নিজস্ব সংবাদদাতা, কালনা : ১৭ জুলাইঃ
মাধ্যমিকে দ্বিতীয় স্থান পাওয়া শীর্ষেন্দুশেখর সাহা এবারকার করোনা আহহে এবছর উচ্চ মাধ্যমিকে মেধা তালিকা প্রকাশ করা না হলেও সম্ভাব্য প্রথম তিনজনের মধ্যে শীর্ষেন্দুশেখর সাহা স্থান রয়েছে। সে পেয়েছে ৪৯৭, বিষয় ভিত্তিক নম্বর হল– বাংলা-৯৮, ইংরেজি-৯৬, অঙ্ক-১০০, জীবন বিজ্ঞান-৯৯ এবং পদার্থ বিজ্ঞান–১০০। কালনার পূর্ব সাতগাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এই ছাত্রটির বাড়ি কালনা থানার পূর্ব সাতগাছিয়ার ঢাকা পাড়ায় । বাবা পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একজন সাব ইন্সপেক্টর। মা সীমা সাহা গৃহবধূ। তার স্বপ্ন ডাক্তার হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। ২০১৮ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৬৮৮ । বিষয় ভিত্তিক নম্বর বাংলা-৯৭, ইংরেজী-৯৭, অংক-১০০, পদার্থবিজ্ঞান- ৯৮, জীবনবিজ্ঞান-১০০, ইতিহাস-৯৬ এবং ভূগোল-১০০ । এই মেধাবী ছাত্র শীর্ষেন্দুশেখর সাহার বাড়ি কাটোয়া-ব্যান্ডেল রেল লাইনের গুপ্তিপাড়া রেল স্টেশনের সন্নিকট। আমরা যখন তাদের বাড়িতে পৌঁছেছিলাম তারিখটা ছিল ২০১৮ সালের ৬ই জুন। তখন তাদের বাড়ির সামনে উৎসাহী মানুষের ভিড় দেখেছিলাম। সেই ভিড় ঠেলে শীর্ষেন্দুর পড়ার ঘরে তার কাছে গেলাম। প্রথম প্রশ্নই ছিল– ভবিষ্যতে তুমি কি হতে চাও। সোজাসাপটা উত্তর এসেছিল এখনো কিছু ভাবেনি। এবার প্রশ্ন- এই সাফল্যের পিছনে কারা রয়েছেন ? তার এক কথায় উত্তর সবাই। ব্যাপারটা ক্লিয়ার করলেন তার বাবা সুধাংশুশেখর বাবু । তিনি জানান– ওর পড়াশোনার প্রতি খিদে প্রথম থেকেই ছিল। যে কোন বই পেলেই সে পড়তে শুরু করতো। প্রথম থেকেই সে মেধাবী ছাত্র। মাধ্যমিকে টেস্ট পরীক্ষায় ওর নম্বর উঠেছিল ৬৯৪ । ও আমার একমাত্র সন্তান । পড়াশোনার জন্য যা প্রয়োজন হয়েছে আমি জুগিয়ে গেছি মাত্র, তার থেকে বেশি কিছু নয় । ওর মা কিছুটা দেখিয়েছে, তারপর স্কুলের শিক্ষক, টিউটররা তো ছিলেনই । তার উপরেও শীর্ষেন্দুর একটা মৌলিক প্রচেষ্টা ছিল । পাঠ্য পুস্তক ছাড়াও বহু রেফারেন্স বই ও কিনেছে । এমনকি স্থানীয় লাইব্রেরীতে ও নিয়মিত যেত । ওর একটা ঝোঁক ছিল বিষয়টি পুরোপুরি না রপ্ত করা পর্যন্ত সাগরে মাণিক খোঁজার মতো হাতরে বেড়াতো । ওর সেই হাতরে বেড়ানোর উপাদানগুলো হল বই, স্কুলের শিক্ষক এবং টিউটররা । শীর্ষেন্দুর এই সাফল্যে খুশি পূর্ব সাতগাছিয়া তথা কালনার মানুষ ।
