27/09/2022 : 10:09 AM
BREAKING NEWS
আমার দেশ

কোভিড-১৯ সংক্রান্ত রোগ নির্ণয় সরঞ্জাম আবিষ্কার করল আইআইটি খড়গপুর

জিরো পয়েন্ট নিউজ ডেস্ক, দিল্লী, ২১ এপ্রিল ২০২১:


আইআইটি খড়গপুর আজ বাণিজ্যিকভাবে চালু করল সংস্থার ফ্ল্যাগশিপ রোগ নির্ণয় সংক্রান্ত যন্ত্র কোভিব়্যাপ। এই রোগ নির্ণয় প্রযুক্তিটি কোভিড-১৯ এবং এ ধরণের অন্যান্য সংক্রামক রোগগুলির জন্য এই যন্ত্রটি যথেষ্ট কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। প্রসঙ্গত, এই যন্ত্রটি উদ্ভাবনের পেছনে রয়েছেন অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী, ডঃ অরিন্দম মণ্ডল এবং তাদের গোষ্ঠীর বেশ কয়েকজন গবেষক। তারা যে যন্ত্রটি উদ্ভাবন করেছেন সেটির বাণিজ্যিকীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ছাড় পত্র পাওয়া গিয়েছে। ভারতের ব়্যাপিড ডায়গনস্টিক গ্রুপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যামার্টন হোল্ডিং-কে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এই সরঞ্জামটির সঙ্গে বিনামূল্যে একটি স্মার্ট ফোন  অ্যাপ থাকবে যার ফলে স্পষ্ট নির্ণয় সম্ভব হবে। ল্যাবের বাইরেও যদি কোনো অদক্ষ কর্মী পরীক্ষাটি করেন কোনো বিবরণ সম্বলিত পুস্তিকা ছাড়াই তাও তারা নির্দিধায় করে ফেলতে পারবেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যামার্টন হোল্ডিং গ্লোবাল রাইট পাওয়ার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার ফলে আইআইটি খড়গপুরে তৈরি কোভিব়্যাপ প্রযুক্তিটি ভারতীয় উপমহাদেশের বাইরে বিভিন্ন ভৌগলিক স্থানে ছড়িয়ে দেওয়া যায়। প্রসঙ্গত, কোভিড-১৯ এবং যক্ষা নির্ণয়ের জন্য কোভিব়্যাপ প্রযুক্তিটি গ্রহণ করেছে ব়্যাপিড ডায়াগনস্টিক-ও।

 

এই গবেষক দল বর্তমানে কোভিব়্যাপের আরও উন্নত ব্যবস্থা তৈরি করতে পেরেছে। যার ফলে বিভিন্ন ব্যাক্তির মধ্যে সার্স-কোভ-২ সংক্রমণ রয়েছে কি না তার সঠিক নির্ণয় করা যায়। উল্লেখ্য, মানুষের লালারসের নমুনা থেকে কোভিড-১৯ জীবাণু নির্ণয় করা হয়ে থাকে। এই অভিনব সরঞ্জামের সাহায্যে আরএমএ নির্যাশ বের করে আনার জন্য কোনো পৃথক ব্যবস্থার প্রয়োজন হয় না। কোনো রোগীর লালারস নমুনা পরীক্ষার জন্য কেবলমাত্র ৪৫ মিনিট লাগে এই অভিনব সরঞ্জামে। বিনামূল্যে স্মার্ট ফোন থাকায় নমুনা লালারস নমুনার পরীক্ষার ফলাফলও স্পষ্ট হয়।

আইআইটি খড়গপুর এছাড়াও ক্যাম্পাসের ভেতরে এই যন্ত্রটি ব্যবহারের জন্য প্রক্রয়া শুরু করেছে। আইআইটি খড়গপুরের অধিকর্তা ডঃ ভি কে তিওয়ারি জানিয়েছন, কোভিড-১৯ অতিমারীর দ্বিতীয় ঢেউ আরও মারাত্মক হওয়ার কারণে এই যন্ত্রটি বাণিজ্যিকভাবে চালু করার প্রয়াস চালু দেওয়া হয়েছে। কোভিব়্যাপের বাণিজ্যিকীকরণের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণভাবে এই রোগ নিয়ন্ত্রয় সরঞ্জামটিকে আরও জনপ্রিয় করে তোলার জন্য যন্ত্রটিকে তৃণমূল স্তরে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তীর ভাষায় রয়ায়নাগারের বাইরে অদক্ষ কর্মীদের সাহায্যে ফিল্ড ট্রায়াল চালানো হয় এর আগে। নমুনা সংগ্রহ থেকে রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ফলাফল জানার যে প্রয়াস চালানো হয়েছিল তা একটি বহনযোগ্য সরঞ্জামের সাহায্যে করা হয় যেখানে ন্যূনতম প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। তিনি এও বলেন, অতীতে এধরণের অন্যান্য পরীক্ষায় যে অন্তরায় সৃষ্টি হত তা কোভিব়্যাপ পরীক্ষা অতিক্রম করতে পেরেছে। প্রসঙ্গত, এই যন্ত্রটি পেটেন্ট পাওয়ার জন্য ভারতবর্ষে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং অন্যান্য দেশে প্রয়াস শুরু হয়ে গিয়েছে। সম্প্রতি বিদেশী সংস্থাকে এবিষয়ে ছাড়পত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও বাণিজ্যিকভাবে এই সরঞ্জামটিকে চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কোভিব়্যাপের লাইসেন্স ভারতীয় এবং বিদেশী সংস্থাগুলিকে দেওয়া ছাড়াও আইআইটি খড়গপুরের এই গবেষক দল বিভিন্ন শিল্প ক্ষেত্রে পরামর্শমূলক প্রকল্পগুলি থেকে আরও সহায়তা পাবে বলে আশা করা যায়।

এক কথায় বলা যায়, কোভিব়্যাপ যন্ত্রটি কোভিড-১৯ নির্ণয়ে কেবলমাত্র এককালীন সমাধান সূত্রই নয়, ভবিষ্যতেও বিশ্বব্যাপী সংক্রামক ব্যাধিগুলির সঙ্গে মোকাবিলা করার একটি যথাযথ অস্ত্র।

Related posts

সাধু-সন্ত, মহন্ত এবং আচার্যরা স্বাধীনতার বহ্নিশিখা প্রজ্বলিত রেখেছিলেন : প্রধানমন্ত্রী

E Zero Point

করোনার নতুন মন্ত্র : “যাহা বিমার ওহা উপচার”

E Zero Point

করোনায় স্কুল বন্ধ বলে অভিনব পদ্ধতিতে পাঠদান ঝাড়খণ্ডে

E Zero Point

মতামত দিন