21/09/2021 : 2:15 AM
BREAKING NEWS
জীবন শৈলী স্বাস্থ্য

১৪ ই জুন – বিশ্ব রক্তদাতা দিবস -রক্ত দান জীবন দান


সন্দীপন সরকার


প্রতি বছর ১৪ জুন বিশ্বব্যাপী ‘বিশ্ব রক্তদাতা দিবস’ পালিত হয়। এই দিবসটি উদযাপনের উদ্দেশ্য হল, রক্তদান সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া এবং যারা স্বেচ্ছায় রক্তদান করে লাখ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচাচ্ছেন তাদের ও সাধারণ জনগণকে রক্তদানে উৎসাহিত করা। এছাড়া, স্বেচ্ছায় যারা রক্ত ​​দান করেন তাদেরকে এই দিনটিতে ধন্যবাদও জানানো হয়। তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক, রক্তদানের বিশেষ সুবিধা কী কী?
বিশ্ব রক্তদাতা দিবস। ওজন হ্রাস করে এবং হৃদরোগ থেকে মুক্তি দেয়, দেখে নিন রক্তদানের উপকারিতা

🩸 ওজন কমানো
নিয়মিত রক্তদান করার ফলে ওজন হ্রাস করতে সহায়তা করে এবং ফিটনেসের উন্নতি হয়। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, ৪৫০ মিলিলিটার রক্তদান করলে আপনার দেহের ৬৫০ ক্যালোরি হ্রাস হয়। তবে, আপনার ওজন হ্রাস করার উদ্দেশ্যে এটি করা একদমই উচিত নয়। যেকোনও প্রকার স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সমস্যা এড়ানোর জন্য, রক্ত ​​দেওয়ার আগে দয়া করে ডাক্তারের কাছে চেকআপ করান।

🩸 হিমোক্রোমাটোসিস প্রতিরোধ করে
রক্ত দানের মাধ্যমে, আপনি হিমোক্রোমাটোসিসের ঝুঁকি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারেন। দেহে অতিরিক্ত লৌহের উপস্থিতিতে এই রোগ হয়। এই রোগে লৌহ বা আয়রন বিভিন্ন অঙ্গে জমা হতে থাকে, এমনকি হার্টেও। নিয়মিত রক্তদানের ফলে শরীরে আয়রনের অতিরিক্ত মাত্রা হ্রাস হয়, যা হিমোক্রোমাটোসিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য উপকারি হতে পারে।

🩸 হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে
রক্তদানের ফলে শরীরে প্রয়োজনীয় পরিমাণ আয়রন বজায় রাখতে সহায়তা করে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে। এছাড়াও, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ইত্যাদির ঝুঁকি হ্রাস করে।

🩸 লিভার এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করে
দেহে থাকা আয়রনের অতিরিক্ত মাত্রা, ক্যান্সারের ঝুঁকির সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। এইজন্য রক্তদানের মাধ্যমে আপনি শরীরে আয়রনের একটি স্বাস্থ্যকর মাত্রা বজায় রাখতে পারেন, যা ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমায়। এছাড়া, লিভার সম্পর্কিত রোগের ঝুঁকিও হ্রাস পায়।

🩸 মানসিক শান্তি
রক্তদান করার মাধ্যমে আপনি মানসিক শান্তি পেতে পারেন। আপনার রক্তদান অনেক রোগীর জীবন বাঁচাতে পারে। তাই, প্রতিটি সুস্থ ব্যক্তির তিন মাস অন্তর রক্তদান করা উচিত।

রক্তদানের আগে ও পরে কী করবেন?
আত্মীয়-স্বজন কিংবা মানবতার সেবায় এগিয়ে আসতে আমাদের মধ্যে অনেকেই (প্রাপ্তবয়স্ক) স্বেচ্ছায় রক্ত দিয়ে থাকেন। কিন্তু শুধু রক্ত দিলেই তো চলবে না, রক্ত দেয়ার ফলে রক্তদাতার যেনো শারীরিক কোনো সমস্যা না হয় সেদিকে নজর রাখাও প্রয়োজন। অন্যথায় রক্তদাতা সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই স্বাস্থ ঠিক রাখার জন্য রক্ত দেয়ার পূর্বে এবং পরে একজন রক্তদাতার বিশেষ কিছু কাজ করা উচিত। চলুন এবার দেখা নেওয়া যাক কি কি কাজ করতে হবে-

♦️রক্ত দেওয়ার আগে করনীয়:

১. রক্তদাতা যদি কোনো কারণে অসুস্থবোধ করেন তবে সেদিনের মতো রক্ত দেয়া থেকে বিরত থাকুন।

২. রক্ত দেয়ার আগে পুষ্টিকর খাবার খেয়ে নিন, কিন্তু তৈলাক্ত কিছু খাবেন না।

৩. রক্ত দানের আগে প্রচুর পরিমাণে জল খাবেন। কমপক্ষে ২০০মিঃ লিঃ ।

৪. যেদিন রক্ত দেবেন তার আগের রাতে অনেকটা সময় ভালো করে ঘুমিয়ে নেবেন।

♦️রক্ত দেওয়ার পরে করনীয়:

