26/02/2026 : 5:37 PM
রবিবারের আড্ডাসাহিত্য

রবিবারের আড্ডা : আরণ্যক বসু || আঞ্জু মনোয়ারা আনসারী || তপন কুমার রায়

জিরো পয়েন্ট সাহিত্য আড্ডা

রবিবারের আড্ডা

————–১ অগাষ্ট ২০২১ রবিবার—————


|| ফিরে দেখা ||
“গোলাপ যেমন একটি বিশেষ জাতের ফুল ,
বন্ধু তেমনি একটি বিশেষ জাতের মানুষ।”
– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

চিত্রঋণঃ গুগল সার্চ



কবিতা


মনের কথা, প্রাণের কথা

✒  আরণ্যক বসু

( ঝঞ্ঝা ফিরে গগনতলে, তরণী ডুবে সুদূর জলে,
মরণদূত উড়িয়া চলে– ছেলেরা করে খেলা ।
জগৎ-পারাবারের তীরে, শিশুর মহামেলা ।
-শিশুলীলা/ বিশ্বকবি )

জানো তো, কাল স্কুলের ছাদে রোদ পড়েছে!
রোদ হেসেছে ভিজে একসা শিউলি গাছে ;
ভরা শ্রাবণেও সুয্যিঠাকুর উঁকি দিলো যেই,
স্কুল পাঠালো “কেমন আছো? ” সবার কাছে!
###
না না , আমরা লেখাপড়াতেই ছিলাম, আছি ;
সহজপাঠের ভালোবাসার কাছাকাছি।
###
জানো, আমাদের পুরো গ্রামটাই জলে ডুবুডুবু,
ভিজে দেয়াল,উঠোন, পুকুর টইটুম্বুর;
তবুও শুনি সাতসকালের বাদলগানেও…
দুটো চড়াইয়ের কিচিরমিচির,পুটুর পুটুর !
###
না না, আমার আঁকার খাতায় দোপাটি ফুল,
বৃষ্টি থামার পরেই গাছে টিয়া-বুলবুল।
###
জানো, আমি অঙ্ক, ভূগোল একাই পড়ি?
মানচিত্রে, ইতিহাসের সাত সতেরোয়;
ইস্কুল নেই,পড়াশুনোটাই আঁকড়ে আছি,
দাদুর আশীর্বাদের হাত তো আমাকে ছোঁয়!
###
না না, আমাদের দুঃখ তো নেই একটি ফোঁটাও,
অসুখ, তুমি এবারে পাততাড়ি গোটাও।
###
জানো তো, কচুর পাতায় আমার মনের কথায়…
জল-টলমল দুঃখ সুখের হিরের ফোঁটা,
রোদ উঠবে,ডাঙা শুকোবে,খেলার মাঠে;
ভো-কাট্টা ঘুড়ির সঙ্গে হাওয়ায় ছোটা!
###
শোনো, আমাদের মনের কথা যেও না ভুলে,
স্কুলের বন্ধ গেটটা এবার দাও না খুলে।♦

 


