30/09/2022 : 8:00 AM
BREAKING NEWS
অন্যান্য

করোনাতে না মারা গেলেও অনাহারে বা অপুষ্টিতে মারা যাবে দরিদ্র মানুষ : প্রণব রায় চৌধুরী

গরীবেরা যে ভাবে বাস করে সেখানে সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ত্ব রাখা অসম্ভব । তাই একবার ছড়িয়ে পড়লে গরীবদের এ রোগ থেকে বাঁচানো যাবে না , দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে – আর তাদের বৃদ্ধ বৃদ্ধারা ও কোন রোগে ভোগা যুবক যুবতীরা অনেকেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে । এই লকডাউন তাদের কোন কাজে আসবে না ।

বিশেষ প্রতিবেদনঃ প্রণব রায় চৌধুরী


ত দিন যাচ্ছে তত আমার করোনা সংক্রান্ত – শুধু আমাদের দেশের – উদ্বেগ ও আশঙ্কা বেড়ে যাচ্ছে । আমরা কি করেছি , করছি ও করব , আমাদের যা করা উচিত তা কি আমরা করেছি , যা করেছি তাই কি একমাত্র করণীয় নাকি অন্য কোন বিকল্প পথ ভাবা ও করা উচিত ছিল ইত্যাদি নানা প্রশ্ন উঠে আসে কারণ দেশের লোকসংখ্যার ৫% এর মত ধনী বা অতি ধনী আর ৮০ % এর মত গরীব ও অতিগরীব । এই অতিগরীবদের বিরাট একটা অংশ দিন-আনে-দিন-খায় যাদের রোজকার বা আয়ের কোন সুরক্ষা নেই ও এদের একটা বড় অংশ আবার পরিযায়ী শ্রমিক । কি রকম যেন মনে হচ্ছে এই অতিগরীবদের কথা লকডাউন ঘোষণা করার সময় ঠিক মত ভাবা হয়নি যদিও ধনী ও অতি ধনীদের কথা – এমনকি মধ্যবিত্তদের কথা – ভাল ভাবে ভাবা হয়েছে । যাক , আর কিছু আলোচনার আগে একবার কিছু কিছু বাস্তব চিত্র ও অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান দেখা যাক।
১) পৃথিবীর প্রথম দশটা করোনা আক্রান্ত দেশের প্রতি ১০ লাখ লোকে কতজনের আজ পর্য্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে দেখা যাক
আমেরিকা – ৬৭২৫ , স্পেন – ৭৫৯৩, , ইটালি – ১৩৩৪৯,
জার্মানী – ১৫৭৩০, ফ্রান্স – ৩৪৩৬ , ইরান – ২৫১৪ , ইংল্যান্ড – ৪১৫৫ ,
তুরস্ক – ২৯৩৮ , বেলজিয়াম – ৭২৬৯ , সুইজারল্যান্ড – ২০৬২৫ ।
ভারতে আজ পর্য্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে – ১২১ ( ৫ই এপ্রিলে ছিল ৯৩ ) যার থেকে বলা যায় যদিও টেস্টের সংখ্যা বর্তমানে বেড়েছে কিন্তু লোকসংখ্যা ও জনঘনত্ত্বের নিরিখে অন্য দেশের তুলনায় তা অনেক কম ।
২) একটা রোগ হয়েছে কি হয়নি বা হলে কত লোকের হয়েছে ইত্যাদি তথ্য তখনই বলা যেতে পারে যখন যারা আক্রান্ত হয়েছে বা হবার সম্ভাবনা আছে তাদের সবার পরীক্ষা করা হয় । ভারতে যারা আক্রান্ত হয়েছে তাদের অনেকের পরীক্ষা হলেও , যারা সম্ভাব্য তাদের অনেকেরই পরীক্ষা হয়নি । তাই বর্তমানে কারা আক্রান্ত , কারা মৃত ইত্যাদি তথ্যগুলো বিশ্বাসযোগ্য না ।
৩) পরীক্ষা করাতে নাকি অন্ততঃ ৪৫০০ টাকা দিতে হয় । আমাদের দেশের খুব অল্প লোকেরই পরীক্ষা করানর জন্য – উপসর্গ খুবই গুরুতর নাহলে – এই পয়সা খরচ করার ক্ষমতা আছে । অতিগরীবদের তো খাবার টাকাই নেই তো কি পরীক্ষা করাবে । তাই ধনীদের পরীক্ষা হয়ত কিছু হচ্ছে কিন্তু গরীবদের পরীক্ষা হচ্ছে না বললেই চলে ।
