জিরো পয়েন্ট নিউজ মেমারি, ১১ এপ্রিল ২০২৬ঃ
ইছাপুর প্লে গ্রাউন্ড থেকে মেমারি নতুন বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত রোড শো শেষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের কিছু অংশঃ আমি এই এলাম, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলাম, ৪ তারিখে বিসর্জনও আমিই দেব। আপনারা আমাদের ওপর যে ভালোবাসা উজাড় করে দিয়েছেন, আমি আমার লোকসভা কেন্দ্রের যেভাবে দেখাশোনা করি, রাসবিহারী হালদারের জয়ের মাধ্যমে মেমারি বিধানসভাকেও একইভাবে আগলে রাখার আশ্বাস দিচ্ছি।
* আজ এখানে পদযাত্রায় হাঁটার সময় আমি যে উন্মাদনা দেখলাম, তাতে আমি মেমারির মানুষের কাছে চিরঋণী। এটি নির্বাচনী প্রচার মনে হচ্ছে না, বরং একটি বিজয় মিছিল বলে মনে হচ্ছে। আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় এখানে ভোট। হাতে প্রায় ১৮ দিন সময় আছে, আর এখানকার মানুষ যে উৎসাহ দেখিয়েছেন, তাতে আমি নিশ্চিত যে বাংলার মানুষ বিজেপি প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত করতে এবং SIR, FIR ইত্যাদির মাধ্যমে আমাদের ভয় দেখানোর সব চেষ্টার গণতান্ত্রিক জবাব দিতে তৈরি। এটি কেবল ট্রেলার, আসল সিনেমা দেখা যাবে ৪ তারিখে।
* আমি এই এলাম, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলাম, ৪ তারিখে বিসর্জনও আমিই দেব। আপনারা আমাদের ওপর যে ভালোবাসা উজাড় করে দিয়েছেন, আমি আমার লোকসভা কেন্দ্রের যেভাবে দেখাশোনা করি, রাসবিহারী হালদারের জয়ের মাধ্যমে মেমারি বিধানসভাকেও একইভাবে আগলে রাখার আশ্বাস দিচ্ছি।
* যারা আমাদের সঙ্গে পথ চলেছেন, আমাদের হাতে এখন ১৫ দিন সময় আছে। আমরা এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছি—জনস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলির আধুনিকীকরণ থেকে শুরু করে কিষাণ মান্ডি, এমনকি শহরে স্টেডিয়াম এবং একটি দমকল কেন্দ্র তৈরি করেছি। আগে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে বর্ধমান থেকে ইঞ্জিন আনতে হত, যা আসতে প্রায় ৪০ মিনিট সময় লাগত। আগামী দিনগুলোতে আমি আরও আসব; কয়েকদিন আগে রায়নায় গিয়েছিলাম, এরপর জামালপুর ও ভাতারেও যাব। আপনারা যেখানেই ডাকবেন আমি সেখানেই যাব, কিন্তু ২৯ তারিখে তৃণমূল কংগ্রেসকে এমনভাবে ভোট দিন, যাতে এই নেতারা বাংলাকে ঠকানোর আগে ১০০ বার ভাবতে বাধ্য হয়।
* যারা বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য আমাদের ‘বাংলাদেশি’ বলে দাগিয়ে দিয়েছে, যারা আমাদের অপমান করেছে, বাংলা বলার জন্য জেলে ভরেছে, আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে অস্বীকার করেছে এবং আমাদের মনীষীদের অপমান করেছে, তারা আজ আমাদের আলু চাষিদের জন্য কুম্ভীরাশ্রু বিসর্জন দিচ্ছে। বিজেপি নেতাদের উদ্দেশে আমি আলু চাষিদের দুর্দশার কথা বলি। আমি যদি মিথ্যা বলি, তবে বিজেপি নেতারা আমার বিরুদ্ধে মামলা করে আমাকে জেলে ভরতে পারেন।
* তারা বলছে ক্ষমতায় এলে আলু চাষিদের জন্য অনেক কিছু করবে। গতকালই আমি এক সাংবাদিক সম্মেলনে উল্লেখ করেছি যে, বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে মাত্র এক বছরে ১০,৩০০-র বেশি কৃষক মারা গেছেন। এই বিজেপি সরকারের কালো কৃষি আইনের কারণে প্রায় ৭০০ কৃষক আত্মহত্যা করেছেন।