ভাবনা


ঘুম ভাঙা ভোর……

✒ আঞ্জু মনোয়ারা আনসারী

“কে মোরে ফেরাবে অনাদরে/কে মোরে ডাকিবে কাছে/কাহারো প্রেমের বেদনায় আমারও মূল্য আছে/ওগো কে মোরে ডাকিবে কাছে/হে নিরন্তর শংসয়ে আর পারিনা জুঝিতে/আমি তোমারেই শুধু পেরেছি বুঝিতে”
তবুও আমরা ক’জন আর ক’জনকে বুঝতে পারি??
সত্যিই কবিগুরুর এই গানের কথাগুলো আজ রক্তে মিশে গেছে। যেন প্রাণে অক্সিজেন সমান যখন কোন মানুষ বড্ড– বড্ড একা হয়ে যায়। হয়তো তুমি বলতেই পারো– একা কেন, তোমার তো চারপাশ জুড়ে এতো এতো মানুষ। তোমার আত্মীয়, সুজন-বন্ধু, এমনকি কতো কতো কাছের জন। আর আমি…….
জানো, প্রথম প্রথম আমিও… কিন্তু এখন, কেউ– কেউ….. ঠিক তোমার মত করে বোঝে না। বুঝবে না এটাই তো স্বাভাবিক। তবুও মনে হয় কেউ অন্ততঃপক্ষে কেউ এতোটুকুও বুঝুক….।
দেখতে দেখতে কতগুলো বসন্ত এলো। কৃষ্ণচূড়া-পলাশের শাখায় শাখায় আগুন ধরাল। আবার নীরবে ফিরেও গেল।
এখন আর, এসব ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে মুখরিত হয়ে আগমনী সুর লাগে না। কিন্তু এর মাঝে যখন মরশুমি বর্ষা আসে। ঘনঘটায় বাদল ঝরে। গাছেদের পাতায় পাতায় সবুজে সবুজে সবুজময় হয়ে ওঠে, তখন, হ্যাঁ, তখন কোথাও যেন একটুকু মনখারাপের টের পাই। মনে হয় প্রকৃতি পাতাঝরা সময়ের সমান্তরালে রং হারায় আবার অনায়াসে কেমন নতুনভাবে রং পায়।
চিত্রঋণঃ লেখিকা
তাহলে মানুষের মন কেন….???
ইচ্ছা হোক বা অনিচ্ছায় একটা মানুষ প্রতিটি মুহূর্ত। না না মুহূর্ত বললে কম বলা হয়। প্রতিটি মুহূর্ত-কনায় একটু একটু তিল তিল করে ক্ষয়ছে। অবশ্যই নীরবতায় ভিতর ভিতর। আমরা কেউ জানিনা। যেমন, আমরা কেউ জানি না, জানার চেষ্টাও করি না কেমন করে একটা চাঁদ ক্ষয়ছে সহিষ্ণুতার অন্তরালে। কেমন করে অমানিশার গভীরে কি শৈল্পিক নিপুনতায় নিজেকে মেলে, আবার কতোটা কোরোক ছাড়ানো যন্ত্রনায় একঝাঁক শিউলি রাঙামাটির ভোর-ছুঁয়ে নিজের অস্তিত্ব মাটির বুকে বিছিয়ে দিচ্ছে। আমরা এও দেখিনা একটি মানুষের কতোটা একাকীত্বের অভিমানে অভিমানী মনের মুহূর্ত গুলো খুন হচ্ছে। অথচ, এই চাঁদ, ফুল এবং আস্ত, আস্ত একটা মানুষের শরীর-মন-হৃদয় নিয়ে কতো, কতো অক্ষরের বর্ণমালায় গল্প কবিতার শরীর গাঁথি, নিজস্ব লীলায়। তারপর, বাঃ বাঃ কুড়ায় পাঠক মহলে। এক আধটা সম্মাননা যে পাই না, এমনও নয়। কিন্তু কখনও কি একটুকু বুঝতে চেষ্টা করেছি? কিংবা মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে মনে হয়েছে? দেখি একলা আকাশ পিঠে চাঁদ তুমি…?? রাতের গহ্বরে এক পলক কেমন করে শিউলি পাপড়ি খুলছে?? অথবা, মনের পিঠে মন ছুঁয়ে সেই, সেই মানুষের, সেই মনগুলো…???
যা হয়তো কারো কারো একটুকু পরশে
একটা মরুভূমির বুকে একটুকরো মরুদ্যান….
ক্ষতি কি??? যা আগামীর পথে পথ হয়ে উঠুক অনাবিল ভালোবাসার, প্রেমের অথবা মানবতার….!!!