৪) রোগটা এই দেশে সৃষ্ট হয়নি । বাস্তব চিত্র ও অভিজ্ঞতা বলে রোগটা বিদেশ থেকে এসেছে মানে কিছু বিদেশী ও কিছু দেশী যারা প্রায়ই বিদেশে নানা কাজে বা বেড়াতে যায় তারা এনেছে । অতিগরীবেদের – এমনকি গরীব বা মধ্যবিত্তদেরও – তাই এ রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা খুব কম – কেন না তারা বিদেশে তো যায়ই না দেশের যারা বিদেশে প্রায়ই যায় তাদের সাথেও তাদের যোগাযোগের সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে । আগে দরকার ছিল বিদেশীদের যারা এ দেশে এসেছে ও দেশী যারা বিদেশ থেকে ফিরেছে তাদের কোয়ারান্টাইন করে তাদের পরীক্ষা করা ও তাদের সাথে অন্যদের আলাদা করে রাখা । কিন্তু দেখা যাচ্ছে তা করা হয়নি । আন্তর্জাতিক – এমন কি দেশীয় – বিমান পরিষেবা ২৩ শে মার্চ অবধি চালান হয়েছে ও শেষের দিকে এইসব যাত্রীদের কোয়ারান্টিন ও পরীক্ষার ব্যাবস্থা করা হলেও প্রথম দিকে একেবারেই করা হয়নি । কেন হয়নি জানা নেই ।
৫) ২৪ শে মার্চ থেকে সারা দেশে লকডাউন চালু করা হয়েছে কিন্তু তার সঙ্গে সঙ্গে অতিগরীব ও পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য কোন বন্দোবস্তের কথা বলা হয়নি । তার দিন দুয়েক বাদে তাদের জন্য বিরাট আর্থিক সহায়তার প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হলেও তা আর তাদের কাজে লাগেনি ও লাগছে না । কেন না ঘরে থাকা অতিগরীব নানা কারণে রেশন ব্যাবস্থার পূর্ণ সুযোগ নিতে পারে না আর পরিযায়ী শ্রমিকেরা কাজ হারিয়ে ও সরকারের তরফে কোন সুরক্ষা না পেয়ে তার আগেই পথে বেরিয়ে পড়েছে বাড়ীতে ফেরার লক্ষ্যে। গাড়ী না পেয়ে তারা ৪০০/৫০০ মাইল হেঁটে যেতেও পেছপা হয়নি । পথে অবশ্য তাদের অনেককেই আটকে জোর করে কোয়ারান্টাইনে রেখে দেওয়া হয়েছে। তারা মনে করছে তাতে তাদের দুর্দশা আরও বেড়েছে ।
৬) বাস্তব চিত্র ও অভিজ্ঞতা এটাও বলছে রোগটা শিশু ও স্বাস্থ্যবান যুবক, যুবতীদের জন্য মোটেই মারাত্মক না , শুধু বয়স্ক লোকেদেরই কাছে এই রোগ মারণ ব্যাধি হিসাবে প্রতিভাত হচ্ছে । তাই বিদেশী ও দেশী লোকেদের যারা ঘনঘন বিদেশে যায় বা সবে বিদেশ থেকে এসেছে তাদের সাথে তাদের পরিবারের বয়স্ক লোকেদের আলাদা করা রাখলেই তো রোগটা সব গোষ্ঠীতে ছড়াবার ভয় থাকতা না । কেন জানি না তা করা হয়নি ।
৭) রোগটা নাকি এখনও ব্যাক্তিগত অবস্থায় রয়েছে – মানে স্টেজ ২ – আর খুব সম্ভাবনা রয়েছে সমষ্টিগত হয়ে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পরার – মানে স্টেজ ৩ ও ৪ । বুঝতে পারছি না যেখানে ধনীদের সংখ্যা খুব কম আর গরীবদের সংখ্যা অনেক বেশী ও ধনীরা সমাজে সমষ্টির সাথে বাস করে না , আলাদা আলাদা ভাবেই বাস করে তখন সমষ্টি ও সমাজে ছড়িয়ে পড়া মানে গরীবদের মধ্যেই ছড়িয়ে পাড়া । গরীবেরা যে ভাবে বাস করে সেখানে সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ত্ব রাখা অসম্ভব । তাই একবার ছড়িয়ে পড়লে গরীবদের এ রোগ থেকে বাঁচান যাবে না , দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে – তবে তাদেরই মাঝে , ধনীদের মাঝে না – আর তাদের বৃদ্ধ বৃদ্ধারা ও কোন রোগে ভোগা যুবক যুবতীরা অনেকেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে । এই লকডাউন তাদের কোন কাজে আসবে না । খুবই দুঃখের এইসব চিন্তা বোধহয় করাই হয়নি বা ইচ্ছেটাই ছিল তাদের মৃত্যু যত পারে হোক যা বিশ্বাস করতে মন চায় না ।
