06/08/2020 : 10:17 PM
জীবন শৈলী ধর্ম -আধ্যাত্মিকতা

পবিত্র ঈদ-উল-আযহা – ইসলাম ধর্মের এক ত্যাগের উৎসব – কোরবানী হোক পশুত্বের

এম. কে. হিমু

ঈদ উল আযহা বা ঈদ উল আজহা বা ঈদ উল আধহা  আরবীয় শব্দ- যার অনুবাদ ‘ত্যাগের উৎসব’। আরবি ঈদ শব্দটির অর্থ “উৎসব,” আযহা শব্দটির অর্থ “বলিদান”, ‘”ত্যাগ”।

ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় দুটো ধর্মীয় উৎসবের দ্বিতীয়টি। চলতি ভাষায় এই উৎসবটি কুরবানির ঈদ বা বকরাঈদ কিংবা বকরীইদ নামেও পরিচিত। ইসলাম ধর্মের এই উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হল ত্যাগ করা। বর্তমানে এই দিনটিতে ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা বিশেষ নামাযের পর স্ব-স্ব আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী বিভিন্ন পশুর কোরবানী বা বলি দেওয়া হয় পরমস্রষ্টা আল্লাহর নামে।

পৃথিবীর সব ধর্মীয় রীতির একটি পটভূমি থাকে। তাই কোরবানীরও একটি পটভূমি আছে। ইসলামের বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী, পরম স্রষ্টা আল্লাহ তা’আলা ইসলামের রাসুল হযরত ইব্রাহীমকে স্বপ্নযোগে তার সবচেয়ে প্রিয় বস্তুটি কুরবানি করার নির্দেশ দেন: “তুমি তোমার প্রিয় বস্তু আল্লাহর নামে কোরবানি কর।“

ইব্রাহীম স্বপ্নে এই আদেশ পেয়ে ১০টি উট কোরবানি করলেন। পুনরায় তিনি আবারো একই স্বপ্ন দেখলেন। অতঃপর ইব্রাহীম এবার ১০০টি উট কোরবানি করেন। এরপরেও তিনি একই স্বপ্ন দেখে ভাবলেন, আমার কাছে তো এ মুহূর্তে প্রিয় পুত্র ইসমাইল ছাড়া আর কোনো প্রিয় বস্তু নেই। তখন তিনি পুত্রকে কোরবানির উদ্দেশ্যে প্রস্তুতিসহ আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে যাত্রা করেন। এ সময় অশুভ শক্তি শয়তান আল্লাহর আদেশ পালন করা থেকে বিরত করার জন্য ইব্রাহীম ও তার পরিবারকে প্রলুব্ধ করেছিল এবং ইব্রাহীম শয়তানকে পাথর ছুঁড়ে মেরেছিলেন।

প্রসঙ্গগত উল্লেখ্য শয়তানকে তার প্রত্যাখ্যানের কথা স্মরণে আরবের ইসলাম ধর্মালম্বীর তীর্থক্ষেত্র মক্কায় হজ্জের সময় শয়তানের অবস্থানের চিহ্ন স্বরূপ নির্মিত ৩টি স্তম্ভে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ করা হয়।

যখন ইব্রাহীম আরাফাত পর্বতের উপর তার পুত্রকে কোরবানি দেয়ার জন্য গলদেশে ছুরি চালানোর চেষ্টা করেন, তখন তিনি বিস্মিত হয়ে দেখেন যে তার পুত্রের পরিবর্তে একটি প্রাণী কোরবানি হয়েছে এবং তার পুত্রের কোনো ক্ষতি হয়নি।

ইব্রাহীম আল্লাহর আদেশ পালন করার দ্বারা কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

এই ঘটনাকে স্মরণ করে সারা বিশ্বের ইসলাম ধর্মালম্বীরা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য প্রতি বছর এই দিবসটি উদযাপন করে। হিজরি বর্ষপঞ্জি হিসাবে জিলহজ্জ্ব মাসের ১০ তারিখ থেকে শুরু করে ১২ তারিখ পর্যন্ত ৩ দিন ধরে ঈদুল আজহার কুরবানি চলে। হিজরি চান্দ্র বছরের গণনা অনুযায়ী ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার মাঝে ২ মাস ১০ দিন ব্যবধান থাকে। দিনের হিসেবে যা সর্বোচ্চ ৭০ দিন হতে পারে।

তাই এই দিনে স্থান ভেদে ও সামর্থানুসারে ইসলামী ধর্মালম্বীরা পশু বলি বা কোরবানী দিয়ে থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ধরনের পশুর কোরবানী দেওয়া হয়।

সাধারণত আমাদের দেশে কোরবানীর মাংস তিন ভাগে ভাগ করে ১ ভাগ গরিব-দুঃস্থদের মধ্যে ১ ভাগ আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে এবং ১ ভাগ নিজেদের খাওয়ার জন্য রাখা হয়।

পরিশেষে বলা যায় পবিত্র ঈদ-উল-আযহা – ইসলাম ধর্মের এক ত্যাগের উৎসব। ত্যাগ নিজের প্রিয় বস্তু, পার্থিব মোহ ত্যাগ করে সর্বকরুণাময় স্রষ্টার গুণগান করা যিনি এই বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের সৃষ্টি করেছেন। তাই পশুবলী প্রতীকি – ত্যাগ হোক মানুষের মধ্যেকার পশুত্বের।

Related posts

রান্নাঘরঃ ক্ষীরমোহন

E Zero Point

পুরীতে জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা, আক্ষেপ-মন খারাপ অসংখ্য ভক্তদের

E Zero Point

দিনভর ঘরবন্দি! সচল থাকতে কী করণীয়?

E Zero Point

মতামত দিন