30/09/2022 : 9:45 AM
BREAKING NEWS
সাহিত্য

স্মৃতির আলোয়-১ : সুরতে খুবসুরত বাঙালি – অশোক মৈত্র



প্রায় ২০০০ কিমি দূরত্ব কলকাতা থেকে সুরত। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে কর্মসংস্থানের কারণে গুজরাতের ডায়মন্ড সিটি সুরতে লক্ষাধিক বাঙালির বসবাস দীর্ঘদিন ধরে। কর্মব্যস্ততার মধ্যেও বাঙালিরা তাদের ঐতিহ্য বজায় রেখে চলেছে। এই শহরের এরকমই কয়েকজন বাঙালি চরিত্র নিয়ে স্মৃতি চারণা করেছেন লেখক। 

প্রথম পর্বের লেখক অশোক মৈত্র – যিনি একজন প্রবাসী বাঙালি। দীর্ঘদিন ধরে গুজরাতের সুরাত শহরে বসবাস করেন। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী হলেও একজন কবি-সাহিত্যিক-নাট্যকার-নির্দেশক একথায় সাহিত্য-সংস্কৃতি মনোজ্ঞ ব্যক্তিত্ব। তিনি গুজরাতি ও বাঙালি দুই ভাষায় সাহিত্য চর্চা করেন।

-আনোয়ার আলি (সম্পাদক)



স্মৃতির আলোয়-১ : সুরতে খুবসুরত বাঙালি – অশোক মৈত্র



শ্রদ্ধেয় মনোজ মিত্র, নিঃসন্দেহে আধুনিক বাংলা নাট্য জগতের এক কিংবদন্তি পুরুষ। আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ পরিচিতি না থাকলেও, সমকালীন আরেক বিখ্যাত অভিনেতা, লেখক ও  নাট্যনির্দেশক, মেঘনাদ ভট্টাচার্যের প্রচেষ্টায়, নন্দনে আমার একটি ব্যক্তিগত অনুরোধ পূরণ করার সুবাদে আমি তাঁর প্রতি চির কৃতজ্ঞ। এহেন মনোজ বাবু তাঁর নাট্যসম্ভার নিয়ে কিভাবে সদ্য প্রয়াত রাধানাথ দাস, তপন বর্ধন ও উত্তম শীলের সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতার যোগসূত্র হয়ে উঠলেন তার একটা সংক্ষিপ্ত বিবরণ, উপরোক্ত বন্ধুপ্রতিম বিদেহীদের স্মরণে এইখানে লিপিবদ্ধ করছি।

বছর পঁচিশেক আগেও তাপী নদী থেকে নিয়ে বাপি শিল্পাঞ্চল পর্যন্ত, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সমস্ত বাঙ্গালীর মিলনের  একমাত্র স্থান ছিল, ষাটের দশকের শেষ দিকে প্রতিষ্ঠিত, সুরতের বেঙ্গল ক্লাবে অনুষ্ঠিত  শারদীয়  দুর্গোৎসব  এর কয়েকটি দিন। ‘৭৩ সনে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র হিসেবে, এই  ক্লাবে আমার প্রথম  প্রবেশ এবং ‘৭৪  এ  “ঝিঁঝিঁ  পোকার কান্না” নাটক দিয়ে, বাদল চৌধুরীদার নির্দেশনায়,  ক্লাবের  পুজোয় আমার অভিনয়ের সূত্রপাত। এর পর প্রতি বছর নিয়ম করে নাটক করলেও ভালো নাটক করার আনন্দ পাই ‘৮১ র পুজোয় আমার লেখা ও নির্দেশনায় অভিনীত, অমর  হিন্দী কথা সাহিত্যিক প্রেমচন্দের ছোট গল্প কাফনের উপর ভিত্তি করে একটি একাংক নাটক। পুরাতন সুরত শহরের নানাওয়াত অঞ্চলে অবস্থিত বিঠ্ঠলওয়াডির উপরতলায় অনুষ্ঠিত এই নাটক দেখতে আসা শতাধিক দর্শক বৃন্দের মধ্যে উপস্থিত, সুরত টেলিফোনসের ইঞ্জিনিয়ার, রাধানাথ দাসের চেহারা, তখন আবছা মনে থাকলেও সাক্ষাৎ পরিচয়ের তেমন সুযোগ আসতে আরও এক বছর লেগেছিল।

