জিরো পয়েন্ট নিউজ ডেস্ক, দিল্লী, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০:
অনন্তপুর এবং নতুন দিল্লীর মধ্যে দেশের দ্বিতীয় ও দক্ষিণ ভারতের প্রথম কিষাণ ট্রেনের যাত্রাপথের সূচনা হল আজ। কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ, গ্রমোন্নয়ন ও পঞ্চায়েতী রাজ মন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র সিং তোমর এবং অন্ধ্রপ্রেদেশের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী জগন মোহন রেড্ডি ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে এই ট্রেনের যাত্রাপথের সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে পৌরহিত্য করেন কেন্দ্রীয় রেল প্রতিমন্ত্রী শ্রী সুরেশ সি অঙ্গদি। এই কিষাণ ট্রেনটি দক্ষিণ-মধ্য রেলের অন্তর্গত গুনতাকাল বিভাগের অনন্তপুর থেকে দিল্লীর আদর্শনগরের মধ্যে চলবে। অনুষ্ঠানে শ্রী তোমর বলেন, এই ট্রেনের যাত্রাপথের সূচনার মধ্যে দিয়ে দেশের কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও বেশি মজবুত করে তুলবে। খুব সহজেই রাজ্যের জনপ্রিয় ফলগুলি দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে পৌঁছে যাবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী সবসময় ‘গ্রাম-গরিব-কৃষক’ এই তিন ক্ষেত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রত্যেক বছরের বাজেটেই কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতিকে মজবুত করতে এবং কৃষকদের আয় দ্বিগুন করার লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি বছরের বাজেটে কিষাণ ট্রেন এবং কিষাণ উড়ানের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। গত ৭ই আগস্ট মহারাষ্ট্রের দেবলালী এবং বিহারের দানাপুরের মধ্যে দেশের প্রথম কিষাণ ট্রেনের যাত্রাপথের সূচনা করা হয়েছিল। প্রথমদিকে সপ্তাহে একবার এই ট্রেন চালানো হলেও দিন দিন এর চাহিদা বাড়ায় এখন সপ্তাহে ২দিন করে এই ট্রেন চালানো হচ্ছে। অন্ধ্রপ্রদেশে ১ লক্ষ কোটি কৃষি পরিকাঠামো তহবিল গঠন এবং নতুন কৃষি আইন বাস্তবায়নের জন্য সন্তোষ ব্যাক্ত করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি বলেন, অনন্তপুরের ২ লক্ষ হেক্টরেরও বেশি জমিতে শাক-সবজি, ফলমূল চাষ হয়ে থাকে। এবার থেকে কিষাণ ট্রেনের মাধ্যমে এই সমস্ত কিছুই পৌঁছে যাবে দেশের অন্যপ্রান্তে। এতে ওই অঞ্চলের কৃষকরা লাভবান হবেন। খুব শীঘ্রই কিষাণ উড়ান পরিষেবা চালু করা হবে বলেও তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় রেল প্রতিমন্ত্রী সুরেশ সি অঙ্গদি বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই কিষাণ ট্রেন পরিষেবা চালু করা হয়েছে। কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান। কৃষকদের যাতে উৎপাদিত পণ্য পচে নষ্ট না হয়ে যায় এবং ফসলের সঠিক মূল্য পান তারজন্য এই বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে । এই পরিষেবা চালু হওয়ার ফলে কৃষি পণ্য রপ্তানী বৃদ্ধি পাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সহ কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষি কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শ্রী কৈলাশ চৌধুরী, শ্রী পুরুষোত্তম রুপালা সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনন্তপুর এবং নতুন দিল্লীর মধ্যে ২ হাজার ১৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ যাত্রাপথে এই কিষাণ ট্রেনে সময় লাগবে ৪০ ঘন্টা। এতে ১৪টি পার্সেল ভ্যান থাকছে। ৩৩২টন পণ্য বহনে সক্ষম এই ট্রেন। এদিন এই কিষাণ ট্রেনটি টমেটো, কলা, পেয়ারা, তরমুজ এবং আম নিয়ে যাত্রা করে। ট্রেনের মাধ্যমে এই ফলমূল পাঠানোয় খরচ যেমন একদিকে কম হবে তেমনই নষ্টের পরিমানও কমবে। এতে কৃষকরাই লাভবান হবেন।


