01/06/2026 : 4:15 PM
অন্যান্য

আজ পবিত্র গুড ফ্রাইডে

বিশেষ প্রতিবেদনঃ গোটা বিশ্বজুড়ে করোনা করাল গ্রাসে আতঙ্কিত মানুষ। সমস্ত খ্রীষ্ট ধর্মাবলম্বীদের একটাই প্রার্থনা কমুক মহামারী, গুড ফ্রাইডে নিয়ে আসুক প্রভু যিশুর আশীর্বাদ।

একটা প্রশ্ন প্রায়ই ওঠে: খ্রিস্টের ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার দিনকে ‘গুড ফ্রাইডে’ কেন বলা হয় ? এমন যন্ত্রণাদায়ক অবসানের মধ্যে ‘শুভ’টা কী ? বস্তুত জার্মানিতে এবং অন্য কোথাও কোথাও খ্রিস্টধর্মের কিছু ধারায় এই দিনটির নাম ‘বেদনাময় শুক্রবার’। ইংরেজি নামটির একটি ব্যাখ্যা হল, এটি ‘গড’স ফ্রাইডে’র পরিবর্তিত রূপ। আবার, পবিত্র (‘হোলি’ বা ‘পায়াস’) অর্থে প্রাচীন ইংরেজিতে ‘গুড’ শব্দটি ব্যবহৃত হত, নামটা সেখান থেকেও এসে থাকতে পারে। এটিই ইস্টার পরবের প্রধান দিন। এই পর্বটি শেষ হয় ইস্টার সানডে’তে, যিশুর পুনরুত্থানে। ইস্টারের দিনক্ষণ নিয়ে এক কালে নানা মত ছিল, গোড়ায় ‘স্প্রিং ইকুইনক্স’ বা মহাবিষুব-এর সময় এই উৎসব পালন করা হত। মনে রাখতে হবে, খ্রিস্টধর্মের আদি পর্বের ইতিহাসে বিস্তর লোককাহিনি ও উপকথার ভিড়। প্রথমে ধরা হয়েছিল, যিশু ৩৩ খ্রিস্টাব্দে ক্রুশবিদ্ধ হন, তখন গুড ফ্রাইডে পালন করা হত ৩ এপ্রিল। স্যার আইজাক নিউটন গ্রহ-নক্ষত্রের গতিবিধি মেপে সময়টাকে ৩৪ খ্রিস্টাব্দে নিয়ে আসেন। এখন পশ্চিম ইউরোপের চার্চগুলি এই দিন স্থির করে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার মেনে, আর পূর্ব ইউরোপে অনুসরণ করা হয় জুলিয়ান ক্যালেন্ডার। দিনটা আলাদা হলেও এই পরবের বিশেষ প্রার্থনা এবং ‘মাস’ দুই ভূখণ্ডেই এক রকম। প্রকৃতপক্ষে, ইস্টার সানডের চল্লিশ দিন আগে শুরু হয় ‘লেন্ট’ পর্ব, অনেকে এই সময়টা উপবাস করেন।

ইস্টার পরবকে ঘিরে খ্রিস্টান দুনিয়ায় বিশাল আয়োজন ও খানাপিনা হয় বটে, তবে ইস্টার মানে কেবল খানাপিনা আর হুল্লোড় নয়, খ্রিস্টকে যে তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা দেওয়া হয়েছিল, ইস্টার তার ধারাও বহন করে চলেছে ‘প্যাশন’-এর মধ্য দিয়ে। খ্রিস্টের শেষ যাত্রা স্মরণ করে ফিলিপিন্স এবং মেক্সিকোয় মানুষ ভারী ক্রুশকাঠ বহন করে নিয়ে যান এবং নিজেদের বেত্রাঘাত করে চলেন যতক্ষণ না রক্তপাত ঘটে। অনেকে মাথায় কাঁটার মুকুটও পরেন। প্রাতিষ্ঠানিক খ্রিস্টধর্ম এই ধরনের আচার বন্ধ করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু সম্পূর্ণ সফল হয়নি। স্বভাবতই মনে পড়ে মহরমের কথা, মনে পড়ে চড়কের সময় বাণ-ফোঁড় কিংবা পিঠে শিক গেঁথে চক্রাকারে ঘোরার প্রথাও। আবার অনেক ক্যাথলিক দেশে বাইবেলের বিভিন্ন ঘটনা অনুসরণে তৈরি নানান ছবি ও মূর্তি নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়, যার সঙ্গে হিন্দুদের উৎসবের অদ্ভুত মিল আছে।

Related posts

কেমন আছে মেমারি সংলগ্ন গ্রাম গুলি? করোনা ভাইরাস তাদের জীবনে কি কোন ছাপ ফেলেছে?

E Zero Point

মেমারি ৯নং ওয়ার্ডে খাদ্যসামগ্রী দান

E Zero Point

করোনা ভাইরাস নিয়ে সচেতনতা মঙ্গলকোটে

E Zero Point

মতামত দিন