গল্প


ভার্চুয়াল সম্পর্ক

✒ তপন কুমার রায়

শুভশ্রীর পেটে সন্ধ্যে থেকেই যন্ত্রনা হচ্ছে প্রবল। এতক্ষন চুপ করে যন্ত্রনা চেপে ঘর অন্ধকার করে উপুর হয়ে শুয়ে ছিলো শুভশ্রী। সে জানতো তার পেটে যন্ত্রনা হবেই। ভেবেছিলো মেয়েদের কত সময়েই তো কত যন্ত্রনাই সহ্য করতে হয়।এটাও সহ্য করে নেবে। কিন্তু যন্ত্রনা তো উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সময়ের ই দেবব্রত অফিসিয়াল ট্যুরে গেছে আমেদাবাদ।শুভশ্রীর কষ্টে পাশে থাকতো দেবব্রত, আবার ভাবে ভাগ্যিস ও এই সময় বাইরে । দেবব্রত সাধারণত ট্যুরে যায় না। খুব ইম্পর্ট্যান্ট ইস্যু থাকলেই বছরে এক আধবার যেতে হয়। কারন চ্যাটার্ড এ্যাকাউন্ট্যান্ট দেবব্রতর নিজেরই এই অডিট এ্যান্ড কনসালটেন্সি কোম্পানী। আর, কোম্পানীর সিইও হিসাবে তার কর্তব্য ক্লায়েন্টদের সঠিক পরিষেবা দেওয়া। এই কাজটা আর কারো পক্ষে সম্ভব নয়। তাই ভারতের কেন পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম কোম্পানি পিডব্লিউসি কে ছাড়িয়ে তাকেই কাজটা দিয়েছে।
শুভশ্রী বুঝতে পারছে না ও কি দেবব্রতকে একটু ফোন করে রাখবে?কিন্তু ঘটনা কোনদিকে কি মোড় নেবে তা তো কিছু বুঝতে পারছে না। ফেঁসে না যায় আবার, তাহলে তো জল অনেকদুর ঘোলা হবেই। তখন তো দেবুকে সামলানো মুশকিল হয়ে যাবে। তবে সব কিছু গ্রিপের মধ্যে থাকলে ও ঠিক কিছু একটা বুঝিয়ে দেবে। আসলে বড্ড সরল আর ভালো মানুষ দেবব্রত। স্ত্রী শুভশ্রীকে অগাধ বিশ্বাস করে। তাই স্ত্রীকে অবাধ স্বাধীনতাও দিয়ে রেখেছে। টাকা পয়সার ও খোঁজ ই রাখে না। দিনের শেষে দু চার লাখ ক্যাশ শুভশ্রীর হাতে তুলে দেয়। সে টাকা স্ত্রী কি করলো এতোদিনে একবারও জিজ্ঞাসা করেনি। দেবব্রত এবারে পনের দিনের জন্য গুজরাট গেছে।এখনি ডাকলে কাজ ফেলে ফেরত হয়ত চলে আসবে।কিন্তু কাজটার তো ক্ষতি হবে।তাছাড়া বোকাতো নয় দেবব্রত,এদিক ওদিক কথা বলে যদি বুঝে যায়?তাই ওকে গোপন করেই সব কিছু ঠিক মতো সালটে নিতে হবে।

