01/02/2023 : 7:50 AM
জীবন শৈলীস্বাস্থ্য

রোজ কোমরব্যথায় ভুগছেন? জেনে নিন ১০টি উপায়ে কোমরব্যথা থেকে মুক্তি

জিরো পয়েন্ট বিশেষ প্রতিবেদন, ৩ ডিসেম্বর ২০২২:


কেউ হয়তো সারা দিন অফিস অথবা দোকানে বসে কাজ করেন অথবা সারাদিন কম্পিউটারের সামনে। কেউ আবার পিঠ বাঁকিয়ে বসে গৃহস্থালি কাজ করেন কিংবা কেউ ভারী জিনিস বহন করেন। কাজের সময় ভুল অঙ্গভঙ্গির কারণেই হোক, আর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক পরিবর্তনের কারণেই হোক, কোমরব্যথা হতেই পারে। পৃথিবীতে এমন মানুষ কমই আছেন যার জীবনে কখনও কোমরব্যথা হয়নি। এই ব্যথার উৎস বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হয় কোমরে অবস্থিত মাংসপেশি, হাড় আর স্নায়ু থেকে। আবার কোমরব্যথার উপসর্গগুলো ঠিক হয়ে আসতে সময় লাগে কয়েক সপ্তাহের মত। এক গবেষণায় জানা গেছে শতকরা ৪০—৯০ ভাগ মানুষের কোমরব্যথা ছয় সপ্তাহের মাথায় পুরোপুরি সেরে ওঠে।  কোমরব্যথা যখন ছয় সপ্তাহের কম থাকে তখন তাকে অ্যাকিউট ব্যথা বলা হয়। আর যখন ব্যথাটি ৬ সপ্তাহ বেশি থাকে তখন তাকে ডাক্তারী পরিভাষায় বলে ক্রনিক ব্যথা। আর এই ব্যথা যে কেবল কোমরেই থাকবে তা কিন্তু নয়। কোমর ব্যথা নিচে পায়ের দিকে যেতে পারে , আবার কোনো কোনো সময় পা থেকেও ওপরের দিকে আসতে পারে।

কোমরব্যথার কারণঃ

যদিও কোমরব্যথা প্রকৃত অর্থে কোনো রোগ নয়, এটা শরীরের ভেতরে ঘটতে থাকা ব্যাধির উপসর্গ মাত্র। কারণের ভিত্তিতে চিকিসাশাস্ত্রে মোটামুটি ৪ প্রকারে ভাগ করেছেন চিকিসকরা।

১. মেকানিক্যাল: পেশিতে টান খাওয়া, স্পাস্ম হওয়া, অস্টিও আর্থ্রাইটিস, মেরুদণ্ডের ক্ষয়, হাড়ের মধ্যবর্তী ডিস্ক জনিত সমস্যা এর প্রধান কারণের কয়েকটি।

২. ইনফ্লাম্যাটরি: এনকাইলজিং স্পন্ডাইলাইটিস , রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, রিঅ্যাকটিভ আর্থ্রাইটিস ইত্যাদি কারণে প্রায়শই কোমর ব্যথা হয়।

৩. ক্যানস্যারজনিত ব্যথা: শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্যানস্যার এক পর্যায়ে মেরুদণ্ডের হাড়ে ছড়িয়ে পড়লে এই ব্যথার সূত্রপাত ঘটে।

৪. ইনফেকশন: অস্টিওমাইলাইটিস কিংবা ফোঁড়া থেকেও ব্যথা হতে পারে।

কোমরব্যথা থেকে মুক্তির ১০টি উপায়

১. নিয়মিত ব্যায়াম করুনঃ  কাজ তো থাকবেই জীবনে কিন্তু প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিটের জন্য পছন্দমতো ব্যায়াম করুন; যেমন—হাঁটাচলা, জগিং, সাইকেল চালানো ইত্যাদি। কোমরের মাংসপেশির বল বাড়ানোর জন্য কিছু বিশেষ ব্যায়ামও আপনি করতে পারেন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে। স্ট্রেচিং, যোগার মাধ্যমেও কোমরের উপকার হতে পারে।

২. ঠান্ডা প্রয়োগ করুনঃ কোমরে আঘাত পেয়ে থাকলে তাতে গরম শেঁকের পরিবর্তে ঠান্ডা কিছুর প্রয়োগ করলে ব্যথা কমার সম্ভাবনা বেশি থাকে। বিশেষ করা ব্যথা পাওয়ার ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তা সবচেয়ে ভালো হয়।