ঠিক এই সময়ই কোনও এক বিকালে, কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ নিয়ে, পাঞ্জাবী পায়জামা পরা তপন বর্ধনের সঙ্গে আমার আলাপ, বাবুভাইয়ের চায়ের দোকানে। মিশন হাসপাতাল যাওয়ার রাস্তার কোনায়, আজ যেখানে কৈলাশের মিষ্টির দোকান অবস্থিত, চল্লিশ বছর আগে সেখানে হাসপাতালের নিরেট পাঁচিল ছাড়া আর কিছুই ছিল না। দেওয়ালের এক পাশে মুন্নার পান বিড়ি সিগারেট এর দোকান, আর এই দোকানের পাশে, একটি বিরাট অশ্বত্থ গাছের নীচে বাবুভাইয়ের বিখ্যাত কাটিং চায়ের ঠেলা।  এই গাছের নীচেই রাত নটা পর্যন্ত তিন চারটে কাটিং চা,  গোটা কয়েক  তিরিশ নম্বর বিড়ি ও চারমিনার সিগারেটের ধোঁয়ায় আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্রদের নরক সব সময় গুলজার হয়ে থাকতো। অবশ্যই, চা বিড়ি সিগারেট আর আড্ডার সঙ্গে উপরি পাওনা হিসেবে থাকতো আসে পাশের  কলেজগুলিতে পড়া সুন্দরী কন্যাদের তির্যক চাউনি। তপন বর্ধন তখন সদ্য বড়োদা থেকে আগত, নর্মদা সিমেন্ট কোম্পানিতে চাকরী করা,  আমাদের মধ্যে একমাত্র চাকুরে লোক এবং ফিল্টার সিগারেট খাওয়াই  পছন্দ করতো। তবে মাঝে মাঝে এক আধটা ফিল্টার সিগারেটের অংশ বিশেষ, বিভিন্ন ঠোঁট ঘুরে, সুখ টানের জন্যে আমাদের ভাগ্যেও জুটে যেতো। উত্তর প্রদেশের প্রবাসী বাঙ্গালী হওয়ায়, স্বাভাবিক ভাবেই বাঙ্গালীর থেকে অবাঙালি বন্ধুর সংখ্যা আমার অনেক বেশী ছিলো। তা সত্বেও  চাকুরীজীবী কলকাতার বাঙ্গালী, বর্ধনের সঙ্গে অন্তরঙ্গ হতে আমাদের খুব একটা সময় লাগেনি এবং  সেই সুবাদে মাঝে সাঝে কোনও  কোনও  রবিবারে বা  ছুটির দিনে আমাদের  হোস্টেলেও ওর আনাগোনা  থাকতো।

সময়টা ‘৮১ র নভেম্বর। কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে ও হোস্টেলের দিনকাল পেছনে ফেলে আমরা তখন কদম পল্লীর সামনে ৮,  স্বাতী সোসাইটির একটি ঘরের বাসিন্দা। ঘর বললে অবশ্য অত্যুক্তি করা হয়। আদতে এটি দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে, নয় ফুট বাই  সাত ফুটের একটি রান্না ঘর এবং ঘরের এই পরিমাপটির মধ্যেই ছিলো, প্রায় দুই ফুট বাই সাত ফুটের টানা একটি  রান্নার প্ল্যাটফর্ম। কামরার  সামনে চার ফুট বাই ছয় ফুটের উন্মুক্ত বিরাট বারান্দার পাশে তিন ফুট বাই তিন ফুটের আলাদা আলাদা  শৌচালয় ও  স্নানঘর। বিশাল এই কামরায়  আমাদের ছয় সাত জনের বাস। কামরার বিশালতা এতো খানিই যে  মাঝে মধ্যে  বর্ধনের মতো মাননীয় চাকুরীজীবি  অতিথিদের রাত্রি আপ্যায়নেও আমাদের  কোনও দিন কোনো অসুবিধা বোধ হয়নি। চাকরীর ইন্টারভিউ দিয়ে আর চায়ের দোকানে আড্ডা মেরে আমাদের দিনকাল যখন বেশ ভালই কাটছিল তখনই হঠাৎ, কলকাতা থেকে আসা একটি টেলিগ্রাম, আমাদের বন্ধু ও একই ঘরের বাসিন্দা দেবব্রত সেনের জীবনে ছন্দপতন ঘটায়। টেলিগ্রামটিতে লেখা “ ফাদার সিরিয়াস কাম সুন”।

