28/11/2022 : 4:18 PM
BREAKING NEWS
আমার বাংলাকালনাদক্ষিণ বঙ্গপূর্ব বর্ধমান

নদীভাঙ্গন গ্রাসে কাবাডি গ্রাম কালিনগর

আলেক শেখ, কালনা, ১০ জুনঃ আমমফান ঝড়ের পর থেকেই  কাবাডি গ্রাম বলে খ্যাত কালিনগরে  নদীভাঙ্গন শুরু হয়েছে । কয়েকদিনের মধ্যেই সেই ভাঙ্গন ব্যাপক আকার নিয়েছে ।  কালনা-১ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত  এই গ্রামের বাসিন্দারা লিখিতভাবে প্রশাসনকে জানালে কয়েকজন সরকারি প্রতিনিধি পরিদর্শনে যান ।    তারপর থেকেই চুপচাপ, কোন পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের ।  পূর্ব বর্ধমান জেলার এই গ্রামটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ভাগীরথী নদীর পূর্ব পাড়ে অবস্থিত ।  একমাত্র  নৌকায় হল যোগাযোগের অবলম্বন । তবুও  এই চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও এই গ্রাম বহু  সু-সন্তানের জন্ম দিয়েছে ।  ১৯৮৬ সালে বেজিংয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়াডে ভারত একমাত্র  সোনা জয়ী হয়েছিল কাবাডিতে । সেই সোনাজয়ী কাবাডি দলে  অংশগ্রহণ করেন  এই কালিনগর গ্রামের প্রয়াত আনজার আলী শেখ ।  এছাড়াও রাজ্য ও জাতীয় স্তরের বহু কাবাডি খেলোয়াড়ের জন্ম দিয়েছে এই গ্রাম ।  তাই কালিনগর আজ কাবাডি গ্রাম বলেই খ্যাত হয়ে উঠেছে ।   গ্রামবাসীদের অভিযোগ ঐতিহ্যপূর্ণ গ্রামের তকমা নিয়েও   কালিনগর বঞ্চনার শিকার ।  এই গ্রামে নদী ভাঙ্গন সমস্যা আজকের নয়, বহুদিন পূর্বের  ।   মানুষের আইওয়াশ করতে   নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধের নামে   ছেলেখেলা হয়েছে বারবার ।  পাকাপাকিভাবে ভাঙ্গনের সমস্যা সমাধান না করে লোক হাসানো প্রকল্প নেওয়া  হয়েছে ।  ভাঙ্গন প্রতিরোধে একবার ভেটিভার নামক ঘাস লাগিয়ে দেওয়া হয় নদী পাড়ে ।  বলা হয় এই ঘাসই   নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ করবে ।  কিন্তু যে বছর ঘাস লাগানো হয়, সেই বছরই সেই ঘাস ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায় ।   তারপর নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে ফেলা হয় বাঁশের খাঁচা ।  সেই বাঁশের খাঁচাও এখন ধুয়েমুছে সাফ ।  সেই ট্রাডিশন সমানে চলেছে—  নদীভাঙ্গন অব্যাহত । গ্রামবাসীদের দাবি  পাকাপাকিভাবে ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা হোক ।  কিন্তু প্রশাসন ঘাস, বাঁশের  খাঁচার পর কি প্রকল্প নিয়ে আসে সেটাই এখন দেখার ।

Related posts

জেনে নিন ডাক্তারের নাম ও ফোন নংঃ মালদায় টেলি চিকিৎসা পরিষেবা

E Zero Point

বিশ্ব মহামারী করোনা মুক্তির জন্য মহাযজ্ঞ আসানসোলে

E Zero Point

বর্ধমান শহরে পুলিশ প্রশাসনের সচেতনতা প্রচার ও মাস্ক বিতরণ

E Zero Point

মতামত দিন