30/01/2023 : 9:19 PM
আমার বাংলাহাওড়া

বর্ধমান রাজাদের হাতে শুরু রায় পরিবারের ৩০০ বছরের দুর্গাপুজো হাওড়াতে

জিরো পয়েন্ট নিউজ – সুব্রত মজুমদার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২০:



আনুমানিক ৩০০ বছর পূর্বে বর্ধমান রাজাদের হাতে শুরু হয় হাওড়া জেলার জগৎবল্লভপুর থানার অন্তর্গত পাঁতিহাল গ্রামের বর্ধিষ্ণু রায় পরিবারের দুর্গা পুজো। নিজেদের বসত ভিটার পাশেই তৈরী হয় বিরাট দুর্গা মন্ডপ ও দোলমঞ্চ। অনিতীদূরে বালিয়া অঞ্চলের কিশোরী মোহন দাস ও যুগোল দাসের পরিবার বংশানুক্রমে এই পরিবারের প্রতিমা তৈরি করে আসছেন। জন্মাষ্টমীর সকালে কাঠামো পুজো দিয়ে শুরু হয় প্রতিমা তৈরীর কাজ। প্রতিটি বনেদী বাড়ির পুজোরই কিছু স্বতন্ত্র নিয়ম ও বৈশিষ্ট্য থাকে, রায় পরিবারের পুজোর ক্ষেত্রেও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। আগে বর্ধমান রাজাদের দেওয়া জলঘড়ি দেখে পুরোহিত নির্দেশ দিতেন। তারপরই কামন দেগে শুরু হত সন্ধিপুজো। এখন আর কামান দাগা হয় না। তবে আজও বিল্ববৃক্ষের তলায় কৃষ্ণানবম্যাদি কল্পে দেবীর বোধন শুরু হয়। বোধন বসার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় দুর্গার দশহাজার ও কৃষ্ণের পাঁচশো নাম জপ্ সঙ্গে চণ্ডীপাঠ।কৃষ্ণনবম্যাদিকল্পে বোধন শুরু হলেও ষষ্ঠীর সায়ংকালে দেবীর আমন্ত্রণের মাধ্যমে তা শেষ হয়। পরদিন অর্থাৎ, সপ্তমীর সকালে মন্ডলার ঘাট থেকে নবপত্রিকা স্নান করিয়ে দুর্গা দালানে নিয়ে এসে ঘটস্থাপন করে শুরু হয় মহাপুজো। আগে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী এই তিনদিনই দেবীকে আড়াই মন চালের নৈবেদ্য দেওয়া হত। এখন সেই পরিমাণ কমেছে। পুজোর তিনদিন এবং সন্ধিপুজোতে একটি করে ছাগ বলিদান হয়ে থাকে। অষ্টমীর দিন হয় কুমারী পুজো এবং নবমীতে বিশেষ যঞ্জানুষ্ঠান। রায় পরিবারের পুরো এলাকাটা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। একসময় এই পরিবার বর্ধমান রাজ পরিবারের অধীনস্থ জমিদার ছিলেন। তিনশো বিঘা জমির মালিকানা ছিল রায় পরিবারের। আগে বর্ধমান রাজাদের দেওয়া জলঘড়ি দেখে পুরোহিত নির্দেশ দিতেন। তারপরই কামন দেগে শুরু হত সন্ধিপুজো। আজ আর কামান দাগার সেই শব্দ শোনা যায় না। কিন্তু আজও কৃষ্ণানবম্যাদি কল্পে দেবীর বোধন বসে বিল্ববৃক্ষের তলায়। বোধন বসার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় চণ্ডীপাঠ, হয় দুর্গার দশহাজার ও কৃষ্ণের পাঁচশো নাম জপ্। জন্মাষ্টমীর সকালে কাঠামো পুজো দিয়ে শুরু হয় প্রতিমা তৈরীর কাজ। বালিয়া অঞ্চলের কিশোরী মোহন দাস ও যুগোল দাসের পরিবার বংশানুক্রমে এই পরিবারের প্রতিমা তৈরি করে আসছেন। কৃষ্ণনবম্যাদিকল্পে যে বোধন বসে ষষ্ঠীর সায়ংকালে দেবীর আমন্ত্রণের মাধ্যমে তা শেষ হয়। পরদিন অর্থাৎ, সপ্তমীর সকালে মন্ডলার ঘাট থেকে নবপত্রিকা স্নান করিয়ে দুর্গা দালানে নিয়ে আসা হয়, তারপর ঘটস্থাপন করে শুরু হয় মহাপুজো। আগে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী এই তিনদিনই দেবীকে আড়াই মন চালের নৈবেদ্য দেওয়া হত। এখন সেই পরিমাণ কমেছে। পুজোর তিনদিন এবং সন্ধিপুজোতে একটি করে ছাগ বলিদান হয়ে থাকে। অষ্টমীর দিন হয় কুমারী পুজো এবং নবমীতে বিশেষ যঞ্জানুষ্ঠান।


