27/09/2022 : 10:40 AM
BREAKING NEWS
আমার বাংলাজামালপুরদক্ষিণ বঙ্গপূর্ব বর্ধমানমেমারি

বর্ধমানের ক্ষুদে বিজ্ঞানীর মাস্ক আবিস্কার

জিরো পয়েন্ট নিউজ ডেস্ক, অতনু হাজরা, জামালপুর,  ২৮ জুন ২০২১:


করোনাকালে আমরা দেখেছি মেমারির ক্ষুদে বিজ্ঞানী দিগন্তিকা বোসের মাস্ক আবিস্কার এবার মেমারি থেকে কিছুটা দূরে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের বেত্রাগর গ্রামের দ্বাদশ শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র দেবর্ষি দে আবিস্কার করলো আর এক ধরেনর মাস্ক।

গ্রাম্য পরিবেশে মানুশ হলেও ছোট থেকেই তার বিজ্ঞানের বিষয়ে বেশ ঝোঁক ছিল। নিজের প্রচেষ্টায় সে নানা জিনিস তৈরি করে। যে গুলি বেশ আকর্ষণীয়। সে স্থানীয় সেলিমাবাদ হাই স্কুলের ছাত্র। বিগত বছরে ব্লক স্তরে বিজ্ঞান মেলায় সে প্রথম স্থান লাভ করে। এরপরে সে জেলা ও রাজ্যস্তরে অংশ নেয়। দেবর্ষি দের বিষয় ছিল “টেকনোলজি ফর এ বেটার লাইফ”

এই বিষয়টিকে সামনে রেখে সে ‘স্মার্ট হোম’ এই সম্পর্কিত চারটি জিনিস তৈরি করে। এ হেন সেই ছেলে আবার আবিষ্কার করে ফেললো একটি সুন্দর ‘মাস্ক’। যা ফ্রন্ট লাইন করোনা যোদ্ধাদের দারুন কাজে লাগবে। সাধারণত দেখতে পাওয়া যায় সাধারণ মানুষের মাস্ক পড়ার একটা অনীহা কাজ করে কারণ অনেকেই মাস্ক পরে হাঁপিয়ে যান। বা যে সমস্ত ডাক্তারবাবু ও নার্সরা করোনা ওয়ার্ডে কাজ করেন তাঁদের বেশিরভাগ সময়ই পিপিই কিট ও মাস্ক পরে থাকতে হয়। তাঁদের জন্য দারুন কার্যকরী হবে এই মাস্ক।

দেবর্ষি দের আবিস্কৃত মাস্কের বিশেষত্ব হলো মাস্কের ভিতর একদম ফ্রেশ অক্সিজেন সরবরাহ করবে যার ফলে কোনো রকম অসুবিধা হবে না মাস্ক পরে থাকতে। তার তৈরি ডিভাইসে রয়েছে ৫টি এয়ার সাকার যার মধ্যে রয়েছে ৬টি ০.১-০.৩ মাইক্রোনের এয়ার ফিল্টার যা ১০০% বাতাসকে বিশুদ্ধ করে।ডিভাইসের ভিতরে থাকা এয়ার ফিল্টার জোর করে পাইপের মাধ্যমে মাস্কের ভিতরে পাঠিয়ে দেয়। ছোট্ট এই ডিভাইসটির ওজন ৪০৫ গ্রাম যা সহজেই পকেটের মধ্যে নিয়ে ব্যবহার করা যাবে।

এরই মধ্যে সে এই ডিভাইস সহ মাস্ক নিয়ে জামালপুরের বিধায়ক অলক কুমার মাঝি, বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার, ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ঋত্বিক ঘোষ,পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খানের কাছে হাতে কলমে কিভাবে এই মাস্ক কাজ করবে তা দেখিয়েছে। বিধায়ক অলক কুমার মাঝি বলেন খুবই ভালো একটি জিনিস দেবর্ষি আবিষ্কার করেছে যা এই করোনা পরিস্থিতিতে যথেষ্ট কার্যকরী হবে। তিনি নিশ্চিত বিষয়টি জেলা ও রাজ্যস্তরে জানাবেন যাতে দেবর্ষির এই আবিষ্কার স্বীকৃতি পায়।তবে সবটাই নির্ভর করবে বিশেষজ্ঞদের উপর।

বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার বলেন তিনি তাঁর উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনবেন বিষয়টি।ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা: ঋত্বিক ঘোষ জানান তিনি পুরো বিষয়টি জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিককে জানাবেন এবং সেখানে গিয়ে যাতে দেবর্ষি হাতে কলমে তার আবিষ্কার দেখানোর সুযোগ পায় সে ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবেন।

পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খান জানান যেহেতু তাঁর ব্লকের ছেলে দেবর্ষি তাই তিনি বিডিও ও বিধায়কের সাথে কথা বলে যাতে দ্রুত কিছু করা যায় সে বিষয়ে ব্যবস্থা করবেন।ইতি মধ্যেই দেবর্ষি তার আবিষ্কারের সমস্ত পদ্ধতি লিপিবদ্ধ করে ফাইল আকারে বিধায়ক ও ব্লক স্বাস্থ্য অধিকারিককে জমা দিয়েছে।

এখন সে এই আশায় রয়েছে তার এই আবিষ্কার কখন স্বীকৃতি পায়। তার বাবা ব্রজেন্দ্রোনাথ দে যিনি নিজেও একজন শিক্ষক জানান ছোট থেকেই নানা জিনিস তৈরির বিষয়ে ঝোঁক ছিল দেবর্ষির। তার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভোলানাথ কর্মকার জানান দেবর্ষি খুবই ভালো ছেলে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ও বিজ্ঞান মেলায় রাজ্যস্তর পর্যন্ত যেতে পেরেছে।তাই ওর আবিষ্কার যদি স্বীকৃতী পায় তাহলে তিনি খুবই খুশি হবেন বলে জানান।এখন দেখার স্বীকৃতি পায় কিনা এই ক্ষুদে বিজ্ঞানীর আবিষ্কার।

অন্যদিকে সুদূর কালীঘাট থেকে দেবর্ষিকে সম্বর্ধনা দিতে ছুটে এলেন তন্ময় দত্ত। তন্ময়বাবু দেবর্ষির বাড়িতে এসে তাকে সম্বর্ধিত করে। তিনি ওর হাতে একটি উত্তরীয়,ফুলের তোড়া, একটি শান্তিনিকেতনি ফাইল, একটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাঁধানো ছবি ও একটি ক্যাডবেড়ির প্যাকেট তুলে দেন।

Related posts

সাতগেছিয়ায় দুয়ারে রেশন

E Zero Point

চিনা মাঞ্জা নিয়ে রিপোর্ট তলব কলকাতা হাইকোর্টের

E Zero Point

মেমারিতে নাবালিকা ছাত্রীকে ধর্ষনের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার এক টোটো চালক

E Zero Point

মতামত দিন