30/11/2022 : 9:28 AM
BREAKING NEWS
আমার বাংলাদক্ষিণ বঙ্গপূর্ব বর্ধমানমেমারি

পার্টি ফান্ডে ১ লক্ষ টাকা না দেওয়ায়, বাড়ি তৈরি্র কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ মেমারির তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে

জিরো পয়েন্ট নিউজ ডেস্ক, এম.কে হিমু, মেমারি,  ২৮ জুলাই ২০২২:


একদিকে যখন পার্থ চ্যাটার্জীর দুর্নীতি নিয়ে বিব্রত তৃণমূল কংগ্রেস ঠিক সেই সময় পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারিতে পার্টি ফান্ডের নামে ১ লক্ষ টাকা দাবী করার অভিযোগ মেমারি ১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি সন্দীপ প্রামাণিকের বিরুদ্ধে। ঘটনার সূত্রপাত ২২জুলাই। ঠিক ২১ শে জুলাইয়ের পরের দিন। মেমারি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন গোপগন্তার ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের রাধাকান্তপুর এলাকার বাসিন্দা গৌতম হাজরা। তিনি জানিয়েছেন, নিতাইগৌড় আশ্রমের বিপরীতে তিনি বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করছিলেন। স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা মেমারি ১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি সন্দীপ প্রামাণিক ফোন করে তার বাড়িতে ডেকে হুমকি দেন যে, আমি নাকি বেআইনি ভাবে ডোবা বুঝিয়ে বাড়ি তৈরি করছি। ১ লক্ষ টাকা পার্টি ফান্ডে দিলে কেউ টের পাবে না। না দিলে কাজ বন্ধ করে দেবে। আমি দাবী মতো টাকা দিইনি। তাই পঞ্চায়েতকে দিয়ে কাজ বন্ধ করিয়ে দিয়েছে জোর করে।

গৌতম হাজরা আরও জানান যে, বাড়ি তৈরির জন্য আমি পঞ্চায়েতে জমির কাগজ সহ সমস্ত কিছু জমা করেছিলাম। পঞ্চায়েত ইন্সপেকশন করে আমাকে টাকা জমা দেবার নির্দেশ দেওয়ার পর সেই মতন টাকা জমা করি, আমাকে বাড়ি তৈরীর অনুমতিও দেয় পঞ্চায়েত। কাজ শুরু হওয়ার পর হঠাৎ করে পঞ্চায়েতের কিছু কর্মীর উপর প্রভাব খাটিয়ে আমাকে হেনস্থা করা হচ্ছে সন্দীপ প্রামাণিক দ্বারা। এ ব্যপারে স্থানীয় উচ্চ তৃণমূল নেতৃত্বকে ব্যপারটা জানানোর পরই মেমারি থানায় লিখিত অভিযোগ করি।

জানা যায়, গৌতম হাজরার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে মেমারি থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। বর্ধমান দক্ষিণের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সুপ্রভাত চক্রবর্তী বলেন, ‘মেমারি থানায় অভিযোগ হওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে দেখে ২৫ তারিখে ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া, জোর করে কাজ বন্ধ করে দেওয়া ও তোলাবাজির ধারায় মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। বিএলআরও, পঞ্চায়েত সহ সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকেদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অভিযুক্ত মেমারি ১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সহ সভাপতি সন্দীপ প্রামাণিক বলেন, আমার নামে বদনাম করার একটা চক্রান্ত। সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা। গোপ গন্তার ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে রাধাকান্তপুর মৌজার ৬৬৪ নং দাগটি ডোবা হিসাবে রেকর্ডে আছে তাই কাজ বন্ধ করেছে পঞ্চায়েত। এখানে আমার সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই। তিনি আরও জানান, আমি রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার। রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী গৌতম হাজরা বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে প্রচার করেছেন। মমতা ব্যানার্জীর আদর্শে আমরা পথ চলি। পুলিশের তদন্তে সমগ্র বিষয়টি সামনে আসবে।

প্রসঙ্গগত উল্লেখ্য রাধাকান্তপুরের যে জায়গায় বাড়ি তৈরি করা নিয়ে অভিযোগ, সেখানে গিয়ে দেখা গেছে একই দাগ নম্বরে আরও বাড়ি তৈরি হয়েছে। সব গুলির ক্ষেত্রেই পঞ্চায়েতের অনুমতি দিয়েছে। তাহলে গৌতম হাজরার ক্ষেত্রে কাজ কেন বন্ধ হলো? আর যে কেউ অভিযোগ করলেই কি সেই অভিযোগের সঠিক অনুসন্ধান না করেই পঞ্চায়েত কাজ বন্ধ করে দিতে পারে? এ প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

অন্যদিকে এবছর ২১ জুলাইয়ের সভা মঞ্চ থেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন কেউ দলের নামে জোর করে টাকা চাইলে তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করুন। পুলিশ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। আর ঠিক তার পরের দিনই এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মেমারিতে।

Related posts

মেমারিতে প্রথম রাউন্ডে এগিয়েঃ ৪০২৪ ভোটে এগিয়ে তৃণমূল

E Zero Point

মেমারিতে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান শতাধিক বিজেপি কর্মীর

E Zero Point

এন.এস.এস. এর উদ্যোগে ক্লিননেশ ড্রাইভ

E Zero Point

মতামত দিন