28/02/2026 : 5:01 AM
অন্যান্য

ঢাকুরিয়ার বুদ্ধমন্দির

ডঃ সায়ন ভট্টাচার্য (অগ্নিমিত্র)


আজ যেখানে ঢাকুরিয়ায় আমরি হাসপাতাল, আগে সেখানে নিরাময় পলিক্লিনিক নামের এক সরকারি হাসপাতাল ছিল । সেখানে কোয়ার্টারে থাকতাম আমরা ।
ওখান থেকেই একটু এগিয়ে লেকের , মানে রবীন্দ্র সরোবরের রাস্তায় বাঁ দিকে ছিল জাপানী বুদ্ধমন্দির । মানে আজো সে আছে । .. দোতলা মন্দির, সামনে উঠোন ও বাগান, একপাশে শ্রমণদের থাকা ও খাওয়ার ঘর ।
ছোটবেলায় আমাদের ওটা প্রিয় জায়গা ছিল। বাগানে ঘুরতাম ও খেলতাম ; একটা সিংহমূর্তি ছিল, তার আড়ালে লুকোচুরি খেলা চলতো । বুড়ো একজন কেয়ারটেকার আমাদের ও অন্যান্য বাচ্চাদের চোখে চোখে রাখতো, পাছে আমরা কিছু গাছপালা নষ্ট করে দিই । বাগানে টগর, দোপাটি, গোলাপ ইত্যাদি গাছ ছিল অনেক ।
মন্দিরে উঠতে হবে অনেক সিঁড়ি পেরিয়ে । ভিতরে ভগবান বুদ্ধের বিরাট সৌম্য মূর্তি । তার নীচে মন্দির প্রতিষ্ঠাতার ছবি ।
রোজ সন্ধ্যায় মন্দিরে পূজা ও আরতি হতো । শ্রমণরা অনেকেই ছিলেন জাপানী; সুর করে গাইতেন -‘ না মু ম্যো হো রেঙ্গে ক্যো,। ঐ একই মন্ত্র জাপানী ভাষায় প্রবেশপথেও লেখা ছিল ।
আমরা বা অন্যরা ঐ সময়ে ভিতরে গেলে ছোট হাতলওলা ঢোল ডান্ডি দিয়ে বাজাতাম । সেগুলো ওখানেই রাখা থাকতো । .. শ্রমণরাও বিরাট দুটি ঢোল বাজাতেন ও ঐ মন্ত্র পড়তেন । তারপর আমাদের নকুলদানা প্রসাদ দিতেন । ঐজন্যই আমরা আরো যেতাম ওখানে ।
বিশেষ করে বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন দারুণ আয়োজন হতো । ভক্তরা ধূপ ও মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রার্থনা করতেন । অনেকে একটি সামনে রাখা ছোট বুদ্ধমূর্তিতে দুধ বা জল ঢালতেন । এই সব ভক্তদের মধ্যে যে সবাই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছিলেন তা নয় । বেশির ভাগই হিন্দু ছিলেন! . ..
তারপর নিরাময় পলিক্লিনিক বেসরকারিকরণ হলো, আমরাও অন্য পাড়ায় চলে গেলাম ; তবে স্মৃতিতে ঢাকুরিয়া বুদ্ধ মন্দির আজও প্রোজ্জ্বল!
বুদ্ধ পূর্ণিমার পুণ্য লগ্নে আজ সেকথাই স্মরণ করলাম।

Related posts

কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী দিল্লিতে নবম এবং দশম শ্রেণীর জন্য বিকল্প পাঠক্রমের ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেছেন

E Zero Point

অনলাইন রবীন্দ্র জয়ন্তী :~ লকডাউনে কবিপ্রণাম: অন্তিম পর্ব

E Zero Point

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রুখতে রেলমন্ত্রী শ্রী পীযূষ গোয়েল রেলের সব জোনের প্রস্তুতি সংক্রান্ত অগ্রগতি খতিয়ে দেখলেন

E Zero Point

মতামত দিন