24/05/2026 : 1:30 AM
আমার দেশ

তামিলনাড়ুর কালপক্কমে প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিয়্যাক্টর

ভারতের পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচি এক যুগান্তকারী সাফল্য পেল। গত ৬ এপ্রিল রাত ৮.২৫ মিনিটে ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিয়্যাক্টর প্রথম ক্রিটিক্যালিটি (নিয়ন্ত্রিত ফিশন চেইন বিক্রিয়ার সূচনা) অর্জন করেছে। দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা এবং দেশীয় পারমাণবিক প্রযুক্তি সংক্রান্ত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এ এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।

পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ সুরক্ষা সংক্রান্ত যে কঠোর বিধি প্রণয়ন করেছে, তার সমস্ত শর্তাবলী পূরণ করে পরমাণু শক্তি দপ্তরের সচিব ও উচ্চপদস্থ কর্তাদের উপস্থিতিতে এই ক্রিটিক্যালিটি অর্জন করা হয়েছে।

ফাস্ট ব্রিডার রিয়্যাক্টর ভারতে দীর্ঘমেয়াদী পারমাণবিক কৌশলের এক মূল ভিত্তি। এটি ইউরেনিয়াম-প্লুটোনিয়াম মিশ্র অক্সাইড জ্বালানি ব্যবহার করে। এর ভিতরে ইউরেনিয়াম ২৩৮-এর পুরু আস্তরণ থাকে। নিউট্রনগুলি ইউরেনিয়াম ২৩৮-কে প্লুটোনিয়াম ২৩৯-এ রূপান্তরিত করে। এর ফলে চুল্লিটি তার ব্যবহৃত জ্বালানির চেয়ে বেশি জ্বালানি উৎপাদন করতে সক্ষম হয়। এই চুল্লি থোরিয়াম ২৩২-কেও ব্যবহার করতে পারে। রূপান্তর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে থোরিয়াম ২৩২ ইউরেনিয়াম ২৩৩-এ পর্যবসিত হয়। এটিই ভারতের পরমাণু শক্তি কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

এই সাফল্য অর্জনের ফলে ভারত তার সীমিত ইউরেনিয়াম মজুত থেকে অনেক বেশি শক্তি আহরণ করতে পারবে এবং ভবিষ্যতে ব্যাপকভাবে থোরিয়াম ব্যবহারের প্রেক্ষাপট

ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের মধ্যে দিয়ে ভারত তার ত্রিস্তরীয় পরমাণু শক্তি কর্মসূচির পূর্ণ সদ্ব্যবহারের দিকে অনেকটা এগিয়ে গেল। ফাস্ট ব্রিডার প্রযুক্তি বর্তমানের প্রেসারাইজড হেভি ওয়াটার রিয়্যাক্টর এবং ভবিষ্যতের থোরিয়াম ভিত্তিক রিয়্যাক্টরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতু বন্ধনের কাজ করবে। দেশের বিপুল থোরিয়াম সম্পদকে দীর্ঘকালীন ভিত্তিতে দূষণমুক্ত জ্বালানি উৎপাদনের কাজে লাগানো যাবে।

Related posts

কোভিড-১৯ অতিমারী সত্ত্বেও ২০২০-২১ অর্থবর্ষে খাদি গ্রামীণ শিল্পোদ্যোগ কমিশন (কেভিআইসি)এর এযাবৎকালীন সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে

E Zero Point

রেস্তোরাঁয় আর যেতে হবে না! টিভির পর্দায় জিভ ঠেকালেই পাওয়া যাবে খাবারের স্বাদ !

E Zero Point

৮ ডিসেম্বর ভারত বনধঃ ভারত দেখতে চায়, অন্নদাতার পক্ষে কে ?

E Zero Point

মতামত দিন