তাই ফোনটা টেনে নিয়ে শুভশ্রী রিপন কে ফোন করলো। প্রথম বার রিং হয়ে হয়ে থেমে গেল, রিপন ধরলো না। কি ব্যাপার এখন তো রিপন ঘুমায় না। আবার ফোন করলো , এবার ধরেছে— —কি হলো ডারলিং আবার আজ ফোন কেন?
— কি ওষুধ খাওয়ালে? ভীষন পেটের যন্ত্রনা হচ্ছে। সহ্য করতে পারছি না। তুমি আসবে একবার? শুভশ্রী জিজ্ঞাসা করে।
—-এখন? আজ? আজ তো যেতে পারছি না। বাবা -মা এসেছে রায়গঞ্জ থেকে। ওদের ফেলে বেরবো কি করে? ডারলিং যন্ত্রনা একটু হবেই, জানোই তো ইউটেরাস থেকে ছিঁড়ে ওটা ক্লীয়ার হবে। একটু কষ্টতো হবেই।সহ্য করো প্লীজ।সব ঠিক হয়ে যাবে।কাল দেখা করবো আমরা। প্লীজ।সব ঠিক হয়ে যাবে।
শুভশ্রী বুঝলো রিপন আজ তার এই কষ্টের সময় আসবে না। কাল এসে আর কি করবে! শুধু আনন্দের সময় থাকবে, আর ক্রাইসিসের সময় যদি ভালোবাসার জন পাশে না দাঁড়ায় বড় কষ্ট হয়। না,যা করার তা তাকে নিজেকেই করতে হবে। বাড়ীতে শুভশ্রীর মা বাবা ই এ বাড়ীতে থাকে, দেবব্রতর দিকের কেউ এবাড়ীতে নেই। শুভর শশুর শাশুড়ী কবেই চলে গেছেন। নিকট আত্মীয় বলতে ওই দেবব্রতর দুই দিদি।তারা যদিও কোলকাতাতেই থাকেন, তবে নিজের নিজের সংসার নিয়ে ব্যস্ত। আাসা যাওয়া খুব কম। আর শুভশ্রীর মা- বাবা মাটির মানুষ, কোন ব্যাপারে নাক গলান না। একদিকে একটু আড়ষ্ট ভাবেই সবসময় থাকে। হাজার হোক জামাই বাড়ীতে বাস করা। তার ওপর নিজের মেয়ের দিনরাত চোটপাটে একটু গুটিয়ে থাকেন।দেবব্রতই বরং মাঝে মাঝে তাঁদের ধরে ধরে খাবার টেবিলে আনে, গল্প করে।
শুভশ্রী বোঝে আর কষ্টটা তার সহ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। ফোনে ড্রাইভারকে গাড়ী বার করতে বলে। তারপর বন্ধু ডাক্তার সিলভিয়াকে ফোন করে, তার নারসিং হোমে চলে যায়। সব শুনে, একবার চেকআপ করে নিয়ে, ডাক্তার মেডিক্যাল টরমিনেশন অফ প্রেগন্যান্সির জন্য ওটি রেডি করতে বলেন।
বিয়ের আগে থেকেই শুভশ্রী খুব ভালো গান গাইতো। নিজস্ব একটা ট্রুপের সাথে শুভশ্রী এদিক ওদিক গান গাইতেও যেত।হল ছেড়ে মাচাতেও গাইত তখন। শুভশ্রীর রূপ আর এই গানের গলা শুনেই দেবব্রত তাকে বিয়ে করে। আর গানের ব্যাপারে দেবব্রত শুভশ্রীকে এখনো প্রচুর উৎসাহ দেয়। কোনো ব্যাপারে কোন আপত্তি নেই। শুভশ্রী র বাইরে গান গাইতে যাওয়া বা রাত করে ফেরা নিয়েও কোনদিন আপত্তি করেনি।দেবব্রতকে শুভশ্রী প্রচন্ড ভালবাসে। আসলে পুরুষ মানুষ যদি ভালোবাসা পায় বোঝে। তরপর আবার যদি ভরপেট দুবেলা খাওয়া, আর ভরপেট সেক্স পায়, আর কোন দিকে ফিরে তাকায় না।মন প্রান দিয়ে নিজের কাজ বা ব্যবসায় নিজেকে নিয়োজিত করে।দেবব্রত ও শুভশ্রী কে নিয়ে সেরকমই তৃপ্ত, তাই শুভশ্রীর ওপর অগাধ বিশ্বাস তার।
বছর দুয়েক আগে শুভশ্রী ফেসবুকে একটি ছেলের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পায়।নাম রিপন রায় চৌধুরী, খুব সুন্দর দেখতে ছেলে। প্রোফাইল খুলে দেখে রায়গঞ্জের ছেলে, বয়স তারই মতো,আঠাশ বছর। যাদবপুর ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টরেট করছে। কবিতা লেখে।
