16/09/2026 : 10:10 AM
অন্যান্য

ঢাকুরিয়ার বুদ্ধমন্দির

ডঃ সায়ন ভট্টাচার্য (অগ্নিমিত্র)


আজ যেখানে ঢাকুরিয়ায় আমরি হাসপাতাল, আগে সেখানে নিরাময় পলিক্লিনিক নামের এক সরকারি হাসপাতাল ছিল । সেখানে কোয়ার্টারে থাকতাম আমরা ।
ওখান থেকেই একটু এগিয়ে লেকের , মানে রবীন্দ্র সরোবরের রাস্তায় বাঁ দিকে ছিল জাপানী বুদ্ধমন্দির । মানে আজো সে আছে । .. দোতলা মন্দির, সামনে উঠোন ও বাগান, একপাশে শ্রমণদের থাকা ও খাওয়ার ঘর ।
ছোটবেলায় আমাদের ওটা প্রিয় জায়গা ছিল। বাগানে ঘুরতাম ও খেলতাম ; একটা সিংহমূর্তি ছিল, তার আড়ালে লুকোচুরি খেলা চলতো । বুড়ো একজন কেয়ারটেকার আমাদের ও অন্যান্য বাচ্চাদের চোখে চোখে রাখতো, পাছে আমরা কিছু গাছপালা নষ্ট করে দিই । বাগানে টগর, দোপাটি, গোলাপ ইত্যাদি গাছ ছিল অনেক ।
মন্দিরে উঠতে হবে অনেক সিঁড়ি পেরিয়ে । ভিতরে ভগবান বুদ্ধের বিরাট সৌম্য মূর্তি । তার নীচে মন্দির প্রতিষ্ঠাতার ছবি ।
রোজ সন্ধ্যায় মন্দিরে পূজা ও আরতি হতো । শ্রমণরা অনেকেই ছিলেন জাপানী; সুর করে গাইতেন -‘ না মু ম্যো হো রেঙ্গে ক্যো,। ঐ একই মন্ত্র জাপানী ভাষায় প্রবেশপথেও লেখা ছিল ।
আমরা বা অন্যরা ঐ সময়ে ভিতরে গেলে ছোট হাতলওলা ঢোল ডান্ডি দিয়ে বাজাতাম । সেগুলো ওখানেই রাখা থাকতো । .. শ্রমণরাও বিরাট দুটি ঢোল বাজাতেন ও ঐ মন্ত্র পড়তেন । তারপর আমাদের নকুলদানা প্রসাদ দিতেন । ঐজন্যই আমরা আরো যেতাম ওখানে ।
বিশেষ করে বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন দারুণ আয়োজন হতো । ভক্তরা ধূপ ও মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রার্থনা করতেন । অনেকে একটি সামনে রাখা ছোট বুদ্ধমূর্তিতে দুধ বা জল ঢালতেন । এই সব ভক্তদের মধ্যে যে সবাই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছিলেন তা নয় । বেশির ভাগই হিন্দু ছিলেন! . ..
তারপর নিরাময় পলিক্লিনিক বেসরকারিকরণ হলো, আমরাও অন্য পাড়ায় চলে গেলাম ; তবে স্মৃতিতে ঢাকুরিয়া বুদ্ধ মন্দির আজও প্রোজ্জ্বল!
বুদ্ধ পূর্ণিমার পুণ্য লগ্নে আজ সেকথাই স্মরণ করলাম।

Related posts

ভারতীয় রেল ২১শে মার্চ থেকে ১৪ই এপ্রিল, ২০২০ সময়কালের মধ্যে ভ্রমণের জন্য সমস্ত টিকিটের পুরো অর্থ ফেরত দেবে

ezeropoint +91 7797331771

বেসের উদ্যোগে গলসীতে ইফতার সামগ্রী বিতরণ

সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন কেতুগ্রামের করোনা আক্রান্ত মহিলা

ezeropoint +91 7797331771

মতামত দিন