07/10/2022 : 12:18 PM
BREAKING NEWS
আমার বাংলা

আজ প্রাক্তণ মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর প্রয়াণ দিবসঃ রাজনৈতিক জীবনের অজনা কথা

জিরো পয়েন্ট নিউজ ডেস্ক, কলকাতা, ১৭ জানুয়ারি ২০২২:


নিউমোনিয়ার সংক্রমণ ও তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে ১ জানুয়ারি ২০১০ পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু ভর্তি হয়েছিলেন কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে৷ শনিবার ১৬ জানুয়ারি রাতে তাঁর রক্তচাপ বিপদজনকভাবে কমতে শুরু করে৷ অস্থায়ী পেসমেকারের সাহায্যে হৃদযন্ত্র সচল রাখার শেষ চেষ্টা করেন চিকিত্সকরা৷ কিন্তু ১৭ জানুয়ারি রবিবার তাঁর হৃদযন্ত্র পুরোপুরি বিকল হয়ে যায় বেলা ১১টা ৪৭ মিনিটে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন৷

একটানা ২৩ বছর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জ্যোতি বসু। দশকের পর দশক শরিকদের নিয়ে চালিয়েছেন বামফ্রন্ট সরকার। বস্তুত কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে সংসদীয় ব্যবস্থায় এত বছরের সরকার চালানোর নজির বিশ্বে কোথাও নেই।

জ্যোতি বসু আর তাঁর ঠিক আগে যিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, সেই সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়ের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কথা সকলেরই জানা কিন্তু ব্যক্তিগত পর্যায়ে তাঁদের দুজনের মধ্যে ছিল ততটাই সখ্যতা। সেই নৈকট্য শব্দে বর্ণনা করা কঠিন। সেই সময়ে জ্যোতি বসু ছিলেন বিধানসভার এক সাধারণ সদস্য। বেতন পেতেন মাসে ২৫০ টাকা। সেটারও বেশীরভাগ অংশ তিনি পার্টির কাজে দিয়ে দিতেন। সিদ্ধার্থশঙ্কর যখন জ্যোতিবাবুর সঙ্গে দেখা করতে যেতেন, তখন মাঝে মাঝেই উঁকি মেরে আসতেন তাঁর রান্নাঘরের দিকে। সেদিন কী রান্না হয়েছে, সেটা এক নজরে দেখে নিতেন।একেবারেই সাধারণ রান্নাবান্না হত – ডাল, ভাত আর বেগুন ভাজা। পরে, যখন জ্যোতি বসু বিরোধী দলনেতা হলেন, তখন অবস্থার সামান্যই উন্নতি হয়েছিল। তাঁর বেতন বেড়ে হয়েছিল মাসে ৭৫০ টাকা। সেই সময়েও জ্যোতি বসুর স্ত্রী কমলা বসু মাঝে মাঝেই সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের কাছে অনুযোগ করতেন যে তিনি যেন তাঁর বন্ধুকে একটু বোঝান যে সংসারটা কীভাবে চলছে!

রাজনৈতিক বিরোধ থাকার স্বত্ত্বেও জ্যোতি বসু কংগ্রেসের আরেক বড় নেতা এ বি এ গণি খান চৌধুরীকে নিজের পরিবারের সদস্য বলেই মনে করতেন।সবাই যখন মি. খান চৌধুরীকে ‘বরকতদা’ বলে ডাকত, জ্যোতি বাবু তাঁকে ‘সাহেব’ বলেই সম্বোধন করতেন।মি. খানচৌধুরীর বোন প্রতি দুসপ্তাহে একবার করে বিরিয়ানি রান্না করে পাঠাতেন জ্যোতি বাবুকে। নিয়মের ব্যতিক্রম হলে জ্যোতি বসু ফোন করে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতেন, “কী পাঠাওনি কেন?”

বাম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি বলছিলেন, ১৯৯৩ সালে জ্যোতি বসুকে কিউবায় যান। একদিন রাতে যখন ঘুমোতে যাবেন, সেই সময়ে খবর আসে যে ফিদেল কাস্ত্রো দেখা করতে চান জ্যোতি বসুর সঙ্গে। সীতারাম ইয়েচুরি বর্তমানে সি পি আই এম দলের সাধারণ সম্পাদক। মি. ইয়েচুরিকে সঙ্গে নিয়ে জ্যোতিবাবু মাঝ রাতে ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে দেখা করতে পৌঁছলেন। “প্রায় দেড় ঘন্টা চলেছিল ওই বৈঠক। জ্যোতিবাবুকে ফিদেল একের পর এক প্রশ্ন করেই যাচ্ছিলেন। যেমন ভারতে কয়লার উৎপাদন কত, কোথায় কীরকম লোহা পাওয়া যায়, ইত্যাদি। একটা সময়ে জ্যোতিবাবু বাংলায় আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এ কি আমার ইন্টারভিউ নিচ্ছে না কি?”

Related posts

মেধাবী সোমেশ্বর দাসকে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা

E Zero Point

শান্তিনিকেতন সবুজ সংকল্প সোসাইটির কম্বল প্রদান ও বৃক্ষরোপন

E Zero Point

মেমারি পৌরসভার ১৪ নং ওয়ার্ডে শিক্ষক দিবস পালন

E Zero Point

মতামত দিন