আবার রায় পরিবারের দুর্গা পুজোর সঙ্গে অদূরবর্তী নিজবালিয়ার সিংহবাহিনী মন্দিরের এক অদ্ভূত যোগসূত্র রয়েছে। দেবী নিজবালিয়ার সিংহবাহিনীর আদলে রায়েদের দুর্গা মূর্তির মুখাবয়ব নির্মিত হয়। এখানকার দেবী প্রতিমা দশভূজা নন। তিনি চতুর্ভূজা ত্রিচালা আকৃতির চলচ্চিত্রে সপরিবারে বিরাজ করছেন। অনেকের মতে বর্ধমানরাজ বালিয়া পরগনায় সিংহবাহিনী মন্দির প্রতিষ্ঠা করে যাওয়ার সময় রায় পরিবারের দুর্গা পুজোর সূচনা করেছিলেন। আগে নবমীর দিন সকালে রায় পরিবারের পক্ষ থেকে পুজো উপাচার নিয়ে সিংহবাহিনী মন্দিরে দিয়ে আসা হতো।সিংহবাহিনী মন্দিরে পুজো বসার পর মন্দির প্রাঙ্গনে তোপধ্বনি হতো, সেই তোপধ্বনির আওয়াজ শুনে মন্ডলার রায় পরিবারের নবমী বিহিত পূজা শুরু হত। এখনো নবমীর দিন সকালবেলায় সিংহবাহিনী মন্দিরে মায়ের পুজো দিয়েই রায় পরিবারের নবমী পুজো শুরু হয়। আগে জমিদার বাড়ির পুজো দেখতে অনেক দূর দূর থেকে প্রজারা আসতেন। অতিথি অভ্যাগতদের দেওয়ার জন্য তৈরী হতো মোয়া, নাড়ু, খৈ প্রভৃতি। জমিদার বাড়ির পুজোর সেই জৌলুস আজ অনেকাংশে ফিকে। তবে বর্তমান প্রজন্ম ও নিজেদের ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে সবরকম চেষ্টা করেন। বর্তমানে অষ্টমীর দিন মধ্যাহ্ন ভোজে এলাকার মানুষের নিমন্ত্রণ হয় জমিদার বাড়িতে। দুঃস্থদের হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন বস্ত্র ও অর্থ। প্রত্যেক বছর দশমীর দিন সকালে প্রথা মেনে জমিদার বাড়ির ঠাকুর দালানে পাঁতিহাল হাটতলার মাল পাড়া সাপুড়িয়ারা বংশপরম্পরায় এরা পুতুল নাচ আর সাপ খেলা দেখাতে আসে। সাপ খেলা, পুতুল নাচ দেখানো হয়ে গেলে জমিদার বাড়ি থেকে খই, মুড়ি, মিষ্টি, জামাকাপড় নিয়ে তারা চলে যায়।
দশমীর দিন সন্ধ্যেবেলা থেকে তোড়জোড় শুরু হয় উমার ঘরে ফেরার, বাড়ির মহিলারা বরণ করেন উমাকে। তারপর বাড়ির পুরুষদের কাঁধে চেপে মন্ডলার ঘাটেতে বিসর্জনের জন্য আনা হয়। বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে সমাপ্তি হয় পুজোর।

Related posts

ঋণগ্রস্ত হয়ে মানসিক অবসাদে আত্মহত্যা মঙ্গলকোটে

E Zero Point

যথাযথ সম্মানের সাহিত স্বাধীনতা দিবস পালন করল মঙ্গলকোট থানা

E Zero Point

সোয়াব টেস্ট আবার শুরু হলো কোন্নগর কানাইপুরে

E Zero Point

মতামত দিন