৩. ওজন কমানঃ শরীরের ওজন সবসময়ে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। যদি আপনি মোটা হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে ওজন কমাতে হবে। কারণ অতিরিক্ত ওজনের কোমরের উপর বেশি চাপ সৃষ্টি করে এবং সেই চাপ সামাল না দিতে পেরে ব্যথা শুরু হয়।

৪. দেহভঙ্গি ঠিকঠাক রাখুনঃ আপনার অঙ্গবিন্যাসের প্রতি বিশেষ নজর দিন আজ থেকেই। সামনে ঝুঁকে থাকবেন না। আর লম্বা সময় ধরে কুঁজো হয়ে থাকবেন না একদমই।

৫. আরামদায়ক ম্যাট্রেসে ঘুমানঃ আপনি যে ম্যাট্রেসে ঘুমান সেটা যাতে অধিক শক্ত কিংবা নরম না হয় এ বিষয়ে খেয়াল রাখবেন। চেষ্টা করবেন মোটামুটি শক্ত সমান বিছানায় চিত হয়ে শোয়ার। ঘুমানোর অবস্থান প্রয়োজন মতো পাল্টে নিলেও ভালো হয়। হাঁটুর নিচে অথবা মধ্যখানে বালিশ রেখেও আপনি আপনার মাংসপেশিকে আরাম দিতে পারেন।

৬. ধূমপান বর্জন করুনঃ ধূমপান করা থেকে নিজেকে বিরত রাখার চেষ্টা করুন। বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে যে ধূমপানের ফলে অস্টিওপোরসিস অর্থাৎ হাড়ের ক্ষয় বৃদ্ধি পায়, সাথে কোমরব্যথাও বাড়ে।

৭. হাই হিল ব্যবহার করবেন নাঃ মেয়েদের প্রতি পরামর্শ থাকবে নিচু হিলের জুতা কিংবা স্যান্ডেল পরার। কারণ হাই হিলের জুতো কোমর ব্যথা সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ। বাচ্চাদের কোলে তুলে নেওয়ার সময় কোমর ঝুঁকবেন না।

৮. সাপোর্ট ব্যবহার করুনঃ একই জায়গায় বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে থাকবেন না। কোথাও বসলে অবশ্যই পিছনে পিঠের জন্য ভালো সাপোর্ট আছে কিনা তা নিশ্চিত হয়ে নিন। তা না হলে কোমরের উপর চাপ সৃষ্টি হয়ে ব্যথা শুরু হবে।

৯. বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখানঃ যদি ব্যথা গুরুতর রূপ ধারণ করে, একজন বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা গ্রহণ করুন এবং তার পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করুন।

১০. ফিজিওথেরাপি করানঃ যে ওষুধ খেলেই এই ব্যথা সেরে যাবে তা মোটেই নয়। ফিজিওথেরাপি হল কোমরব্যথার আধুনিক সমাধান।

দ্রষ্টব্যঃ বর্তমান সময়ে রোগ প্রতিরোধ এবং প্রতিকারের জন্য মানুষ ওষুধের উপর খুব বেশি নির্ভরশীল। কিন্তু প্রাকৃতিক প্রতিষেধকগুলো সম্পর্কে ধারণা, তার ব্যবহার জানা থাকলে ও সঠিক খাদ্য নির্বাচন এবং ব্যায়াম অসুখ বিসুখ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।  রোগের প্রতিকার নয়, প্রতিরোধ করা শিখতে হবে। আমাদের লক্ষ্য মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা। তবে তা কোন অবস্থাতেই চিকিৎসকের বিকল্প হিসাবে নয়। রোগ নির্ণয় এবং তার চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


প্রতিটি অঞ্চল পঞ্চায়েত এলাকায় ট্রেনি সাংবাদিক চাই।এখন অবৈতনিক, আগামীতে বৈতনিক ভাবনায় ভাবিত হয়ে হোয়াটসঅ্যাপে (7797331771) আবেদন করুন।

 

 

 

Related posts

স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমিয়ে দেবে এই একটি সবজি

E Zero Point

সন্ন্যাসী গোঁসাইজীর মহোৎসব মঙ্গলকোটে

E Zero Point

মিউকরমাইকোসিস থেকে নিরাপদে থাকুন, ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের নিয়মিত রক্তের শর্করা পর্যবেক্ষণ করে সজাগ থাকুন

E Zero Point

মতামত দিন