পরাগজ্যোতি ঘোষ, গুসকরা: ২০১৭ – না কোন লকডাউন নয় -হঠাৎ করে কিছু করার তাগিদ ও নয় -সম্পূর্ণ মন থেকে জেগে ওঠা এক স্বপ্নের নাম নতুন দিশা। বামপন্থী ভাবাদর্শে বিশ্বাসী গরিবের প্রাণের মানুষ এক যুবকের মাথায় ভাবনার উদয় নিরাশ্রয় অসহায় অনাথ মানুষগুলোর জন্য কিছু করতে হবে। কিন্তু কি বা করতে পারে সে। স্বপ্ন তার অনেক কিছু করার আর সেখান থেকেই জন্ম নিল ওইসব মানুষদের মুখে দু’মুঠো খাবার তুলে দেবার।
মানুষটার নাম সুবীর রানা। নিজের ভাবনার কথা জানালেন বউ মিতা দেবীকে সঙ্গে সঙ্গে সহমত পোষণ করেন তিনি। দুজনে মিলে জানালেন বাড়ির লোকদের এবং তাদের বন্ধুদের। প্রথম প্রথম বাড়িতে রুটি তৈরি করে তাদেরকে রুটি তরকারি খাওয়ানোর অবস্থা হয়। তারপর পরিবার বড় হতে শুরু করে। সুবির বাবুর বন্ধুবৃত্ত টি অনেক বড় সকলেই ভালবাসেন তাকে। দলমত নির্বিশেষে বন্ধুর দল তাকে আশ্বাস দেন সকলেই তার পাশের আছেন। তাই রান্না করে ডাল ভাত তরকারির ব্যবস্থা করা হয় স্টেশন চত্বরে। প্রত্যেক রবিবার প্রায় ১০০ জন মানুষ এই খাবার খান।
২০১৭ সাল থেকে আজ পর্যন্ত একই রকম ভাবেই চালিয়ে আসছেন সুবীর বাবু। আর লকডাউন এর সময় প্রতিদিনই নিজের বাড়িতেই ব্যবস্থা করেছিলেন খাবার। তখন হয়তো রোজ এত মানুষ হতো না। কিন্তু এই আকালের সময় মানুষগুলোর না জুটবে কোন আহার এই কথা মাথায় রেখে প্রতিনিয়ত চালিয়ে গেছেন তার অন্নকূট। একবার এক বেলা আহার তিনি জুটিয়ে গেছেন ওই সকল মানুষদের মুখে। বিভিন্ন সময়ে অনেক বন্ধু সাহায্য করেছেন হৃদয় থেকে কিন্তু সুবীরবাবুর ইচ্ছা যদি আরো অনেক সাহায্য পাওয়া যেত এই সকল অভাবী এইমানুষগুলোর জন্য আরেকটু ভালো তিনি করতে পারতেন।
শুধু অন্নদানই নয় নতুন দিশা পুজোর সময় এই সকল মানুষদের পোশাক-পরিচ্ছদ ও দেয়।আর ওই সব মানুষ গুলো সুবীর বাবুকে দেবতার চোখে দেখেন। দুচোখে জলের ধারা নিয়ে তারা বলেন এমন মানুষ দেখা যায় না। আকাশের ভগবানকে তারা দেখেননি কিন্তু এই ভগবানকে তারা ছুঁতে পারেন, এই ভগবানকে তারা তাদের মনের কথা বলতে পারেন। ঈশ্বর যেন সুবীর বাবুকে সর্ব সুখে রাখেন এমনই আশীর্বাদ ঝরে পড়েছে ওই অভাবেই মানুষগুলোর মুখ থেকে। এতদঞ্চলের প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব ও তিনি ।এক সময়ের লড়াকু বামপন্থী নেতা ও তিনি ।কিন্তু দলমত নির্বিশেষে সকলের প্রাণের মানুষ ও তিনি ।সুবির বাবু বলেন তিন ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন না কিন্তু তিনি মনে করেন জীবে প্রেম করে যেইজন সেইজন সেবিছে ঈশ্বর। এই সকল মানুষ গুলোর মধ্যেই ভগবান আছেন। তাই তাদের সেবা তিনি যেন আজীবন করে যেতে পারেন তার বন্ধুদের সাহায্যে এই ইচ্ছা তিনি প্রকাশ করেন।