খুব পছন্দ হয় শুভশ্রীর প্রোফাইল টা। ও তাই রিকোয়েস্ট এ্যাকসেপ্ট করে। রিপনের দিক থেকেও রেসপন্স আসতে দেরী হয় না। প্রথম দিকে রোজ সকালে নতুন নতুন একটা করে গোলাপ দিয়ে গুড মর্নিং আসতো, শুভশ্রীও ফুলের ছবি দিয়ে মর্নিং জানাতো। কিছু দিন পর রাতেও গুড নাইট আসতে শুরু করে রিপনের কাছ থেকে। শুভশ্রীও গুড নাইট জানাতে শুরু করে। এসব মেশামেশি ছেলেবন্ধু মেয়েবন্ধু নিয়ে দেবব্রত কোন ঝামেলা নেই। খুব ই উদার মনের লোক। কিন্তু কোন একটা অজ্ঞাত কারনে শুভশ্রী এই রিপনের কথা দেবব্রত কে বলতে পারলো না। ও জানে তার স্বামী দেবতার মতো। এমনি ট্রুপের ছেলেরা কত আসে তার কাছে আর এতো এক এক ভার্চুয়াল ফ্রেন্ড।কিছুই মনে করবে না দেবব্রত। তবু মনের কোনে কি এক সংকোচ উদ্ভব হলো বলে উঠতে পারলো না।
একদিন ইনবক্সে হঠাৎ ই রিপন জিজ্ঞাসা করলো– “কি করছো”
শ্রী উত্তর করলো– কিছু না। এমনিই
— এমনিই?
— হ্যাঁ। কিছু কাজ নেই। গান চালিয়ে বসে আছি।
এমনি ভাবে, কেমন আছো? কি করছো? খাওয়া হলো? চা খাবে? টুক টাক দু চারটে করে কথার চ্যাট হতে শুর করে। তারপর দুটো চারটে পছন্দ অপছন্দ জানা, ভালোলাগা ভালোবাসা জানা চলতে থাকে। শুভশ্রী কে তার কিছু গান পাঠাতে বলে। পাঠায়ও শুভশ্রী। সে গানের প্রশংসায় প্রশংসায় ভরিয়ে দেয়। পারিবারিক তথ্য বিনিময় হয়। এভাবে কথা চলতে চলতে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে।এরপর তারা কখনো এক দু ঘন্টা ধরেও গল্প করতো চ্যাটিয়ের মাধ্যমে। একদিন দুপুরে রিপন শ্রীকে প্রথম ফোন করে বসলো। শুভশ্রীও ফোনে গল্প জুড়লো। কিন্তু দেবব্রত দুপুরে বাড়ীতে খেতে আসাতে তাড়াতাড়ি ছেড়েদিল, বললো হয় সকালে দশটার পর নয় দুপুর তিনটের পর ফোন করতে।
শুভশ্রীর বিয়ে হয়েছে চার বছর। ছেলেপুলে এখনো হয়নি। আসলে দেবব্রতই চায়নি। যতগুলো দিন সম্ভব জীবনটা নির্ঝঞ্ঝাট উপভোগ করতে চায়। সেই জন্যই দেবব্রত মাঝে মাঝে দুপুরে খেতে আসতো শ্রীর শরীরী সান্নিধ্য পেতে। জীবনে সেক্সকে তারা চর্ব্য চোষ্য উপভোগ করে প্রতিদিন ।
এর মাঝে একদিন রিপন শুভশ্রী কে সিনেমা দেখতে অনুরোধ করে। সিনেমা শুভশ্রীর তেমন পছন্দ নয়,তাও রিপনের অমোঘ টানে কোয়েস্ট মলে সিনেমা দেখতে যায়। হলের ভেতর অন্ধকার কখন হাতে হাত মিলে যায়।,শরীরে শরীর আলাদা এক শিহরণ জাগায়। অন্য রকম একটা ভালো লাগা টের পায় শুভশ্রী । সিনেমা দেখে চা স্ন্যাকস খেয়ে বাড়ী ফেরে শুভশ্রী। মনের মধ্যে তোলপার হয় সে কি অন্যায় করছে? তার জীবনে সেক্সের আধিক্য বই ঘাটতি নেই। স্বামী তাকে সময় দেয় না তা নয়। নিয়ম করে রবিবার লাং ড্রাইভে নিয়ে যায়। তার জীবনে স্বাধীনতার অভাব আছে তা নয়। যথেচ্ছ খরচের স্বাধীনতা আছে। তারপর ও কেন অন্য পুরুষ! আসলে রিপন কে আর, ও কেমন অন্য পুরুষ ভাবতে পারছে না। কি এক অমোঘ টানে রেগুলার বাড়ী থেকে বেরিয়ে রিপনের সাথে রিপনদের সেলিমপুরের ফ্ল্যাটে মিলিত হতো। দেবব্রতর উপচে পড়া মিলনের পরও রিপনের সাথে মিলিত হওয়ার ইচ্ছায় কখনও ভাটা পড়তো না। নিজেই অবাক হতো শুভশ্রী।