আলেক শেখ, কালনা, ১০জুনঃ একদিকে করোনা থেকে বাঁচতে সকলকে ঘরে থাকার, সুস্থ থাকার কথা বলা হচ্ছে, বলা হচ্ছে রাজনীতি না করার কথা, তখনই সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার অর্ডিন্যান্স জারি করে শ্রমিক, কৃষক সহ মেহনতি মানুষকে ভাতে মারতে চাইছে। এরই প্রতিবাদে বুধবার কালনা মকুমার চারটি ব্লকে সিটু ও কৃষক সভার উদ্যোগে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয় এবং অর্ডিন্যান্সের কপি পোড়ানো হয়। এই কর্মসূচি হয় কালনা-১ ব্লকের মধুপুর বাজারে, কালনা-২ ব্লকের সেনেরডাঙ্গা এবং বৈদ্যপুর, পূর্বস্থলী-২ ব্লক ও মন্তেশ্বর ব্লকের বিডিও অফিসে| বিক্ষোভ সমাবেশগুলিতে বক্তারা বলেন– করোনা মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্য ভাষনবাজী ছাড়া কিছু করেনি। কেন্দ্রের অপরিকল্পিত লকডাউন দেশের অর্থনীতি খাদের কিনারা থেকে খাদে ফেলে দিয়েছে। ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া মানুষের কি নিদারুণ দূর্দশা। সরকারের ভূমিকা নেই। নতুন করে না খেতে পাওয়া মানুষের সংখ্যা প্রতিদিন বেড়ে চলেছে। অসংখ্য মানুষ কর্মচ্যূত হয়েছে। শ্রমিকদের শোষন করার জন্য নিয়ে আসা হচ্ছে ১২ঘন্টা কাজের কালাআইন। কাজের নিরাপত্তা হনন করা হচ্ছে। সবই পরিচালিত হচ্ছে পুঁজিপতিদের স্বার্থে। তাই এই লকডাউনের মধ্যেও তাদের সম্পত্তি বেড়ে চলেছে। কিন্তু মেহনতি মানুষের হাতে নগদ তুলে না দিয়ে এই পুঁজিপতিদের ৬৮হাজার কোটি টাকা ঋণ ছাড় দেওয়া হয়েছে। এখন আবার তিনটি অর্ডিন্যান্স জারি করা হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্য আইন শিথিল করে মজুতদারদের হাতে কৃষকের ভাগ্য ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। আন্তঃরাজ্য পন্য আইন শিথিল করে সব মানুষের খাবারের নিরাপত্তা ধূলিসাৎ করা হচ্ছে। ই-ট্রেডিং লাইসেন্স এর মাধ্যমে আবার কৃষক সহ মেহনতি মানুষকে দাস প্রথার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
পূর্ববর্তী পোস্ট
