মূল অসমিয়া : নীলিম কুমার
অনুবাদ : সত্যজিৎ চৌধুরী
সকল শিক্ষকই মন্দিরে বাস করে।
সকল শিক্ষকই ছাত্রদের আঙ্গুল ধরে
পার করিয়ে দেয় রাস্তা,
এবং প্রতি প্রভাতে ঘন্টা বাজায়।
অ-আ শেখায়
ক-খ শেখায়
মুখস্থ করায় নামতা
শ্রুতলিপি দেয়, শুদ্ধ করায় বানান
যেন আমাদের ভুল না হয় শুদ্ধ করে
লিখতে নিজের নাম,
এবং শুদ্ধ করে দিতে আমাদের হস্তাক্ষর
হাজিরা খাতায় অথবা চুক্তিপত্রে
তিনিই শেখান আমাদের
একের সাথে এক যোগ দিলে দুই
দুইয়ের থেকে দুই বিয়োগ দিলে শূন্য
তিনিই শেখান আমাদের শূন্যর কি অসীম মূল্য,
শূন্যের কি নিদারুন হাহাকার।
তিনিই শেখান আমাদের
সারাজীবন যোগ-বিয়োগ করতে
শূন্য থেকে বাঁচতে।
সেই শিক্ষকই শেখায় আমাদের
ভূগোলের ক্লাসে ম্যাপ আঁকতে
আঁকা-বাঁকা ম্যাপ থেকে দেশ বাঁচাতে
ইতিহাসের ক্লাসে তিনি শেখান –
পুরাতনের সাথে যোগ দিতে বর্তমান
বর্তমানের সাথে যোগ দিতে ভবিষ্যৎ।
তিনিই রচনাক্লাসে রচনা লিখতে শেখান-
‘জীবনের লক্ষ্য’
পরীক্ষার খাতায় নম্বর পেতে নয়
স্থির করতে ভবিষ্যতের স্বপ্ন……..
সেই শিক্ষককে দেখলে সকল ছাত্রই
সাইকেল থেকে নামে,
যেভাবে মন্দির দেখলে সকল মানুষের
মাথা নত হয়।
একদিন একজন শিক্ষক বলেছিল
ঐ পাহাড় দেখো, পাহাড় আমার সহকর্মী শিক্ষক
একদিন একজন শিক্ষক বলেছিল
সূর্য আমার সহকর্মী শিক্ষক
চাঁদকে দেখিয়ে বলেছিল
চাঁদ আমার সহকর্মী শিক্ষয়িত্রী।
এবং আকাশের দিকে দেখিয়ে বলেছিল
এই আকাশ তোমাদের ব্ল্যাকবোর্ড…
সেইদিনই বুঝেছিলাম
কোনো শিক্ষকই বাস করে না মন্দিরে
সকল শিক্ষকই মানুষ।
শুধু ওনাদের দৃষ্টি অনন্য
যে দৃষ্টিতে মানুষের আঙ্গুল ধরে
পার হতে শেখায় জীবনের কন্টকময় পথ..
যিনি আমাদের শেখান জীবনের এমন কঠিন মন্ত্র
সেই শিক্ষকের কাছে আমি মাথা নত করি
সেই শিক্ষকের কাছে আমি মাথা নত করি।♦
