জিরো পয়েন্ট নিউজ – রক্তিম সিদ্ধান্ত, কান্দি, ১৫ নভেম্বর, ২০২০:
মুর্শিদাবাদের কান্দি মহকুমা অন্তর্গত খড়গ্রাম ব্লকের এড়োয়ালি গ্রামে চারশো বছরের প্রাচীন কালীপুজো একসাথে ১৩টি কালীপুজো পূজিত হন। মা কালী এখানে বিভিন্ন রুপে বিভিন্ন ভাবে পূজো করা হয় চতুভুজা মা কালীকে। তবে এবছর চিত্রটা একটু অন্যরকম। এবছর এই গ্রামে করোনা মহামারী মধ্যে পূজো চলছে । কোভিড সংক্রমণ মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবছর পূজো আয়োজন করেছে বিভিন্ন পরিবারের সদস্যরা। এই কালিপুজোর প্রতিস্ঠা করেন রাজা রামজীবন রায় আজ থেকে প্রায় চারশত বছর আগে। তাঁর রাজত্বকালে একটা রাজবাড়িতে একটিই কালিপুজো হত। কথিত আছে, কালীপুজো উপলক্ষে সারা রাজবাড়ি আলোয় ঝলমল করত, সমস্ত ধর্মের মানুষ নিমন্ত্রিত থাকত রাজবাড়িতে। শুধু গ্রামের মানুষ নন পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জায়গার প্রজারা রাজাদের গান শুনিয়ে, নাঁচ দেখিয়ে রাজাদের খুশি করে উপহার নিয়ে বাড়ি ফিরত। রাজা রামজীবন-ও ছিলেন প্রজাবৎসল। প্রজাদের মঙ্গল কামনায় তিনি ছাগ, মেষ ও মহিষ বলি দিতেন। কিন্তু কালের নিয়মে ভাগ হয়েছে রাজবংশ,বেড়েছে কালীর সংখ্যা। প্রথমে এই রাজপরিবার ‘রায় ।
রাজা রামজীবন এর তিনটি প্রপৌত্র ছিল-রাজা দেবদত্ত রায়চৌধুরী,রাজা ইন্দ্রমণি রায়চৌধুরী এবং রাজা শ্যামসুন্দর রায়চৌধুরী,এদের রাজবংশ যথাক্রমে বড়পাঁচআনি,ছোটো পাঁচানি এবং ছয়ানি রাজপরিবার নামে পরিচিত।
রাজপরিবার’ নামে পরিচিত থাকলেও রাজা রামজীবন রায় এর বংশধরেরা বিভিন্ন প্রজাবৎসল কাজ করবার জন্য ব্রিটিশদের থেকে ‘চৌধুরী’ উপাধি লাভ করেন, সেই থেকেই এই রাজপরিবার ‘রায়চৌধুরী রাজপরিবার’ নামে পরিচত। বড়পাঁচানিতে পাঁচটি কালী-ধর্ম, ষষ্ঠী, বেল, কুল, টুংগী এবং শ্যামরুপী রুপে পূজিত হন। ছয়ানি রাজ পরিবারের চারটি কালী- বড়মা, মঠ, নিম ও চাতর বুড়ি। অন্যদিকে ছোটোপাঁচানি রাজপরিবারে চারটি কালী-ধর্ম বা ষষ্ঠী, মোল, আমড়া এবং বেল(এই বেল কালীটিতে শুধু ঘট পুজো করা হয়)। এখানে ধর্মকালী ও ষষ্ঠীকালীকে বড়পাঁচানি ও ছোটোপাঁচানি রাজপরিবার পালা করে চালায়। বেশিরভাগ কালীকেই ‘বুড়ি’ বলেই ডাকা হয়।

