25/11/2020 : 9:18 AM
আমার বাংলা দক্ষিণ বঙ্গ দুর্গাপুজো সংবাদ পূর্ব বর্ধমান

ইতিহাসের সাক্ষী বর্ধমানের পটেশ্বরী দুর্গা

জিরো পয়েন্ট নিউজ – সুব্রত মজুমদার, আসানসোল, ২৭ অক্টোবর, ২০২০:


বহু ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে বর্ধমানের তিন শতকেরও বেশি প্রাচীন রাজ হাবেলি। এই হাবেলির ভেতরে রয়েছে বর্ধমান রাজবাড়ির লক্ষ্মী নারায়ণ জিউ মন্দির। এই মন্দিরেই পাতালে শিব, মা চন্ডীকার নিত্যপুজোর সঙ্গে এখানেই পূজিতা হন পটেশ্বরী দুর্গা। দেবী দুর্গা এখানে পটে আঁকা। তাই নাম তাঁর পটেশ্বরী। বর্ধমানের মহারাজ মহাতাব চাঁদ এই পটেশ্বরী দুর্গার পুজোর সূচনা করেছিলেন। প্রথম দিন থেকেই সেই একই পটে পুজো হয়ে আসছে পটেশ্বরী দুর্গার। এখনো পর্যন্ত পট বদল না হলেও বারো বছর অন্তর পটের অঙ্গরাগ করা হয়। বর্ধমান রাজবাড়ির কুলদেবতা হলেন লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ এবং কেশব জিউ। আর কুলদেবী মা চন্ডীকা হলেন। নিত্যপুজো হয় তাঁদের। হঠাৎ করে মহারাজ মহাতাবচাঁদের ইচ্ছে হল দুর্গা পুজো করার। ডাক পড়ল রাজপুরোহিতের ও সভাপন্ডিতদের। অনেক ভাবনা চিন্তা করে কুলপুরোহিত বিধান দিলেন যেহেতু মা চন্ডীকা রয়েছেন তাই আলাদা করে আর দুর্গাপ্রতিমা আনা যাবে না। তবে মহারাজ চাইলে প্রতিমার বদলে পটে আঁকা দুর্গার পুজোর আয়োজন করতে পারেন। ব্যাস সেইমতো দাঁইহাট থেকে শিল্পী আনিয়ে পট আঁকিয়ে শুরু হল বর্ধমান রাজবাড়ির দুর্গাপুজো। পটের পিছনের চালচিত্রে আঁকা হল নানান পৌরানিক কাহিনী।

পটে আঁকা হলেও কিন্তু দেবী দুর্গার সঙ্গে বাহনসহ লক্ষ্মী সরস্বতী কার্তিক গনেশ সবাই রয়েছেন। রাজ আমলে আড়ম্বর এই পুজো দেখতে প্রজারা হাজির হতেন রাজবাড়িতে। রাজ হাবেলিতে প্রসাদ, অন্নভোগ খেয়ে বিকেলে মেলা দেখে রাতে কলকাতার নামি যাত্রাদলের যাত্রা পালাগান শুনে ভোরে বাড়ি ফিরতেন তাঁরা। তখন পুজোয় আমন্ত্রণ জানানো হতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের। পুজো দেখতেন সপরিবারে আসতেন জমিদার, বন্ধু রাজারাও। রাজ আমল বিলুপ্তির পর সেই জাঁকজমক এখন আর না থাকলেও এখনও রীতিমেনে নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো হয়। তবে পুজো এখানে নদিনের। প্রতিপদ থেকে পুজো শুরু হয়ে নবমী পর্যন্ত চলে দেবী পটেশ্বরীর পুজো। সেই আমলে একশো ঢাকের শোভাযাত্রা করে মহাসমারোহে কৃষ্ণসায়র থেকে ঘট আনা হতো। তবে এখন এখন ঘট ভরা হয় গঙ্গাজলে। আগে নবমীতে সুপারি বলি হলেও এখন তাও বন্ধ।দুর্গাপুজোয় সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে দেবীকে বাহান্ন রকমের ভোগ দেওয়া হতো। প্রধানত যে তিনটি ভোগ রাজ আমল থেকেই দিয়ে আসা হচ্ছে, সেগুলি হল হালুয়া, পুরি ও ছোলার ডাল। এই তিনটি প্রধান ভোগ প্রথম থেকেই দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ৫২ রকমের ভোগে দেওয়া হতো পোলাও, সাদা অন্নভোগ, মালপোয়া, পায়েস, নানা রকমের ভাজাভুজি, চাটনি, মিষ্টি প্রভৃতি। সেই সঙ্গে থাকতো চিনির নৈবেদ্য, আতপ চালের নৈবেদ্য, সিদ্ধ চালের ভোজ্য, নানান রকমের ফল। তবে পুজোর দিনগুলিতে এখনো রাজকুমার প্রতাপচাঁদ মহাতাব সস্ত্রীক রাজ হাবেলিতে আসেন। নিজে পুজো করেন তিনি। রাজ আমল থেকে এখনও এই পুজোয় নবমীতে কুমারী পুজো হয়ে আসছে। তবে এই পুজোর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য মন্দির চত্ত্বরে গুজরাতি সমাজের নবরাত্রি উৎসব। রাজ ঐতিহ্য মেনে ন রাত ধরে চলে ডান্ডিয়া নৃত্য।

Related posts

একুশের লক্ষ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির সভা

E Zero Point

মন্তেশ্বর ব্লক সভাপতির নাম ঘোষণা হওয়ার পর কর্মীদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস

E Zero Point

জামালপুরে সভাস্থলে যাওয়ার পথে দিলীপ ঘোষকে কালোপতাকা

E Zero Point

মতামত দিন