29/09/2022 : 2:03 PM
BREAKING NEWS
আমার বাংলাদক্ষিণ বঙ্গপূর্ব বর্ধমানমেমারি

মেমারিতে রূপশ্রী প্রকল্পের আবেদনে অনিয়ম, তদন্তের নির্দেশ বিডিওর

জিরো পয়েন্ট নিউজ ডেস্ক, মেমারি,  ১৩ অগাষ্ট ২০২১:


আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বিবাহের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জনপ্রিয় প্রকল্প – রূপশ্রী প্রকল্প। আর সেই রুপশ্রী প্রকল্পে আবেদন পত্রে অনিয়ম ধরা পড়লো মেমারিতে। গত চার মাস আগে মেয়ের বিবাহ হয়ে যাওয়ার পর নতুন ভাবে বিবাহের কার্ড ছাপিয়ে রূপশ্রী প্রকল্পের আবেদন করায় এক ব্যক্তিকে তলব করল মেমারি ১ ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক ডা. আলি মহঃ ওয়ালি উল্লাহ।

গত ২৬ এপ্রিল  পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি ১ নম্বর ব্লকের দুর্গাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার আলিপুর গ্রামের বাসিন্দা তার কন্যার বিবাহ দেন হুগলি জেলার পান্ডুয়া ব্লকের দ‍াঁতস‍্যর গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে। কন্যার পিতা জানান, যে বিবাহের আগে বিধানসভা নির্বাচন থাকার জন্য পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিরা জানান যে এখন রূপশ্রী প্রকল্প করা যাবে না এবং পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিরা আরো জানান যে পরে কন্যাশ্রী প্রকল্পের টাকা পাওয়ার সমস্ত ব্যবস্থা তারা করে দেবেন।

তিনি আরও জানান যে, সেই মোতাবেক নতুনভাবে আরেকটি বিবাহের কার্ড ছাপিয়ে গত ১২ ই আগস্ট বিবাহের দিন উল্লেখ করে রূপশ্রী প্রকল্পের জন্য মেমারি বিডিও অফিসে আবেদন করেন। এই আবেদন করার জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে পঞ্চায়েত প্রধানের সীলমোহর সহ স্বাক্ষর করা স্থায়ী বাসিন্দার শংসাপত্রও প্রদান করা হয়।

অন্যদিকে আবেদনপত্রের সত্যতা যাচাই করার জন্য মেমারি ১ ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক ডা. আলি মহঃ ওয়ালি উল্লাহ কার্ডে উল্লেখিত বিবাহের দিনই  ১২ ই অগাস্ট আলীপুর গ্রামে ওই ব্যক্তির বাড়িতে উপস্থিত হন। সেখানে গিয়ে দেখেন ঐদিন আলীপুর গ্রামে ওই ব্যক্তির বাড়িতে কোন বিবাহ ছিল না এবং জানতে পারেন যে ওই ব্যক্তির কন্যার বিবাহ গত ২৬ শে এপ্রিল হয়ে গিয়েছে, ফলে চরম ভৎসনার মুখে পড়তে হয় ওই কন্যার বাবাকে। কন্যার বাবাকে সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক বিডিও অফিসে দেখা করার জন্য বলেন এবং দেখা না করলে আইনত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান।

এদিকে কন্যার বাবা জানান যে তিনি নিজের ইচ্ছায় এসব করেননি। পঞ্চায়েতের কিছু প্রতিনিধির কথাতে তিনি এইসব করেছেন। তিনি বলেন কন্যার বিয়ের আগে রূপশ্রীর নিয়ম অনুসারে তিনি পঞ্চায়েত ও বিডিও অফিসে আবেদন করতে গিয়েছিলেন কিন্তু বিধানসভা নির্বাচন থাকায় সেই সময় তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং স্থানীয় নেতা ও পঞ্চায়েত সদস্যরা পরে ব্যবস্থা করে দেবেন বলে জানানো হয়। এখানে তার দোষ কোথায় বলে তিনি জানতে চান।

এব্যপারে দুর্গাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধির সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি জানান ব্যক্তিটি দরিদ্র পরিবারের, আবেদন পদ্ধতিতে কিছু ত্রুটি হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এছাড়াও গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা ও পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করা হয়েছে।

মেমারি ১ ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক ডা. আলি মহঃ ওয়ালি উল্লাহ  ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। কন্যার বাবাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান নির্বাচনের সময় আচারবিধির জন্য রূপশ্রী প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকলেও প্রশাসন থেকে পরে ১ মাস সময় দেওয়া হয়, এরকম ক্ষেত্রে মেমারিতে যেসব আবদেন জমা হয়েছিল সেগুলো অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে কিন্তু এটা জালিয়াতির পর্যায়ের আবেদন পত্র, নকল বিয়ের কার্ডও ছাপানো হয়েছে।

জানা গেছে, এই বিয়েতে দুর্গাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের এক সদস্যা নিমন্ত্রিত ছিলেন। এরপরও পঞ্চায়েত প্রধান সেই আবেদনে স্বাক্ষরও করে তা পাঠিয়ে দেন মেমারি বিডিও অফিসে।  স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া দরিদ্র পরিবারের জন্য এই প্রকল্পতেও অনিয়ম ও জালিয়াতি হতে শুরু করেছে। এই ঘটনায় কে বা কারা দোষী তা আগামী তদন্তে উঠে আসবে কিন্ত পঞ্চায়েত প্রতিনিধি কিংবা নেতৃত্বদের কন্যার বাবাকে সঠিক দিশা নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

Related posts

পুরুলিয়ায় শীতবস্ত্র প্রদান আঁচলের

E Zero Point

কালনায় বিনামূল্যে সবজিবাজার চতুর্থ সপ্তাহ

E Zero Point

কারখানা খোলার দাবিতে পথ অবরোধ পূর্বস্থলীর তাঁতশ্রমিকদের

E Zero Point

মতামত দিন