* যারা জমিতে চাষ করেন তারা জানেন ইউরিয়া সারের দাম কীভাবে বেড়েছে। এক বছর আগে এক বস্তার দাম ছিল ১,৪০০ টাকা, সেই একই সার (NPK ১০-২৬-২৬) এখন ১,৮৫০ টাকা এবং বস্তার গায়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ছবি আছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী আগে আলু রপ্তানির জন্য বিশেষ মালবাহী ট্রেনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ২০২১ সালে বাংলা নির্বাচনে হারার পর, ৯ জুলাই তারা সেটি বন্ধ করে দেয়। ট্রেনটি মাত্র এক মাস চলেছিল, এটাই এই দলের ভণ্ডামি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বাংলায় প্রতি বছর ৩০,০০০ কোটি টাকার কৃষি বাজেট চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন যে সারা বাংলায় ৫০টি নতুন কোল্ড স্টোরেজ বা হিমঘর স্থাপন করা হবে। এ বছর আলুর ফলন ভালো হয়েছে। যেখানে সাধারণত ১ বিঘা জমিতে ৫০-৬০ বস্তা আলু হয়, এবার সেখানে প্রায় ১২০ বস্তা হয়েছে। আগামী দিনে আলু বিক্রেতাদের জন্য ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি আমি দিচ্ছি, আর যদি আমি তা করতে না পারি, তবে আপনাদের মুখ দেখাব না। আলু বিক্রেতাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল অভাবী বিক্রি। আগামী দিনে উৎপাদন যতই হোক না কেন, একজন কৃষককেও অভাবে পড়ে ফসল বিক্রি করতে হবে না।
* আমাদের সরকার ভূমিহীন কৃষকদের দুই কিস্তিতে বছরে ৪,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছে। কৃষক বন্ধুর অধীনে আপনারা ১০,০০০ টাকা আর্থিক সাহায্য পাচ্ছেন। অন্যদিকে, মোদী সরকার গরীব মানুষের ন্যায্য আবাস, জল জীবন মিশন এবং ১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ করে দিয়েছে। যদি কোনও বিজেপি নেতা প্রমাণ করতে পারেন যে, তারা বর্ধমানের মানুষের উন্নয়নের জন্য এক পয়সাও দিয়েছে, তবে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। আমি কথা দিচ্ছি।
* যুব-সাথী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে শুরু করে কৃষক বন্ধু এবং পথশ্রী ২, ৩, ৪, বাংলার বাড়ি—আমাদের সরকার রাজ্যের মানুষের ওপর কোনও অতিরিক্ত বোঝা না চাপিয়েই সব করেছে। আর এখানকার বিজেপি প্রার্থী বিজেপির থেকে টাকা নিয়ে ভিডিও বানায়। যদিও তার বাড়ি মেমারি ১ ব্লকে, কিন্তু সে কলকাতাতেই থাকে। আর বিজেপি সেই ব্যক্তিকেই প্রার্থী করেছে। যাকে ২০২২ সালে কলকাতা পুলিশ গ্রেফতার করেছিল এবং ১৫ দিন জেলে ছিল। বিজেপি সেই ব্যক্তিকেই টিকিট দিয়েছে। তবে এটাও ঠিক যে বিজেপির কোনও যোগ্য নেতা নেই। সব গুন্ডা, অপরাধী আর দুষ্কৃতীরা এখন বিজেপিতে।
* মেমারি ছিল সিপিআইএমের ঘাঁটি, এটি বিনয় কোনারের এলাকা। আপনারা কি সেই কালো দিনগুলোর কথা ভুলে গেছেন? কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা বাড়ি থেকে বের হতে পারতেন না। ওরা পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ মেরে ফেলত, বাড়িঘর ভাঙচুর করত এবং আজ তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদারতা দেখছে। আমাদের সরকারের তৈরি করা রাস্তায় দাঁড়িয়েই আপনারা বড় বড় ভাষণ দিচ্ছেন এবং পরিবেশ উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছেন।
* বিনয় বাবু নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় বলেছিলেন যে, তারা আমাদের জীবনকে নরক বানিয়ে দেবেন। কিন্তু বাংলার মানুষ ২০১১ সালে দেখিয়ে দিয়েছিল, আসল নরক কাকে বলে। সিপিআই(এম)-র সমস্ত জল্লাদ আজ জার্সি বদলে গেরুয়া পতাকা হাতে নিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছে। কিন্তু আপনাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, তাদের জামানত যেন বাজেয়াপ্ত হয়। আমাদের সরকার আগামী ৫ বছরে ‘স্বনির্ভর বাংলা’ কেমন হয় তা দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আমাদের সমস্ত প্রকল্প চলতে থাকবে।
