আলেক শেখঃ টানা লকডাউন, আমফানের ঘূর্ণি ঝড়ে অর্থনৈতিক ভাবে মানুষ যখন বিপর্যস্ত, কাজ নেই, কোন রোজগার নেই। ঠিক সেই সময়ই পূর্বস্থলীর সহস্রাধিক মানুষ রোজগারের পথ খুঁজে পেলেন আমের আঁটির মধ্যে। অবিশ্বাস্য হলেও ধ্রুব সত্যি বলেই জানাচ্ছেন এই পেশার সাথে যুক্ত মানুষজন। সুস্বাদু আমের জন্য পূর্বস্থলী আগেই বিখ্যাত হয়েছে। গত বছর রাজ্য আম উৎসবে মালদা জেলাকে পিছুনে ফেলে সেরা জেলার শিরোপা অর্জন করেছে পূর্ব বর্ধমান জেলা। আর এই শিরোপা একমাত্র পূর্বস্থলী আমের জন্যই। এবার পূর্বস্থলীর আমের আঁটি পাড়ি জমাচ্ছে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা সহ বিভিন্ন রাজ্যেও। গত ২ বছর ধরে পূর্বস্থলী রেলস্টেশনের ৪ নং প্লাটফর্মের পাশে তৈরি হয় আমের আঁটির পাইকারি মার্কেট। এই মার্কেট থেকে দৈনিক দেড় থেকে দু লাখ আঁটি রপ্তানি হচ্ছে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা সহ বিহারের কাটিহার, ভাগলপুরে। সাধারণত নার্সারি মালিকরা আমের আঁটির ক্রেতা। এই আঁটি গাছের কলম তৈরির কাজে লাগে বলে জানান—পুর্বস্থলী-২ ব্লকের সহ কৃষি আধিকারিক জনার্দন ভট্টাচার্য্য। তিনি বলেন– নার্সারি মালিকরা ওই আঁটি সংগ্রহ করে প্রথমে গাছ তৈরি করেন। পরে তার মাথা কেটে গ্রাফটিং করা হয়। বিভিন্ন প্রজাতির আমের কাটিং জোড়া হয় ওই গাছে। ওটাই হল স্বল্প খরচে কলমের আমগাছ তৈরি করার সহজ পদ্ধতি। এই সহজ পদ্ধতির কথা যত প্রচারে আসছে, ততই আঁটির চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে, পাশাপাশি দামও বাড়তে শুরু করেছে। লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষজন ভোরের আলো ফুটতেই আমের আঁটি সংগ্রহে বেরিয়ে পড়ছেন। দিনের শেষে ওইগুলো বিক্রী করে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা তাদের রোজগার হচ্ছে। তবে এই ব্যবসা দু মাসের জন্য এই আমের মরসুমেই। লকডাউনের মধ্যে কর্মহীনদের জন্য কম কি ? স্থানীয় আড়ৎদার সুনীল মণ্ডল, রাজিন্দর রাজবংশী বলেন–আমের আঁটির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বিভিন্ন জেলার নার্সারি মালিকদের এখানে আঁটি সংগ্রহ করতে আসা দেখেই বোঝা যাচ্ছে। তাই এখানে আমের আঁটিকে ঘিরে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভবনা তৈরি হয়েছে। কারন এখানে যথেষ্ট কাঁচামালের উৎস রয়েছে। বৃহত্তর পূর্বস্থলী জুড়ে প্রায় হাজার খানেক আমবাগান আছে। এক একটি বাগানে ৫০০টা পর্যন্ত আমগাছ আছে। ঝড়ে পড়া বা পচা, দাগি আম বাগানের মধ্যেই পড়ে থাকে। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে আঁটির স্তর জমে যায়। আঁটি সংগ্রহে বাগান মালিকরা বাধা দেয় না। উপরুন্তু উৎসাহ দেন। পলাসপুলি, বেলগাছি, পূর্বস্থলীর, জাহান্নগরের বেশ কিছু বাগান মালিকরা বলেন– ভোরের আলো ফুটলেই নাবালক, মহিলারা আঁটি কুঁড়োতে আসে। আমরা নিষেধ করিনা। ওই আঁটি তুলে নিলে বাগান পরিস্কার থাকে। এই পূর্বস্থলীতেও প্রায় ২০০টি নার্সারি আছে, এখানেও আমের আঁটির প্রয়োজন হয়। তাদের আমের আঁটি সরবরাহ করার বাঁধা লোক আছে।
পূর্ববর্তী পোস্ট
পরের পোস্ট