৮) শোনা যাচ্ছে লকডাউন নাকি ১৪ তারিখের পরে সব রাজ্যে বা বেশীর ভাগ রাজ্যেই বর্দ্ধিত হবে । তাহলে ধনীদের ও মধ্যবিত্তদের হয়ত চলে যাবে তবে এইসব গরীব ও অতিগরীবেরা করোনাতে না মরলেও অনাহারে মারা যাবে । একান্ত অনুরোধ সবাই – প্রশাসক ও চিকিৎসক উভয়েই – এই দিকটা বুঝে তাদের জন্য সুযোগ্য বন্দোবস্তো না করে যেন লকডাউন বর্দ্ধিত না করে । তাদের আয়ের পথ – যা এখন একদম বন্ধ -ও খাদ্যের পথ – যাও আংশিক বন্ধ – যেন এমন ভাবে খোলা থাকে যাতে তারা নিজেরাই নিজেদের বন্দোবস্তো করতে পারে । রেশন দোকান , সরকারী প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোন ব্যাক্তি বা গোষ্ঠীর ওপরে নির্ভর না করতে হয় ।
৯) এইসব চিন্তা ভাবনা ও প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেবার অনেক সময় কিন্তু প্রশাসন পেয়েছে । জানুয়ারীর শেষে করোনা রোগ ধরা পড়েছে , পৃথিবীর অনেক দেশে তা মারণ রোগ হিসাবে প্রকাশ পেয়েছে ফেব্রুয়ারীতে লকডাউন করা হয়েছে আকস্মিক ভাবে ৪ ঘন্টার ঘোষণার পরে ও বেশ দায়সারা ভেবে ।
এই চিন্তা অনুযায়ী লকডাউন বর্দ্ধিত করার – আগে অতিগরীব ও গরীবদের কথা চিন্তা না করে – মনে হয় হারাকিরি ।
করোনার বিরুদ্ধে সারাদেশে লকডাউনের মেয়াদ খুব সম্ভবত: আরও দু সপ্তাহ বাড়িয়ে ৩০শে এপ্রিল পর্য্যন্ত করা হচ্ছে । করা হচ্ছে নিশ্চই দেশের জমির জন্য না দেশের অধিবাসীদের জন্য ।
লকডাউন ঘোষণা করার সময় এই ৮০-৮৫ % লোকের অস্তিত্ত্বই স্বীকার করা হোল না কিন্তু কদিন বাদেই তাদের জন্য বিরাট আর্থিক প্রকল্প ঘোষিত হোল যদিও তা আর তাদের কাজে লাগল না । পরিযায়ী শ্রমিকেরা তখন ঘরে ফেরার ব্যাপারে ব্যাস্ত – অনেকেই ৪০০/৫০০ মাইল হেঁটেই – তাদের মাঝপথে জোর করে কোয়ারানটাইন ( ১৪ দিনের ) করা হল । কিছু খেতে পেল , কিছু অনাহারে বা অর্দ্ধাহারে থাকতে বাধ্য হোল । এদের অনেকেই করোনাতে না মারা গেলেও অনাহারে বা অপুষ্টিতে মারা যাবে – বা বলা যায় যেতে আরম্ভ করেছে ।
বিশেষজ্ঞদের কথা অবহেলা করে মনে হচ্ছে লকডাউন আরও বাড়ান হচ্ছে তাহলে এটা অন্ততঃ পরিস্কার হয়ে যাবে দেশের সরকার – যারা এদের ভোটেই গদীতে আসীন – এদের কথা মোটেই ভাবে না লোকদেখান কিছু ব্যাবস্থা নেওয়া ছাড়া ।

Related posts

ভিড় নিয়ন্ত্রণে এবার সশস্ত্র পুলিশ, কলকাতা সহ দুই জেলা নিয়ে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

E Zero Point

স্বস্তির খবর মধ্যবিত্তদেরঃ গ্যাসের দাম কমল একলাফে অনেকটাই!

E Zero Point

জেলায় জেলায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঝড় বৃষ্টির পূর্বাভাস

E Zero Point

মতামত দিন