02/10/2022 : 3:24 PM
BREAKING NEWS
আমার বাংলাদক্ষিণ বঙ্গপূর্ব বর্ধমানমেমারি

অবিলম্বে স্কুল খোলার দাবীতে মেমারিতে মিছিল

জিরো পয়েন্ট নিউজ – নূর আহামেদ, মেমারি, ২৪ জানুয়ারি ২০২২:


বেশ কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে #অবিলম্বেস্কুলখুলুন হ্যাসট্যাগের মাধ্যমে প্রচার চলছিলো পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি বিভিন্ন ফেসবুকগ্রুপ ও প্রোফাইলে তারই ফলস্বরূপ রবিবার বিকাল ৩ টে নাগাদ মেমারি নতুন বাসষ্ট্যান্ড থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ বিরোধী গণ উদ্যোগে একটি মিছিল শুরু হয়। মিছিল মেমারি নতুন বাসষ্ট্যান্ডের নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তি স্থল থেকে হাসপাতাল মোড় হয়ে, ষ্টেশনবাজার রেলগেট, কৃষ্ণবাজার, নিউমার্কেট, বামুনপাড়া মোড় হয়ে মেমারি শহর পরিক্রমা করে নতুন বাসষ্ট্যান্ডে এসে শেষ হয়।

মেমারি শহরের মানুষ আজ দল-মত নির্বিশেষে সমাজের এই সংকটময় মুহূর্তে সব দ্বিধা দ্বন্দ্বকে সরিয়ে রেখে শিক্ষার সংকট মুক্তির লক্ষ্যে একজোট হয়ে মিছিলে পা মেলান। শিক্ষক থেকে অভিভাবক, ব্যবসায়ী থেকে সমাজসেবী, সাংবাদিক থেকে সামাজিক মাধ্যমের বেশকিছু পরিচিত মুখ এই মিছিলে পোষ্টার নিয়ে পরিক্রমা করেন। মিছিলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খোলার দাবী নিয়ে একটি প্রচার লিফলেট বিতরণ করা হয়।

শিক্ষক মানস রায় মিছিল চলাকালীন তার বক্তব্যে বলেন, যেখানে চারদিকে ভোট, খেলা, মেলা, রাজনৈতিক সমাবেশের আয়োজন, সবটাই চলছে সমান তালে সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন কোভিড নীতি মেনে চালু করা হচ্ছে না । শুধু নিষেধাজ্ঞা কেবল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দরজায়? তাই তাদের দাবি অবিলম্বে বিদ্যালয়ের দরজা পঠনপাঠনের জন্য খুলে দিতে হবে এবং সেটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব । না হলে আগামী দিনে যে শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

অভিভাবক রেশিমিন সুলতানা বলেন, করোনা পরিস্থিতে অনলাইন শিক্ষার পরিবেশ থাকুক কিন্ত স্কুলে যে সন্তানের মানসিক বিকাশ ঘটে তা বাড়িতে মেটানো যায় না। তাই কোভিড বিধি মেনে অবিলম্বে স্কুল খোলা হোক। এছাড়াও মিছিলে উপস্থিত সকলকে বলেন, আগামীতে এই গণ উদ্যোগ চলতে থাকুক।

সামাজিক ও বিজ্ঞান কর্মী অমিত বিশ্বাস জানান, আমাদের বুঝতে হবে চক্রান্তের জাল কোথায়? কেউ কেউ বলবেন বেশ তো চলছে অনলাইন ক্লাস। অসুবিধা কোথায়? আচ্ছা বলুন তো আমাদের মতো দরিদ্র দেশে কতজনের সামর্থ্য আছে এই শিক্ষা কেনার? বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তর প্রথম লকডাউনের শুরুতেই অনলাইন শিক্ষার নিদান হেঁকেছিল। পারল না কেন? পারা সম্ভব নয়। যে দেশের মানুষদের দু’বেলা দু’মুঠো আহার জোগাড় করতে হিমসিম খেতে হয়, যে দেশের শিশুদের অপুষ্টির ঘাটতি মেটাতে মিড ডে মিল দিতে হয়, সে দেশে সার্বিক অনলাইন শিক্ষা হাস্যকর বিলাসিতা!

সামজিক মাধ্যমে পরিচিত মুখ পার্থ রায় চৌধুরী বলেন, বাচ্চারা অনেকদিন ধরেই বন্দী আছে বাড়ীর ভিতরে। অবিলম্বে স্কুল খুলুন বলার চেয়ে অবিলম্বে স্কুলে পঠন পাঠন চালু হোক এই দাবী করছি। স্কুল অনেকদিন ধরেই খোলা, স্কুলে বই-খাতা-চাল-ডাল, ক্লাসে ভর্তি, সবুজসাথী-কন্যাশ্রী, মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিকের রেজিস্ট্রেশন-ফর্ম ফিলাপ সবই হচ্ছে স্কুলে গিয়ে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের ক্লাস হচ্ছে না। সকল ছাত্রছাত্রী তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুক।

সামাজিক মাধ্যমে ডাক দেওয়া এই মিছিলে দেখা গেল শিক্ষক- মানস রায়, সাগর হাজরা, সুমন কল্যাণ নায়ক, জ্যোতি মল্লিক, অশোক চক্রবর্তী, সামাজিক কর্মী অমিত বিশ্বাস, ব্যবসায়ী- বিপ্লব চন্দ্র, গৌতম কুন্ডু ছাড়াও সোস্যাল নেটওয়ার্কের বেশ কিছু পরিচিত মুখ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক।

 

Related posts

ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে স্বাধীনতা দিবসে পতাকা উত্তোলন

E Zero Point

সাতসকালে গৃহস্থ বাড়িতে ডাকাতি

E Zero Point

মানুষের পাশে করোনা সঙ্কটকালে, মেমারির মান্তু কাকা

E Zero Point

মতামত দিন