07/10/2022 : 10:59 AM
BREAKING NEWS
আমার দেশআমার বাংলাদক্ষিণ বঙ্গপূর্ব বর্ধমান

রক্তের ঘাটতি পূরণে দায় এড়াচ্ছে পূর্ব বর্ধমানেন বেসরকারী নার্সিং হোমগুলি

জিরো পয়েন্ট বিশেষ প্রতিবেদন১৪ জুন ২০২২:

সন্দীপন সরকার


১৪ ই জুন বিশ্ব রক্তদাতা দিবস। চারিদিকে তীব্র গরমে রক্তের চাহিদা তুংগে। পল্লীমঙ্গল সমিতি, ফুডিশ ক্লাব , আকাশ জামালপুর সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের সাধ্য মতন রক্তদান শিবির করে ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করছে। ভোট পরবর্তীতে রাজনৈতিক দলগুলিও শিবির করতে শুরু করেছে।

সম্প্রতি ব্লাড ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ রক্তসংকট মেটাতে জেলার বিভিন্ন সংগঠন , ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানদের নিয়ে আলোচনায় বসে। শীতকালে রক্তের ঘাটতি না থাকলেও গরমে চাহিদা কিভাবে মেটানো যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়। রাইস মিল সংগঠন সহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠন গুলি এগিয়ে এলেও রক্তের ঘাটতি পূরণে দায় এড়াচ্ছে বেসরকারী নার্সিং হোম গুলি। দেখা যাচ্ছে বর্ধমান শহরে কম বেশী ১১০টির মতন বেসরকারী নার্সিং হোম রয়েছে। প্রতি মাসে ব্লাড ব্যাংক থেকে প্রদেয় রক্তের আনুমানিক ১ তৃতীয়াংস ভাগ রক্ত বেসরকারী নার্সিং হোম গুলিতে ভর্তি রুগীদের দেওয়া হয়।

বর্ধমান মেডিকেল কলেজের সরকারী ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে, পরিসংখ্যান বলছে গত মে মাসে আনুমানিক বর্ধমানের সরকারী ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে রুগীদের জন্য সাপ্লাই হওয়া বিভিন্ন রকমের রক্তের পরিমাণ প্রায় ৫৫০০ বোতল। তার ভিতর বেসরকারী নার্সিং হোম গুলিতে ভর্তি রুগীদের দেওয়া হয়েছে আনুমানিক ২৪০০ বোতল। কিন্তু কোনো বেসরকারী নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষই রক্তদান নিয়ে কোনো রুপ সদর্থক পদক্ষেপ করছেনা। ১১০টি নার্সিং হোম প্রত্যেকে বছরে ৫০বোতলের ১টি করেও ক্যাম্প করলে বছরে আনুমানিক ৫৫০০ বোতল রক্ত সংগ্রহ হতে পারে। কিন্তু রক্তদান শিবির তো দুরের কথা রক্তদান নিয়ে সচেতনতা মূলক প্রচার অভিযান বা ক্যাম্পও চালায় না তারা। উল্টে অনেক নার্সিং হোম প্যারালাল ব্লাড ব্যাঙ্ক চালাচ্ছে বলে অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ।

কোনো রুগীর ১ বোতল রক্ত লাগলে ২ বোতলের রিক্যুইজেশন দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে অন্য কোনো রুগীর প্রয়োজনের সময় বেসরকারী প্যাথলজী সেন্টার গুলি থেকে টেস্ট করিয়ে সেই রক্ত বিক্রী করা হচ্ছে চড়া দামে। নার্সিং হোম গুলিতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত স্টাফ না থাকায় রিক্যুইজেশন এ অনেক সময় ভুল ভাল কথা লেখা হচ্ছে, আদতে “ফ্রেশ ব্লাড” কনসেপ্ট না থাকা সত্বেও রিক্যুইজেশন এ লেখা হচ্ছে ফ্রেশ ব্লাড প্রয়োজন। হয়রানী হচ্ছে সাধারণ মানুষ, অনেক দামে দালাল চক্রের ব্লাড ক্রেডিট কার্ড বিক্রী এখনও চলছে অনেক সময়। এই সব নানা সমস্যার সাথে রক্তের যোগানে ঘাটতি পূরণ এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ ব্লাড ব্যাঙ্ক এর কাছে।  সেই কাজে সবার সাথে বেসরকারী নার্সিং হোম গুলি যদি এগিয়ে আসে তাহলে বদলে যেতে পারে ছবিটা বলেই মত অনেকের। বিশ্বরক্তদান দিবসে তাই সকলে এগিয়ে আসুক এই দাবী উঠছে।

Related posts

পাঁচ দশকের বেশি সময়ে ভাড়াবাড়িতে কৈচর পুলিশ ফাঁড়ি

E Zero Point

রোজার উপকারিতা

E Zero Point

SSC SCAM: আবার এস এস সি ভবনে সিবিআই

E Zero Point

মতামত দিন