07/08/2020 : 2:22 AM
বিদেশ

কে হবে বিশ্ব অভিভাবক ? ক্ষমতার ভরকেন্দ্রের পরিবর্তন…

বিশেষ প্রতিবেদনঃ চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ২০১৭ সালে দাভোস সম্মেলনে মুক্ত বাণিজ্যের পক্ষে ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আবেদন করেছিলেন কিন্তু তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান ছিল মুক্ত বাণিজ্যের বিরুদ্ধে ও জলবায়ু পরিবর্তন ফান্ডেরও বিরুদ্ধে। দাভোসের ওই সম্মেলনেই শি নিশ্চিত করেছিলেন যে, আন্তর্জাতিক ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক ভরকেন্দ্রের পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে যাচ্ছেন তিনি। তখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অনেক নেতাকেই শি’র পেছনে ভিড় করতে দেখা গিয়েছিল।

কিন্তু করোনাভাইরাস পরিস্থিতি অনেক হিসাব পাল্টে দিয়েছে। যাদের কয়েক বছর আগেও শি চিনপিংয়ের পাশে বা পেছনে দাঁড়াতে দেখা গেছে, তারা এখন দ্বিধান্বিত হয়ে পড়েছেন। তারা না পারছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে, না পারছেন শি চিনপিংয়ের দিকে যেতে। করোনাভাইরাসের উৎপত্তি থেকে শুরু করে পুরো বিষয়টি নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সংক্রান্ত বিতর্কে পড়ে অনেক দেশই চীন প্রশ্নে চুপ রয়েছে। আবার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন, করোনাভাইরাস নিয়ে হঠকারী সিদ্ধান্ত ছাড়াও বিভিন্ন ইস্যুতে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও বিদেশে ব্যাপক সমালোচিত।

হংকং নিয়ে চীনের সিদ্ধান্ত নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। চীনের এমন সিদ্ধান্তের পর গতকাল যুক্তরাজ্য পেইচিংয়ের সঙ্গে ফাইভ-জি পরিকল্পনা থেকে সরে আসে। নীতিনির্ধারকরা যুক্তরাজ্যের এমন সিদ্ধান্তকে চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পলিসির জয় হিসেবে দেখছেন। যুক্তরাজ্য ফাইভ-জি বাতিল ছাড়াও হংকংয়ের বাসিন্দাদের বিশেষ পাসপোর্ট সুবিধা দেওয়ার ঘোষণার পর পরিস্থিতি নতুন দিকে মোড় নিয়েছে।

প্রযুক্তিগত অংশীদারত্বমূলক একটি চুক্তি আছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে। এই পাঁচ দেশের মধ্যে চারটি দেশই এক যৌথ বিবৃতিতে হংকং ইস্যুতে চীনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। একমাত্র নিউজিল্যান্ডকে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে দেখা যায়নি। অস্ট্রেলিয়া তো হংকংয়ের সঙ্গে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তিও বাতিল করে দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিক জোসেপ বোরেল গত সোমবার ব্লকের পক্ষে সতর্কতা জানিয়ে বলেছেন, হংকং নিয়ে চীনের সিদ্ধান্তে তারা খুশি নন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে চলছে নির্বাচনী সময়। কয়েক মাস পরেই দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হওয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জরিপে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। তবে গতকাল ট্রাম্প নির্বাচনে তার দ্বিতীয় মেয়াদে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। গত মঙ্গলবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। আমরা দুর্দান্ত কাজ করেছি। এবং আমি মনে করি, নির্বাচনের দিনে আপনারা অবাক হওয়ার মতো কিছু সংখ্যা দেখতে পাবেন। পরের বছরটি হতে যাচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ অর্থবছর। আমরা যা করেছি তা এখন পর্যন্ত আর কেউ করতে পারেনি। আশা করি আমি আবারও প্রেসিডেন্ট হব।’ এবারের নির্বাচনে হারার আশঙ্কা আছে কি না সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘না, আমি তা মনে করি না। আমি মনে করি, আমাদের ভোটার সংখ্যা অনেক ভালো।’

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নীতির কারণে ইরান আগের তুলনায় ভালো অবস্থায় আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কিন্তু ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেনের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ওই অঞ্চলে ক্রমেই ইরান তার আধিপত্য হারাচ্ছে তাও দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে বৈশ্বিক ক্ষমতার অপর অংশীদার রাশিয়া ফের আফগানিস্তানের দিকে হাত বাড়িয়েছে। তালেবানদের সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ক্রেমলিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এছাড়া ইউরোপে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঝামেলায় আছে দেশটি। দেশটির প্রেসিডেন্ট পুতিন তার নিজের ক্ষমতা নিশ্চিত করলেও ভূ-রাজনৈতিক জায়গায় তিনি আগের তুলনায় অনেক প্রভাব হারিয়েছেন প্রতিবেশী দেশগুলোতে। (সংবাদ সংস্থা)

Related posts

চিংড়িতে করোনা শনাক্ত, আমদানি নিষিদ্ধ করল চীন

E Zero Point

করোনা মোকাবিলায় ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের মুখে পড়ে পদ ছাড়লেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী

E Zero Point

জিরো পয়েন্ট লিটল ম্যাগাজিন

E Zero Point

মতামত দিন