05/02/2023 : 5:41 AM
আমার বাংলাই-জিরো পয়েন্ট

উৎসশ্রী কি কোনো নতুন দূর্নীতির জন্ম দেবে?

জিরো পয়েন্ট প্রতিবেদন

জ্যোতি প্রকাশ মুখার্জ্জী


দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষকদের সাধারণ বা পারস্পরিক বদলি নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। এমনকি ‘মেডিক্যাল গ্রাউন্ড’ এর বদলির পরিস্থিতি তথৈবচ। পরিবার ছেড়ে তিন’শ-চার’শ কিলোমিটার দূরে কর্মরত শিক্ষকদের একটা বড় অংশের অভিযোগ শিক্ষা দপ্তরের এক শ্রেণি কর্মচারীর গয়ংগচ্ছ ভাব বা উদাসীনতার জন্য এই অবস্থা। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের ক্ষোভ দূর করার জন্য গতবছর সরস্বতী পুজোর সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জ্জী স্বয়ং যখন দূরে কর্মরত শিক্ষকদের নিজ নিজ জেলায় বদলি সংক্রান্ত বিষয়ে ঘোষণা করেন তখন দূরে কর্মরত শিক্ষকরা কিছুটা আশার আলো দেখতে পান।

শিক্ষা দপ্তরের গয়ংগচ্ছ ভাব তো ছিলই তার উপর গত বছর দীর্ঘ সময় ধরে লকডাউনেরর অজুহাতে মমতা ব্যানার্জ্জীর বদলি সংক্রান্ত ঘোষণার পরও বিষয়টা বিশবাঁও জলে চলে যায়। এক রাশ হতাশা যখন শিক্ষকদের গ্রাস করছে ঠিক তখনই গত বছরের শেষ দিকে শিক্ষা দপ্তর আবেদন পত্র গ্রহণ করা শুরু করলে শিক্ষকরা আবার আশার আলো দেখতে পান। বহু কষ্ট করে দূর দূরান্তের শিক্ষকরা সমস্ত নথিপত্র সহ এবং নিয়মকানুন মেনে বিকাশ ভবনে গিয়ে আবেদন পত্র জমা দেন।

এক শ্রেণির শিক্ষকের অভিযোগ নতুন বছর শেষ হতে চললেও এখনো শিক্ষা দপ্তরকে সেই আবেদন পত্র নিয়ে কোনো অর্থবহ সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা যাচ্ছেনা। ২০২০ সালের প্রায় শুরুতে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা ২০২১ সালের শেষ প্রান্তে এসেও ব্যর্থতার দরজায় অপেক্ষা করছে। তাদের বক্তব্য কেন এইভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বারবার তাদের হেনস্থা করছে? তাহলে কি মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা নেহাতই লোক দেখানো ছিল অথবা দপ্তরের কর্মীরা তাঁর কথা মান্য করছেনা? যদিও সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে ইতিমধ্যে বেশ কিছু বদলিও নাকি হয়েছে।
ধীরে ধীরে শিক্ষকদের ক্ষোভ যখন বাড়তে থাকে ঠিক তখনই মুখ্যমন্ত্রী শিক্ষকদের বদলির জন্য আবার ‘উৎসশ্রী’ পোর্টাল চালু করার কথা ঘোষণা করেন এবং গত দেড় বছরের মধ্যে শিক্ষকদের বদলি সংক্রান্ত এটি মুখ্যমন্ত্রীর তৃতীয় ঘোষণা।

