05/10/2022 : 1:31 PM
BREAKING NEWS
আমার বাংলাদক্ষিণ বঙ্গপূর্ব বর্ধমানমেমারি

মেমারিতে দলীয় কর্মীদের ক্ষোভের মুখে বিধায়ক

জিরো পয়েন্ট নিউজ, মেমারি,  ২১ নভেম্বর ২০২১:


শনিবার দলীয় কর্মী সমর্থকদের ক্ষোভের মুখে পড়লেন মেমারি বিধানসভার বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্য। পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি ১ নম্বর ব্লকের দলুইবাজার ২ নম্বর অঞ্চলে ভোটার লিস্টের কাজের ব্যাপারে একটি আলোচনা সভায় উপস্থিত হন মেমারি বিধানসভার বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্য। সেইসময় ঘরের ভিতরে আলোচনা সভা  চলাকালীন বাইরে স্থানীয় অসংখ্য তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সমর্থকরা দলীয় পতাকা হাতে বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্যের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

জানা যায় ঘটনার সূত্রপাত, গত কয়েক দিন আগে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি দ্বারা জেলা পরিষদের সদস্যা সীমা হালদার আক্রান্ত হন। যারা আক্রান্ত করেছিলেন তারা সকলে এলাকার বিজেপির কর্মী সমর্থক বলে পরিচিত- এমনটাই জানান স্থানীয় বিক্ষোভরত তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সমর্থকরা। এই ঘটনার পর দুই পক্ষের উপস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানও হয়। কিন্তু তার পরেও আক্রান্তকারী বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি পিন্টু মল্লিকের নেতৃত্বে  তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে মেমারি থানায় অভিযোগ করেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমূল কংগ্রেসের এক কর্মী জানান যে, যারা গত লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে ভোট প্রচার করেছিল এবং স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের অত্যাচার ও হুমকি দিয়েছিল তারা এখন বিধায়কের ঘনিষ্ঠ, তারা এখনো পর্যন্ত তৃণমূলে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানও করেনি। এমনকি তারা এখনও বিজেপির বিভিন্ন পদাধিকার ব্যক্তি। সেই সকল ব্যক্তিদের নিয়ে এদিন বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্য ভোটার লিস্টের কাজের ব্যাপারে আলোচনা সভা করেন। তাই এদিন বিধায়কের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা।

ঘটনাস্থলে দেখা যায় দলীয় পতাকা হাতে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য তারা বিধায়কের কাছে জানতে চান যে কেন প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হবে ?
কেন স্থানীয় দলীয় কোনো কর্মসূচির ব্যাপারে তারা ধোঁয়াশায় থাকবে? এ ব্যপারে তারা বিধায়কের কাছে জানতে চায়ছেন। বিক্ষোভকারীরা জানান, এই এলাকায় কোনদিনও তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল ছিল না। কিন্তু বিগতে কয়েকটি নির্বাচনে টিকিট বন্টন নিয়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে বলে দাবী করেন।

অন্যদিকে অসংখ্য কর্মী সমর্থকদের একত্রিত হওয়ার খবর পাওয়া মাত্রই পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে যাওয়ার আগেই এবং বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্যের নিরাপত্তার গুরুত্বকে সামনে রেখে, সেখানে হাজির হয় মেমারি থানার পুলিশ প্রশাসন। কর্মী ও বিধায়কের সাথে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

এব্যপারে টেলিফোনে বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আমাদের প্রতিনিধিকে জানান যে, তৃণমূল গণতান্ত্রিক দল, দলীয় কর্মীদের অধিকার আছে তাদের অভাব অভিযোগ জানানোর। স্থানীয় একটি বিষয়ের সমাধানের জন্য কর্মীরা আমার কাছে এসেছিল। তাদের অভাব অভিযোগ তিনি শুনেছেন এবং আগামী দিনে এই ব্যাপারে তিনি তাদের সাথে আলোচনায় বসবেন। তিনি আরও জানান এর সাথে এদিনের বৈঠকের কোন সম্পর্ক নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তৃণমূল কর্মী জানান যে, দলের মধ্য মতবিরোধ থাকতেই পারে, তা বলে সেটা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বলা উচিৎ নয়। আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিৎ, এইভাবে কর্মীদের একাংশকে ভুল বুঝিয়ে ক্ষোভ প্রদর্শন করা অনৈতিক।


Related posts

মঙ্গলকোটের সি.আই.ডি. – তৃণমূল নেতা খুনের ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে

E Zero Point

মূর্তি পুজোকে কেন্দ্র করে আদিবাসী সমাজের মধ্যে অশান্তিঃ মেমারির গৃহহীন পরিবারকে ফেরাল প্রশাসন

E Zero Point

তৃণমূল বিধায়ক শ্যামাপ্রসাদের প্রয়াণ দিবসে উপস্থিত, শুরু হয়েছে জল্পনা

E Zero Point

মতামত দিন