* গত মাত্র ২ বছরে, শুধুমাত্র এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে মেমারির প্রায় ১১ হাজার মানুষ ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের অধীনে ঘর পেয়েছেন। একইভাবে, আগামী ৫ বছরে আমরা কেন্দ্রের সাহায্য ছাড়াই বাকি মানুষের জন্য ঘরের ব্যবস্থা করব।
* আমরা রেলওয়ে ওভারব্রিজের প্রসঙ্গ তুলেছি। কিন্তু এটি আমাদের অধীনে নয় বরং কেন্দ্রের হাতে। আপনাদের যা যা দাবি আছে, আমি এখানকার নেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখব এবং প্রতিটি দাবি পূরণ করা নিশ্চিত করব।
* বিজেপি নেতারা এখন অনেক প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রচারে আসছেন কিন্তু বিজেপির প্রতিশ্রুতি হলো চিট ফান্ডের মতো। তার বদলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সরকারের ওপর আস্থা রাখুন। আমরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ৫০০ টাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম এবং এখন সাধারণ শ্রেণির মহিলারা ১,৫০০ টাকা এবং এসসি/এসটি মহিলারা ১,৭০০ টাকা পাচ্ছেন। আগামী দিনে এটি আরও বাড়বে। আমরা আপনাদের ১০০ দিনের কাজের ন্যায্য পাওনার জন্য লড়েছি। আপনারা আমাদের লড়াই দেখেছেন। তারা ইডি, সিবিআই বা অন্য কিছু দিয়ে আমাদের দমানোর অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু এটা গুজরাটের মাটি নয়। এটি বীর এবং বিপ্লবীদের মাটি, আর আপনারা আমাদের যত ভয় দেখাবেন, হুমকি দেবেন, আমরা তত শক্তিশালী হব। আপনারা যত মানুষের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন, আমাদের সংকল্প এবং প্রতিশ্রুতি ততই দৃঢ় হবে। এখানে আমি যে উদ্দীপনা দেখলাম তা যেন কমে না যায়।
* ১৩ তারিখে যখন সুপ্রিম কোর্টে SIR মামলার শুনানি হবে, আমরা গিয়ে তাদের বলব যে ট্রাইব্যুনাল ঘোষণার পরেও কোনো শুনানি শুরু হয়নি। ২৭ লক্ষ মানুষের নাম জোরপূর্বক কেটে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যাদের নাম কাটা গেছে তাদেরও দায়িত্ব আছে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে আরও ৩ জন করে ভোটার নিয়ে আসা যাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত হয়। আর এক মাসের মধ্যে যাদের নাম কাটা গেছে তারা তাদের অধিকার ফিরে পাবেন। কারণ ৪ মে জ্ঞানেশ কুমারের মেয়াদ শেষ হবে। এখন থেকে মাত্র ২৩ দিনের অপেক্ষা, তারপর নির্বাচন কমিশন হবে টাটা বাই বাই এবং জনগণের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।
* জ্ঞানেশ কুমার বুঝে গেছেন বাংলা আসলে কী জিনিস। জগদীপ ধনকড়ের কী অবস্থা হয়েছিল দেখেছিলেন তো? জ্ঞানেশ কুমারের অবস্থাও সেরকম হতে পারে। বিজেপি আমাদের মতো প্রকাশ্য রাজনীতি না করে তাদের বি এবং সি টিম নিয়ে গোপনে রাজনীতি করছে। ৪ তারিখে এটা নিশ্চিত করুন যেন বিজেপি হতভম্ব হয়ে যায়।
* এই ভোট হলো গত ৫ বছরে এই মানুষগুলো আমাদের ওপর যে হয়রানি ও অত্যাচার চালিয়েছে তার গণতান্ত্রিক প্রতিশোধ নেওয়ার ভোট। বিজেপি নেতারা দাবি করছেন যে, বাংলা বলে কোনো ভাষা নেই। বাংলার প্রতি কারো যদি বিন্দুমাত্র ভালোবাসা থাকে, তবে সে কখনই এই বিজেপিকে সমর্থন করতে পারে না। তারা যেভাবে আমাদের ওপর অত্যাচার করেছে—সেটা বাংলার প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ হোক, বা SIR, NRC/CAA, ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা কিংবা কেন্দ্রীয় সংস্থা—আগামী দিনে সবকিছুর জবাব দেওয়া হবে। এটা নিশ্চিত করুন যেন মেমারি থেকে তৃণমূল কংগ্রেস পূর্ব বর্ধমানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবধানে জয়ী হয়।
















