07/12/2022 : 9:52 AM
BREAKING NEWS
আমার বাংলাদক্ষিণ বঙ্গপূর্ব বর্ধমানমঙ্গলকোট

সিদ্দিকুল্লাহের প্রত্যাবর্তনে আর বিজেপির বাড়বাড়ন্তে দুশ্চিন্তায় জোড়াফুলের একাংশ

মোল্লা জসিমউদ্দিন, মঙ্গলকোটঃ ফের উত্তপ্ত হতে চলেছে পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট এলাকা । ইতিমধ্যেই শাসকদলের বিধায়ক তথা রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর বিজেপির অপপ্রচারের বিরুদ্ধে মঙ্গলকোটের নুতনহাটে সাংবাদিক সম্মেলন করা নিয়ে শাসক দলের ক্ষমতাসীন নেতৃত্বের শুরু হয়েছে মাথাব্যথা। তার উপর আবার সর্বভারতীয় বিজেপি সভাপতির অনলাইন প্রচার ঘিরে চলতি সপ্তাহে মঙ্গলকোটের চাণক অঞ্চলে দুই গেরুয়া ব্লক নেতার মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাসকদলের সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে। যদিও শাসকদলের তরফে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে গ্রাম্য বিবাদ বলে দাবি রাখা হয়েছে। অভিযোগ – পাল্টা অভিযোগ , পক্ষে বিপক্ষে যাই থাকুক ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে – ফের উত্তপ্ত হতে চলেছে মঙ্গলকোটের বিভিন্ন এলাকা। গত পঞ্চায়েত ভোটে দলীয় প্রার্থীর টিকিট থেকে মনোনয়ন নিয়ে শাসকদলের যে সশস্ত্র বিবাদ ঘটেছিল। তা কারও অজানা নয়৷ অভিযোগ, রাজ্যের মন্ত্রী মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী কে পুলিশি নিরাপত্তার অভাব দেখিয়ে একপ্রকার মঙ্গলকোট থেকে তাড়িয়েছিল দলের একাংশ। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা ভুলেন নি সিদ্দিকুল্লাহ! সময়ের পরিপেক্ষিতে এনআরসি বাতিলের বিরুদ্ধে তৃনমূলের সংখ্যালঘু মুখ হয়ে উঠেছেন ক্রমশ ৷ দিনরাত এক করে গোটা বাংলা চষে বেড়িয়েছেন সংখ্যালঘুদের একসুতোয় রাখার উদ্দেশ্যে। অনেকখানি সফলতা পেয়েছেন বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন । ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির বাড়বাড়ন্ত রুখতে তৃনমূলের হাতিয়ার সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী শীর্ষ নেতৃত্বর কাছ থেকে মঙ্গলকোটে হৃত সম্মান ফিরিয়ে আনার ছাড়পত্র পেয়েছেন বলে বিশস্ত সুত্রে প্রকাশ। যার ফলস্বরূপ গত ১০ জুন মঙ্গলকোটের নুতনহাটে সাংবাদিক সম্মেলন চালালেন বিজেপির অপপ্রচারের বিরুদ্ধে। যেসব বিধায়ক অনুগামীরা রাজনৈতিক লড়াই করতে বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় (গাঁজা পাচার, খুন সংক্রান্ত মামলা ) অভিযুক্ত হয়ে জেলবন্দি হয়েছে । তাদের জেলমুক্ত করতে অরাজনৈতিক প্লাটফর্মে বিধায়ক লড়াই শুরু করছেন বলে জানা গেছে। আর এতেই রাতের ঘুম উড়ে গেছে মঙ্গলকোট তৃণমূলের একাংশের। