জিরো পয়েন্ট নিউজ – সৈয়দ আবু জাফর, পূর্ব বর্ধমান, ১৫ মে ২০২৪ :
১৮১৮ সালের ১৫ ই মে বাঙ্গাল গেজেটি নামে দেশের মধ্যে প্রথম বাংলা সংবাদপত্র প্রকাশ করেছিলেন পূর্বস্থলী ২ নং ব্লকের পীলা অঞ্চলের বহড়া গ্রামের গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য। গঙ্গাকিশোরের জন্ম তারিখ না জানার জন্য সংবাদপত্রের তারিখ হিসেবেই ১৫ই মে প্রতি বছর গঙ্গাকিশোরকে স্মরণ করা হয় তাঁর জন্ম ভিটেয়।
তিনি তার প্রেস পূর্বস্থলীর বহড়ায় এনে স্থাপন করেন। তাই এই স্থানটির নাম এখনও ছাপাখানা ডাঙ্গা নামে পরিচিত।এখান থেকেই ছাপা হয় রায়গুনাকর ভারত চন্দ্রের অম্নদামঙ্গল। তাঁর লেখা বইগুলো হল এ গ্রামার ইন ইংলিশ এন্ড বেঙ্গলী। দায়ভাগ। গঙ্গা ভক্তিতরঙ্গিনী। চিকিৎসার্নব। দ্রব্যগুন। লক্ষীচরিত্র। চানক্য শ্লোক প্রভৃতি।
কালনার কবি ও লেখক পুলক মন্ডল লিখেছেন “উপেক্ষিত নায়ক গঙ্গাকিশোর”। এই বইটি গত বছর প্রকাশ পায় কলকাতা প্রেসক্লাবে।গঙ্গাকিশোর সম্পর্কে অনেক অজানা কথা এই বইটি থেকে জানা যাবে। ১৯৭৫ সালে দক্ষিনারন্জন বসু, দাশরথি তা এবং কাটোয়ার কয়েকজন গুনী মানুষ এই মহান ব্যাক্তির স্মরণ অনুষ্ঠানটি সূচনা করেন। সেই থেকে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়ে আসছে।
বুধবার এখানে গঙ্গাকিশোর স্মৃতিরক্ষা কমিটি ও পূর্বস্থলী ২ নং ব্লক, এখানকার পঞ্চায়েত মিলে এই অনুষ্ঠান করেছে।পূর্বস্থলী উত্তরের বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়,পীলা পঞ্চায়েত প্রধান অলোক ঘোষ, গঙ্গাকিশোর স্মৃতিরক্ষা কমিটির দ্বারকানাথ দাস, হীরা সেখ, সৈয়দ আবু জাফর, কালনা সাহিত্য মজলিশের সম্পাদক চন্দন দত্ত, লেখক পুলক মন্ডল গঙ্গাকিশোরের কাজ,তার জীবন নিয়ে আলোচনা করেন।
এখানে গঙ্গাকিশোরের জন্ম ভিটায় রয়েছে একটি প্রাচীন শিবমন্দির ও কালী মন্দির। এখানে এখনও নিত্য পুজো হয়।বিধায়ক তহবিলের অর্থে এখানে একটি পাকা ঘর নির্মান হয়েছে। এই ঘরে গঙ্গাকিশোরের লেখা বই এবং অন্য বইএর একটি পাঠাগার করার দাবী উঠেছে।শৌচালয়, পানীয় জলের ব্যবস্থার কথাও এই সভায় ওঠে। স্থানীয় মানুষকে আরো বেশি করে এই স্মরণ অনুষ্ঠানে আসার দাবী জানান হয়। এখানে গঙ্গাকিশোরের নামে প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে উঠেছে।কাটোয়া বাস ষ্ট্যান্ড ও বর্ধমান প্রেসক্লাব গঙ্গাকিশোরের নামে হয়েছে।নতুন প্রজন্ম গঙ্গাকিশোরকে যেন আরো জানতে পারে, ভুলে না যায় তার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ারও দাবী ওঠে এই স্মরণ অনুষ্ঠানে।





