়েছে।  ভারতে ২০ হাজারেরও কম হাতি রয়েছে এবং তারা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।’‌হাতি মৃত্যুর এই ঘটনার প্রতিবাদে অগ্রণী ভূমিকা নিলেন পশুপ্রেমী মিমি। মঙ্গলবারই মিমি এই প্রসঙ্গে টুইট করেছিলেন, ‘এই বিষয়ে আমি আর কিছু বলতে চাই না,আমি নির্বাক’। বুধবার দিনভর হাতি খুনের ঘটনা নিয়ে একাধিক টুইট করলেন যাদবপুরের সাংসদ। পরিবেশ মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকরের উদ্দেশে মিমি লেখেন, ‘কেরলের মন্দিরে কয়েক শো হাতিকে চেন দিয়ে বেঁধে রাখা হয় সারাজীবনের জন্য। ওঁদের ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বার খবর কেউ জানতেও পারে না। ভারতের ঐতিহ্য হাতি তাদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকবার পূর্ণ অধিকার রয়েছে, তাদের বাসভূমি সংরক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে’।

কেরলের নৃশংসভাবে গর্ভবতী হাতি হত্যার ঘটনায় শিউরে উঠেছেন টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়ক বিরাট কোহলি। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে হাতির স্কেচের ছবি পোস্ট করে ঘটনাকে নিন্দাজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন ভিকে। সহ-নাগরিকদের বন্যপ্রাণীদের প্রতি আরও বেশি সহানুভূতিশীল হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়ক।

Related posts

বছরের শেষে সোনার দাম হতে পারে আকাশছোঁয়া!‌

E Zero Point

ভারতীয় বিমান বাহিনী ‘মাই আইএএফ’ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের সূচনা করেছে

E Zero Point

হেরে যাওয়ার পর কীভাবে মুখ্যমন্ত্রী ? প্রশ্ন অমিত মালব্যেরঃ উত্তর আছে সংবিধানে

E Zero Point

মতামত দিন