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে কে প্রার্থীপদ পাবে, তা নিয়ে শাসকদলের দুই চৌধুরীর লড়াই ফিফটি – ফিফটি হয়ে গেছে। যদিও সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী জানান – ” দল আমাকে সমস্ত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মঙ্গলকোটে থাকতে বলেছে “। অন্যদিকে কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপির বাংলা দখলের রণকৌশলে সর্বভারতীয় দলীয় সভাপতি অমিত শাহ অনলাইন প্রচারে ব্যাপক সাড়া পেয়ে মুখোমুখি লড়াইতে চলে এসেছে এই রাজ্যের গেরুয়া শিবির। বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক সংঘর্ষর ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলকোটও তার ব্যতিক্রম নয়। চাণক অঞ্চলে দুই বিজেপির দুই নেতার মাথা ফেটেছে। চাপা উত্তেজনা দেখা গেছে ওই এলাকায়। স্থানীয় থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে অস্থায়ী ক্যাম্প গড়েছে। করোনা পরিস্থিতি বিশেষত পরিযায়ী শ্রমিকদের বিক্ষোভ কে হাতিয়ার করে আসরে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব। একদা তৃনমূলের ‘নাম্বার টু’ অধুনা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা মুকুল রায় বিজেপির রাজ্য কমিটিতে নিজ অনুগামীদের ঠাঁই পাইয়ে দিয়ে বিক্ষুব্ধ তৃনমূল কর্মীদের মন জয় করে ফেলেছেন । নিজেও কেন্দ্রীয় পূর্ণ মন্ত্রী হতে পারেন? আর এতেই টগবগে মঙ্গলকোটের মুকুল অনুগামী বিজেপির কর্মী সমর্থকেরা। বিগত বাম জমানায় সিপিএমের হাতে খুন হওয়া তৃনমূল কর্মীদের বাড়িতে একমাত্র মুকুল রায় ছাড়া বড়মাপের কোন তৃণমূল নেতা কে তখন দেখা যেতনা মঙ্গলকোটের মাটিতে৷সেইসব হাজার হাজার তৃনমূল কর্মী সমর্থকেরা রয়েছেন মুকুল দার অপেক্ষায়। তাই সামগ্রিকভাবে বলা যায় একদিকে শাসকদলের দুই শিবিরের যুদ্ধের দামামা যেমন বেজেছে, তার উপর এই মুহূর্তে বাংলার বিরোধী দল বিজেপি মুখোমুখি রাজনৈতিক লড়াই অন্য মাত্রা আনতে চলেছে মঙ্গলকোটে।কাটমানি ফেরত নেওয়া নিয়ে পশ্চিম মঙ্গলকোটের চাণক সহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলে বিজেপি তাদের নিচুস্তরের সংগঠন বাড়িয়ে নেয়। সেসময় পরিস্থিতি এমন ছিল যে, তৃনমূলী গ্রাম প্রধানরা আত্মগোপন করেছিলেন। কেউ কেউ থানার আশেপাশে ঘরভাড়া নিয়েছিলেন জনরোষ থেকে বাঁচতে। করোনা মোকাবিলায় পরিযায়ী শ্রমিকদের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে না রেখে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার পেছনে তৃণমূল জনপ্রতিনিধিদের প্রতি ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। আর এই সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে আসরে নেমেছে বিজেপি। বিজেপি নেতা কার্তিক বাগ বলেন – ” পুলিশ দিয়ে আমাদের রোখা যাবেনা, আমাদের দলের লিগ্যাল সেলের কাছে অনুরোধ করছি আমাদের আইনী লড়াইয়ে সদাসক্রিয় থাকবার জন্য। যদিও শাসকদলের তরফে দলীয় কোন বিবাদ নেই নিজেদের মধ্যে বলে দাবি করা হয়েছে। পুলিশের দাবি – ‘আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে ‘।

Related posts

রাজ্য সরকারকে  কড়া ভৎসনাঃ পুজোর অনুদান  খরচে  গাইডলাইন  বেঁধে দিল কলকাতা  হাইকোর্ট

E Zero Point

জমানো অর্থ থেকে ১ লক্ষ টাকা দান শিক্ষিকার

E Zero Point

বর্ধমানের ৩৪ নং ওয়ার্ডে বৃক্ষরোপন

E Zero Point

মতামত দিন