অতঃপর আমাদের প্রয়োজন ছিল, কলকাতায়  তাৎক্ষণিক  যোগাযোগ। সেই সময় এক শহরের বাইরে অন্য শহরে ফোনে যোগাযোগ মানেই  ট্রাঙ্ক কল এবং বাড়িতে ফোন থাকার অর্থ হলো তখনকার উচ্চমধ্যবিত্ত পরিবারের কৌলীন্যতার পরিচয় এবং একটি মহার্ঘ্য ও গর্ব করার মতো দুষ্প্রাপ্য বস্তু। কাছে পিঠে আমাদের পরিচিত তেমন কোনও কুলীন পরিবার খুঁজে না পেয়ে অগত্যা আমরা হাজির হলাম সুরত টেলিফোন্সের,   আর এন দাস মহাশয়ের ঘোড়দৌড় রোড স্থিত পূর্ণিমা সোসাইটির  বাড়ীতে।  ব্যাংক অফ বড়োদায়  কাজ করা প্রণব পালের (ক্লাবের প্রাক্তন সচিব) সঙ্গে দাসদার ঘনিষ্ঠতা ও বেঙ্গল ক্লাবে  নাটক করার সুবাদে, তাঁর সঙ্গে  আমার স্বল্প পরিচিতির মূলধন নিয়ে তাঁকে জানানো   হলো আগমনের হেতু।  আমাদের কথা শুনে মিনিট দু একের নীরবতার পর, চেন স্মোকার দাসদা ক্যাপস্টানের তামাক ও কাগজ দিয়ে, অভ্যস্ত হাতে বানানো সিগারেটের ধোঁয়া উড়িয়ে, সেনের কলকাতার নম্বর লিখে নিলেন।  বড়ো ছেলে উদিত কে পড়াতে পড়াতে,  অভ্যস্ত হাতে পাশে রাখা টেলিফোন সেটের ডায়াল ঘোরাতে থাকলেন। ঘরের এক পাশে রাখা গুটি কয়েক চেয়ারে আমরা নির্বাক প্রতীক্ষায় বসে রইলাম।  ঘণ্টা খানেক অক্লান্ত পরিশ্রমের পর, অবশেষে  কলকাতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ঘটানো গেল এবং জানা  গেল যে সেন মহাশয় অনেক আগেই দেহরক্ষা করেছেন। অতঃপর পরবর্তী পর্ব দাঁড়ালো আমাদের জুনিয়র সেনের কলকাতা গমন।

আট নম্বর স্বাতী সোসাইটি  তে ফিরে আসার পর যদিও খাওয়া দাওয়া সারা ও  সেনকে স্বান্তনা দেওয়া ব্যতীত  আমার আর কোনও কাজ ছিলনা তথাপি হঠাৎ করে, অধিক রাতে সেনের দেওয়া একটি প্রস্তাবে আমি বড়োই দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়লাম। প্রস্তাবটি হলো সদ্য পিতৃবিযোগে,  মানসিক অবসাদে  ভারাক্রান্ত এই শোকাতুর বন্ধুটির কলকাতায়  যাওয়ার   সহযাত্রী হওয়া। সদ্য পাশ করা, চাকরী  খোঁজা আমার মতো বেকার বাঙ্গালী যুবকের পক্ষে  কলকাতায় যাওয়ার আকর্ষণ যেমন অপ্রতিরোধ্য ছিল তেমনই দুরূহ ছিল, সুদূর দুই হাজার কিমি ট্রেনে পাড়ি  দেওয়ার  জন্যে প্রয়োজনীয়  অর্থের সংকুলান। অবশ্য আমাদের এই ধরনের সমস্যার তাতক্ষনিক সমাধান ছিল আর কেউ নয় বৈ তপন বর্ধন। তপনের বাসস্থান তখন কৈলাশের নানপুরার মিষ্টির দোকান থেকে ডাচ গার্ডেনে অবস্থিত নানপুরা পোস্ট অফিস যাওয়ার রাস্তার বাঁ দিকে, খুরশেদ বেকারীর পাশে, কাঠের কড়ি বর্গা দিয়ে তৈরি পুরানো আমলের এক বাড়ী। টাকা পয়সার ব্যাপার। সুতারং কোনও ঝুঁকি না নিয়ে সকাল সকাল কাঠের সিঁড়ির ওপর দিয়ে গটগট করে উঠে, বর্ধন বাবুর সাক্ষাতে উপস্থিত হলাম ওর ঘরে। কোনও ভণিতা না করে, পরিস্থিতি জানিয়ে সোজাসুজি জানালাম দেড়শো টাকার প্রয়োজনের কথা। প্রথমে নিমরাজি হয়েও কেন জানিনা হঠাৎ রাজি হয়ে তখনকার মতো একশো তিরিশ টাকায় রফা করে বর্ধন চলে গেল রবিবারের নানপুরা বাজারে। আমিও ঐ টাকা সম্বল করে, সেনের সাথে ভিরামগাম হাওড়া এক্সপ্রেসে রওয়ানা দিলাম কলকাতার উদ্দেশ্যে।

