24/05/2024 : 11:54 AM
বিনোদন

জন্মদিনে খোলা চিঠি : প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী

আমাদের জয়যাত্রী সংঘের মাঠে প্যান্ডেল তৈরি হচ্ছে.. আর একটা প্যান্ডেল হচ্ছে গার্লস স্কুলে …দুই জায়গায় কি হবে না সিনেমা দেখানো হবে…কার কার…না….অমিতাভ বচ্চন আর মিঠুন চক্রবর্তী।ক্লাবে তখন নাকি দুটি দল…বড়দা…সব্যসাচী দা… বুবুল দা..শ্রীকান্ত দা.(অমিতাভ পন্থী)অন্যদিকে বাপি দা(রায়) ভক্তিদা…সুজিৎদা…রামদা(মিঠুন কাট চুল ছিল তখন(মিঠুন পন্থী)…এ বলে আমায় দেখ।ও বলে আমায় দেখ।আমি প্রথম দেখলাম আপনাকে নিয়ে মানুষের ভালোবাসা… পাগলামি…
যদিও আপনার সঙ্গে আমার পরিচয় শোলে সিনেমা দেখার মধ্যে দিয়ে…তখন সিনেমা কিছু না বুঝলেও বড়দা যেহেতু অমিতাভ ভক্ত …আমিও হয়ে গেলাম আপনার ফ্যান।
আজ আপনার সিনেমা নিয়ে আলোচনা করার কোনো ইচ্ছে আমার নেই …আপনাকে ভালোবাসি আপনার জীবন দর্শনের জন্য।কোনো একদিন আমি বড়দা কে জিজ্ঞেস করেছিলাম তোর আইডল কে বা তুই কাকে ফলো করিস।প্রথমে “বাবা” র নাম বলার পর দ্বিতীয় যে নাম টা বলেছিল।সেটা আপনার নাম।কেন আপনি ….
সেটা আমি এখন প্রফেশনাল লাইফে এসে বুঝতে পারি।
আপনি কি হেরে যাচ্ছেন…মনে হচ্ছে আমি কি ছিলাম আর এখন আমার কি অবস্থা…আমি যদি নতুন করে কিছু করবো ?যদি হেরে যাই লোকে কি বলবে…না বাবা থাক…ওই কোনো রকমে দিন কাটিয়ে নেব।তবু তো আমার ইমেজের মহত্ব বজায় থাকবে…তাহলে একবার এই মানুষের লড়াইয়ের গল্পটা শুনে বা পড়ে দেখবেন।
স্বপ্ন দেখেছিলেন …তৈরি করেছিলেন সেই সময় এর সব থেকে সাইন্টিফিক সিনেমা পরিচালনা কোম্পানি।সব কিছু ঢেলে দিয়েছিলেন এই কোম্পানি তৈরি করতে তবু হ্যাঁ তবু নিজের হাতে তৈরি করা কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে গেছে…কারণ তিনি তাঁর স্বপ্নকে আকাশে ওড়াতে গিয়ে কিছু কর্মচারী /প্রোফেশনাল বন্ধুকে পুরো দায়িত্ব দিয়েছিলেন…সঠিক ভাবে নজর দেননি।ভেবেছিলেন তারা সব কিছু ঠিক করে দেবেন …ফল স্বরূপ কোম্পানি পথে বসেছে।
আমায় একটা কাজ দেবে ভাই…হ্যাঁ ঠিক পড়ছেন…পরিচালক দের ফোন করছেন কে…বলিউডের বেতাজ বাদশা…কাজের জন্য…কেউ ফোন ধরেন নি…কেউ বলেছিলেন….কি রোল…চিকেন রোল…..দেখছি স্যার…. ফোন আর আসেনি….
সেই আপনি বড় পর্দার বেতাজ বাদশা হয়েও যখন টিভি তে মুখ দেখাবার কথা ঘোষণা করলেন…কেউ কেউ বললো কাজ নেই তো …টাকার জন্য যাচ্ছে…হ্যাঁ অবশ্যই টাকার জন্য গিয়েছিলেন…কিন্তু আপনার সেই ডায়লগ-“দেবীও ওর সানজানো চালিলে হাম ওর আপ মিলকে খেলতে হে কৌন বনেগা ক্রোড়পতি” “কম্পিউটার জি লক কিয়া জাইয়ে…. “সারা দেশ আপনার কণ্ঠের জাদুতে এক হয়ে গেল।সারা দেশে 9 টা বাজলেই অঘোষিত কারফিউ জারি হয়ে যেত মনে হয়… নিজেকে নতুন ভাবে আবার মানুষের সামনে নিয়ে এলেন…আমরা অবাক হয়ে দেখলাম…
তাই তো আপনি বলেছিলেন রিজেকশন তো জীবনের অঙ্গ। কোনও না কোনও স্টেজে লোকে আপনাকে ফিরিয়ে দেবেই। এ বার সেই ফিরিয়ে দেওয়াটাকে নিয়ে আপনি কী করবেন, কী ভাবে ব্যবহার করবেন, বাকি জীবনে সেটা একান্ত আপনার ব্যাপার। হয়তো সেই প্রত্যাখ্যান আপনাকে হুড়হুড় করে নীচে নামিয়ে দিল। কিন্তু থেমে থাকবেন না…আবার শুরু করুন।
ধীরুভাই আম্বানি এক অনুষ্ঠানে অমিতাভ কে সামনে এনে বলেছিলেন…এই মানুষটি কে আমি শ্রদ্ধা করি অভিনয়ের পাশাপাশি অন্য কারণে…এই মানুষটি নীচে পড়ে গিয়েছিল…সব শেষ হয়ে গিয়েছিলো…তারপর ও আবার নতুন করে উঠে দাঁড়িয়েছে…লড়াই কি ভাবে করতে হয় …ওনাকে দেখে শিখুন।
তাই তো আপনি বলেছিলেন আমি এটুকু বলতে পারি যে, ব্যর্থতা জীবনে খুব উপকারী। কারণ ব্যর্থতাই পথনির্দেশ করে। সাফল্য নয়। ব্যর্থতাই শেখায়। বোঝায় এই ভুলগুলো আবার কোরো না। তা হলে আবার প্রত্যাখ্যাত হবে। ব্যর্থতার আলোই জীবনের রাস্তা চলার পক্ষে আদর্শ।
জন্মদিনে ভালো থাকবেন। প্রণাম রইল
ইতি-
প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী
(বৈদ্যডাঙা, রসুলপুর, পূর্ব বর্ধমান)

Related posts

কিড জি মেমারির সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

E Zero Point

শিশির মঞ্চে পাপিয়া অধিকারীর ‘ফাগুনিয়া’ নাটক মন কাড়লো অনেকেরই

E Zero Point

আন্তর্জাতিক সম্মান এনে দিল বাংলা ছবি ‘খুর’

E Zero Point

মতামত দিন