পোর্টালের উদ্বোধন করেন স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। আগষ্ট মাসের দুই তারিখ থেকে পোর্টাল চালু হয়। আবার আশার আলো দেখা যায়। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে বিভিন্ন সমাজ মাধ্যমে শিক্ষকদের একাংশের ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে। অনেকের বক্তব্য – বিভিন্ন অজুহাতে এক শ্রেণির প্রধান শিক্ষক এন.ও.সি দিচ্ছেন না। যখন বিকাশ ভবনে গিয়ে আবেদন পত্র জমা দেওয়া হয় তখন যারা এন.ও.সি পেয়েছিলেন কোনো এক অজানা কারণে এখন তারা সেটা পাচ্ছেনা। তার উপর আছে দশ শতাংশের হিসাব। কার্যত নতুন পোর্টালে সমস্যা মেটার পরিবর্তে সমস্যা বেড়েই চলেছে।


বাড়ি থেকে প্রায় তিনশ কিলোমিটার দূরে কর্মরত পূর্ব বর্ধমানের এক শিক্ষক বললেন – বদলির আশায় এবছরের জানুয়ারি মাসে বাড়ি থেকে প্রায় দেড়শ কিলোমিটার দূরে বিকাশ ভবনে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি সহ আবেদন পত্র জমা দিয়ে এসেছিলাম। ভেবেছিলাম যেহেতু মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা করেছেন হয়তো ভোটের পরেই বদলি হয়ে বাড়ির কাছে আসতে পারব। বাড়িতে অসুস্থ বৃদ্ধা মা-বাবা এবং চোদ্দ মাসের শিশু সন্তানকে নিয়ে আমার স্ত্রী থাকে। ‘উৎসশ্রী’ পোর্টালেও আবেদন করেছি। অথচ প্রধান শিক্ষক অনুমতি পত্র দিচ্ছেন না। উত্তরবঙ্গে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে কর্মরত পুরুলিয়া, দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার অনেক শিক্ষকের একই অভিযোগ।


অনেকেই এরমধ্যে ঘুরপথে দূর্নীতির আশঙ্কা করছেন। কারও কারও বক্তব্য – বদলির বিষয়টি কেন পুরোপুরি প্রধান শিক্ষকদের মর্জির উপর ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে যেখানে শিক্ষা দপ্তরের কাছেই প্রতিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য আছে? শিক্ষা মন্ত্রী বারবার বলা সত্ত্বেও এক শ্রেণির প্রধান শিক্ষক কেন বাধা দিচ্ছেন? তাহলে কি শিক্ষা মন্ত্রীর ঘোষণা ও সরকারি নির্দেশনামার মধ্যে ফারাক আছে?


মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতা ব্যানার্জ্জীর দশ বছরের রাজত্ব কালে একাধিক দপ্তর কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা প্রশংসিত হলেও শিক্ষা মন্ত্রী হিসাবে ব্রাত্য বসুর প্রথম দফার কার্যকাল ছাড়া বাকি সময়টায় বারবার সমালোচনার লক্ষ্যস্হল হয়ে উঠেছে শিক্ষা দপ্তর। এমনকি একটা সময় মুখ্যমন্ত্রীকেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। কিন্তু অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়না।

শিক্ষক নিয়োগ বা শিক্ষক বদলি – বারবার দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ব্রাত্য বসু দ্বিতীয় বার শিক্ষামন্ত্রী হওয়ার পর শিক্ষক সমাজের মধ্যে খুশির হাওয়া বয়ে যায়। কিন্তু বদলি নিয়ে যেভাবে সমাজ মাধ্যমে ক্ষোভ ঝরে পড়ছে তাতে অনেকের আশঙ্কা পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত হয়তো মুখ্যমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হতে পারে। নাহলে জন্ম নেবে আর এক চরম দুর্নীতির। ধীরে ধীরে ক্ষেত্র কিন্তু প্রস্তুত হচ্ছে।

Related posts

করোনা থাবা বসাতে পারেনি শিশুমনেঃ রথের দড়িতে টান…সামাজিক বিধি মেনে

E Zero Point

কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর জনসভা সালারে

E Zero Point

আদিবাসী পাড়ার রাস্তার দাবিতে, ধান রোপণ করে বিক্ষোভ

E Zero Point

মতামত দিন