বেঙ্গল ক্লাবের বিভাজন ও বঙ্গ সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদয় হয় ৮২ সনে। এক অদৃশ্য ও অপ্রীতিকর রেষারেষির আঁচে, তখন আরম্ভ হলো এই ক্লাব আর ঐ ক্লাবের মধ্যে, একে অন্যকে টেক্কা দেওয়ার এক অঘোষিত প্রতিযোগিতা। কার পুজো কতো ভালো ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সম্ভার নিয়ে, কে কতো সুরতের বাঙ্গালী সমাজকে আকর্ষিত করতে পারে তারই প্রতিযোগিতা। এমনকি প্রথম দুই বছর একই নাটক, একই সময় দুই ক্লাবেই অনুষ্ঠিত হওয়ার সুবাদে আমাদের মতো উঠতিদের দুই ক্লাব থেকেই ডাক পড়লো। একদিকে আমার শিক্ষাগুরু, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের মজুমদার স্যার আর অন্যদিকে সাংস্কৃতিক গুরু, মেডিক্যাল কলেজের ডাক্তার গাঙ্গুলি। আমার অবস্থা তখন শ্যাম রাখি না কূল রাখি। অবশেষে প্রণব পালের অনুরোধ এড়াতে না পারায় পাল্লা ভারী থাকলো শিক্ষাগুরুর। ডাক পড়লো নাটকের মহরতের জন্যে। নাটকের নাম “সাজানো বাগান”। নাট্যকার মনোজ মিত্র। নাট্য নির্দেশনায় বাদল চৌধুরী। প্রযোজনায় বেঙ্গল ক্লাব। পুরনো সুরতের লালগেটের উল্টো দিকের গলিতে, নারায়ন দাস মহাশয়ের শাড়ীর বাক্সের কারখানার উপরতলায়, ক্লাবের পুরানো কাঠের বাড়ীতে নাটকের মহরত। প্রথম দিনের মহরতে গিয়ে দেখি, মেঝেয় পাতা শতরঞ্চিতে বসা অনেক চেনা অচেনা সদস্য ও কলাকুশলীদের মধ্যে আমাদের তপন বর্ধন। পাক্কা কংগ্রেসী ও প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সীর সমর্থক, তপন বর্ধন এক লাফে আমার কাছে উঠে এসে, মুচকি হেসে, উত্তর কলকাতার পাতি রকের ভাষায় বলে উঠল “ এই যে গুরু তুমি এসে গেছো। এবার আর চিন্তা নেই। আমরা ভাবছিলাম মালটা হয়তো হাত থেকে বেরিয়ে গেলো”। তারপরেই এদিক ওদিক একটু দেখে, গলার স্বর অনেকটা খাদে নামিয়ে কানের কাছে মুখ এনে জিজ্ঞেস করল “ কি গুরু ওরা তোমায় টোপ দেয় নি ?”

একটু অপ্রস্তুত হয়ে আমি জিজ্ঞেস করি “কিসের টোপ ? কি বলছিস ? আমি ঠিক বুঝছি না”

“ও তুমি বুঝবে না গুরু। পরে বলছি”।

ইতিমধ্যে দাসদার কণ্ঠস্বর জোরে ধেয়ে এল “কী হলো, কী হলো, রিহার্সাল আরম্ভ হোক। কই, কই বাঞ্ছারাম কই?”

ঠিক এই সময় ঢুকলেন আমাদের নাটকের নির্দেশক বাদলদা। ঢুকেই চরিত্র গুলি ঠিক করে দিলেন। এই চরিত্র গুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল আমি বাঞ্ছারাম, তপন বর্ধন চোর ও প্রণব পাল ভূতের ভূমিকায়। দাসদা প্রম্পটার। এইভাবেই আরম্ভ হলো আমাদের দুই মাস ব্যাপী রিহার্সাল ও নাট্যকার মনোজ মিত্রের সাজানো বাগানে আমাদের কয়েকজনের ব্যাক্তিগত ঘনিষ্ঠতার কুসুমের প্রস্ফুটন। (ক্রমশঃ)



ভারতের বিভিন্ন স্থানের বাঙালি সংগঠনের রুপকার, বাঙালি সমাজের সাহিত্য-সাংস্কৃতিক-সামাজিক সংবাদ প্রকাশের জন্য যোগাযোগ করুন 9375434824



 

 

 

 

 

Related posts

বিশেষ বিজ্ঞপ্তিঃ আষাঢ় মাসের মাসিক ই-ম্যাগাজিন

E Zero Point

দৈনিক কবিতাঃ চিমটি কেটে দাও

E Zero Point

নতুন বছরের শুরুতে পুরুলিয়ায় বৃত্তি প্রদান ও পত্রিকা প্রকাশ অনুষ্ঠান

E Zero Point

মতামত দিন