১. অনেকটা সময় শুয়ে থাকবেন। হুট করে উঠে বসবেন না বা উঠে দাঁড়াবেন না।

২. প্রচুর পরিমাণে জল ও জল জাতীয় খাবার গ্রহণ করুন। এই ব্যাপারে মোটেও অবহেলা করবেন না।

৩. আয়রন, ফোলাইট, রিবোফ্লাবিন, ভিটামিন বি৬ সমৃদ্ধ খাবার যেমন লাল মাংস, মাছ, ডিম, কিশমিশ, কলা ইত্যাদি ধরণের খাবার বেশি করে খাবেন।

৪. কয়েক ঘণ্টার জন্য শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করা থেকে বিরত থাকুন এবং বেশ কিছুদিন সাধারণ সময়ের তুলনায় একটু কম পরিশ্রম করে বিশ্রাম নিন।

৫. রক্তদানের ৩/৪ মাস পর নতুন করে রক্ত দিতে পারবেন। এর আগে কোনেভাবেই পুনরায় রক্ত দেবেন না।

🩸রক্ত দেয়ার আগে যেসব বিষয় মানতে হয়:

বয়স ১৮
রক্তদাতার বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। আঠারো বছরের নিচের কেউ রক্ত দিতে পারবেন না। এছাড়া ওজনও থাকতে হবে ঠিকঠাক। কমপক্ষে ৪৫কেজি থাকতে হবে।

শারীরিক সুস্থতা
রক্ত দেয়ার প্রথম শর্ত হল রক্তদাতাকে অবশ্যই শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে। কোনো ব্যক্তি যদি সুস্থ না থাকেন তিনি রক্ত দিতে পারবেন না।

নিম্ন রক্তচাপ
যাদের নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে, তারা রক্তদান করতে পারবেন না। তাই রক্ত দেওয়ার সময় এই বিষয়টি লক্ষ্য রাখা দরকার। খুব বেশি বা খুব কম কোনটাই রক্তদানের ক্ষেত্রে সহায়ক নয়।

রক্তের হিমোগ্লোবিন
রক্তের হিমোগ্লোবিন ১২.৫-এর নিচে হলে রক্ত দেওয়া ঠিক নয়। এতে করে হার্টবিট বেড়ে যাওয়া, ক্লান্ত লাগা, চোখে ঝাঁপসা দেখা, মাথা ঘোরাসহ অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারেন।

অ্যান্টিবায়োটিক সেবন
কোন রোগে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনরত অবস্থায় থাকলে সে ক্ষেত্রে রক্তদান করা উচিত নয়। অ্যান্টিবায়োটিক সেবনকারী রোগী রক্তদান করলে তিনি শারীরিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। এস্পিরিণ জাতীয় অষুধ ৭২ ঘন্টা আগে বন্ধ রাখুন ।

পিরিয়ড ও গর্ভাবস্থা
মেয়েরা পিরিয়ড চলাকালীন রক্তদান করতে পারবেন না। কারণ এ সময় শরীর থেকে রক্ত প্রবাহিত হয়, শরীর দুর্বল থাকে তাই রক্ত দিলে শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া গর্ভাবস্থায় রক্তদান করতে পারবেন না।

দুর্ঘটনা বা অস্ত্রোপচার
রক্তদানের কাছাকাছি সময়ে কোন বড় দুর্ঘটনা বা অস্ত্রোপচার হয়ে থাকলে রক্তদান না করা বাঞ্ছনীয় । কারণ এ সময় আপনি শরীরিকভাবে রক্ত দেয়ার জন্য উপযুক্ত নন।

হাঁপানী রোগী
শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত রোগ অ্যাজমা বা হাঁপানি আছে এমন কেউ রক্ত দিতে পারবেন না। রক্ত দিলে হাঁপানি বেড়ে যেতে পারে।

রক্তদানে কোন শারীরিক ক্ষতি হয় না। তবে রক্তদানের ফলে অস্থিরতা, মাথা ঘোরানো, দুর্বলতার মতো ক্ষণস্থায়ী সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দুই গ্লাস জল বা জুস খেলে এই ভাব দূর হবে। আর পর্যাপ্ত ঘুম এবং খাবারে ডিম, দুধ খেতে পরামর্শ।


চিত্র সৌজন্যঃ সন্দীপন সরকার, ধমনী, আঁচল, লায়ন্স ক্লাব পান্ডুয়া

Related posts

তুলসি পূজন দিবস… হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি

E Zero Point

দুর্বল হ্যান্ডশেক ডায়াবেটিসের লক্ষণ: গবেষণা

E Zero Point

পুরীতে জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা, আক্ষেপ-মন খারাপ অসংখ্য ভক্তদের

E Zero Point

মতামত দিন