নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান, ৯ জুনঃ আগামী সোমবার ১৫ জুন থেকে বর্ধমান জেলা আদালতে কাজকর্ম শুরু হবে। তবে, এখনই পুরোদমে কাজ হবে না। সপ্তাহে দু’দিন রোটেশনে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালতের কাজকর্ম হবে। তবে, জেলা জজের আদালতে জামিনের আবেদনের নিয়মিত শুনানি হবে। সিজেএম আদালতেও স্বাভাবিক কাজকর্ম হবে। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সপ্তাহে দু’দিন রোটেশনে কাজ হবে। সোমবার বার অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে জেলা জজের সঙ্গে আলোচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে, তার আগে আদালত কক্ষ ও চত্বর পুরো জীবাণুমুক্ত করতে হবে বলে বারের তরফে দাবি করা হয়েছে। বার অ্যাসোসিয়েশনের সহ সম্পাদক সঞ্জয় ঘোষ বলেন, সোমবার থেকে আদালতের কাজকর্ম শুরু হবে। তবে এখনই পুরোদমে কাজ হবে না। রোটেশন পদ্ধতিতে কাজকর্ম হবে। বিচার প্রার্থীদের সমস্যার কথা মাথায় রেখে আদালত চালুর প্রস্তাবে আমরা সায় দিয়েছি। পাশাপাশি আইনজীবী ও বিচার প্রার্থীরা যাতে করোনা সংক্রমণের শিকার না হন সেজন্য কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা জজকে বলা হয়েছে। আদালত চত্বরকে পুরোপুরি স্যানিটাইজ করতে হবে। আদালত কক্ষে বিচার প্রার্থীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করার কথাও বলা হয়েছে।
লক ডাউন ঘোষণার পর আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়। মাঝে মধ্যে অবকাশকালীন বেঞ্চে জামিনের আবেদনের শুনানি হয়েছে। সিজেএম আদালতে পুলিস ফাইল হয়েছে। কিন্তু, দেওয়ানি আদালতের কাজকর্ম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ফলে, বহু মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। বহু মহিলা খোরপোষ পাচ্ছেন না। বৃদ্ধ বাবা-মাও খোরপোষ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্ম না হওয়ায়। আনলক পর্ব চালু হতেই জেলা আদালতে স্বাভাবিক কাজকর্ম যাতে হয় সে ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ভিডিও কনফারেন্স ব্যবস্থায় বিচার প্রক্রিয়া চালু রাখার জন্য জেলা ও মহকুমা আদালতগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে হাইকোর্টের তরফে। যদিও বর্ধমান আদালতে এখনও ভিডিও কনফারেন্স ব্যবস্থায় শুনানি হয়নি। জেলা জজের সঙ্গে এদিনের বৈঠকের আগে বার অ্যাসোসিয়েশন আলোচনায় বসে। সেখানে সপ্তাহের সোম, বুধ ও শুক্রবার আদালত চালুর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
