আলেক শেখ, পূর্বস্থলী, ১৬ জুলাইঃ তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির অভিযোগ যে অসত্য তা প্রমান হয়ে গেল সরকারি তদন্তে। তাই সভাপতির অভিযোগের ভিত্তিতে আমফানে ক্ষতিগ্রস্থদের যে ক্ষতিপূরণের টাকা আটকে গিয়েছিল, তা দূর হল বলেই মহকুমা শাসক জানান। এই বিচিত্র ঘটনাটি ঘটেছে কালনা মহকুমার কালনা-২ পঞ্চায়েত সমিতিতে। আমফান ঝড়ে ক্ষতিপূরণের তালিকা নিয়ে ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক এবং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়। প্রশাসনের তৈরি করা কালনা-২ নম্বর ব্লকে ১০৫ জনের ক্ষতিপূরণের তালিকা প্রস্তুত হলেও, সেই তালিকায় পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নীলিমা কপ্টী স্বাক্ষর করতে চাননি বলে অভিযোগ। ফলে ব্লক প্রশাসন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তাঁর স্বাক্ষর ছাড়াই ওই তালিকা ট্রেজারিতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্ত জানাজানি হতেই কালনা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নীলিমা ক্ষতিপূরণ প্রাপকদের তালিকা থেকে ১৫ জনের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করেন কালনা মহকুমা শাসকের নিকট। নীলিমাদেবীর অভিযোগ বিডিও তাঁর কর্মীদের দিয়ে তালিকা তৈরি করেছেন। আমি ওই কমিটিতে থাকা সত্বেও আমাকে জানানো হয়নি। কালনা-২ ব্লকের বিডিও মিলন দেবঘড়িয়া বলেন– ৮ টি গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে প্রথমে ৭৭৫ জনের পুরো ক্ষতি হয়েছে বলে রিপোর্ট এসেছিল। পরে যখন তালিকা চাওয়া হয় তখন ছবি সহ ১৮৬ জনের তালিকা পাওয়া যায়। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী অফিসারকে তদন্ত করতে পাঠানো হয়। পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনও পৃথকভাবে তদন্ত করে। দেখা যায় পুলিশ প্রশাসনের ও আমাদের অফিসারদের রিপোর্ট প্রায় একই এসেছে। ১০৫ জনের তালিকা তৈরি হয়েছে। এই তালিকার ১৫ জনের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছে সভাপতি কালনা মহকুমা শাসকের নিকট অভিযোগ জানান। এই অভিযোগের ভিত্তিতে কালনা মহকুমা শাসক ত্রি ম্যান্স প্রশাসনিক কমিটি তৈরি করে তদন্তে পাঠান। সেই তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার কালনা মহকুমা শাসক সুমন সৌরভ মহান্তি জানান– সভাপতির অভিযোগ ঠিক নয়। উনি যে ১৫ জনের নামে আপত্তি জানিয়ে আমফান ক্ষতিপূরণ প্রাপকদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন, সেই ১০৫ জনের তালিকায় ৮ জনের নাম নেই। বাকি ৭ জনও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য বলেই ত্রিম্যান্স কমিটির তদন্তে উঠে এসেছে। তাই তালিকার ১০৫ জনই ক্ষতিপূরণ পাবেন। আর আশা করা যায় আগামী সোমবারের মধ্যেই তালিকার সবাই ক্ষতিপূরণের টাকা পেয়ে যাবেন।
পরের পোস্ট