শুধু রিপন কোন রকম প্রোটেকশন নিতে রাজী হতো না,তাতে নাকি ওর আনন্দ সম্পূর্ণ হতো না, এই যা ঝামেলা। তাই ওই আনওয়ান্টেড ৭২ ধরনের ট্যাবলেট খেতো ওই আনসেফ পিরিয়ডে। শুভশ্রী আসলে একটা আলাদা ভালোলাগার জোয়ারে ভেসে যেত। অথচ একদিন ভুল করে দেবব্রত সম্বন্ধে রিপন খারাপ মন্তব্য করায় রাগে জ্বলে উঠেছিল শুভশ্রী — “শালা আমার স্বামী সম্বন্ধে খারাপ কথা বললে টেনে জিভ ছিঁড়ে নেবো। আমার স্বামী দেবতার মতো মানুষ।আমি প্রানের চেয়ে বেশী ভালোবাসি ওকে”।
ঘাবড়ে যায় রিপন, মনে মনে বলে কি মেয়েছেলেরে বাবা, স্বামীকেও ভালোবাসবে আবার বাইরেও—।
রিপন একদিন গাড়ী ভাড়া করে শুভশ্রীকে নিয়ে শান্তিনিকেতন বেড়াতে গেলো। একসঙ্গে গা ঘসতে ঘসতে যাওয়ার আনন্দই আালাদা। বাইরের উদাত্ত প্রকৃতি যেন নেশা ধরায়।শান্তিনিকেতন পৌঁছে ওরা ট্যুরিস্ট লজে একটা ঘর ভারা নিল। সেখানে শুরু হলো এক দীর্ঘ শরীরী খেলা। ফিরতে ফিরতে রাত। ভাগ্যিস তখনো দেবব্রত বাড়ী ফেরেনি। শুভশ্রীর মনটা খু্ঁত খুঁত করে। সেফ পিরিয়ড না আনসেফ। হিসেবটা গুলিয়ে যায়। মন থেকেও চলে যায় ভাবনাটা।কদিন পরে পিরিয়ড মিস হতেই ভয় করে শুভশ্রীর।বুঝতে পারে ও কনসিভ করে গেছে। একটা প্রেগা নিউজ কার্ড এনে ইউরিন টেস্ট করে দেখে ” পজেটিভ “। এবার? এবার কি বলবে দেবব্রত কে? প্রোটেকশন নেওয়ার ব্যাপারে তার স্বামী তো একেবারে নিখুঁত, কখনও ভুল হয় না। অতএব স্বামীর ওপর তো চাপাতে পারবে না। আর অনুচিতও।সে নিজেও রাখতে চাইবে না। তাহলে? রিপন সব শুনে কি এক শিশি হোমিওপ্যাথি ওষুধ এনে দিয়েছিল। পুরো শিশিটা খেলে ব্লিডিং এর সাথে ক্লীয়ার হয়ে যাবে।
কপাল গুনে দেবব্রত আমেদাবাদ ট্যুরে যায় এইসময়। অন্য সময় হলে শুভশ্রী দেবব্রতর সাথে যেতে চাইতো। দেবব্রত বলেও ছিল যেতে, তারা কাজ শেষ করে একটু গুজরাট ঘুরে আসবে। শুভশ্রী ই রাজী হয়নি তার গানের প্রোগ্রাম ধরা আছে এই মিথ্যে অজুহাত দিয়ে। আসলে স্বামীর এই অনুপস্থিতিতে তার সমস্যাটা সালটে নিতে চেয়েছিলো।

ডঃ সিলভিয়ার নারসিং হোম থেকে ফিরে দুদিন খুব দুর্বল ছিলো। বাইরে গেলে দেবব্রত রোজ বাইরে থেকে রাতে কল করে। ওগুলো এ্যাটেন্ড করে শুভশ্রী। কিন্তু রিপনকে ফোন করলে আর ফোন বাজে না।বলে– “উপলব্ধ্ নেহি হ্যায়” । যা বাবা ফোনটাই ছেড়ে দিলো নাকি? দুদিন চেষ্টা করার পর উতলা শুভশ্রী।একদিন রিপনদের সেলিম পুরের ফ্লাটে গিয়ে হাজির হলো। গিয়ে দেখে অন্য কারা সব যেন খাট বিছানা তোরঙ্গ নিয়ে বসে। শুভশ্রী গিয়ে জিজ্ঞেস করে রিপন রায়চৌধুরী কোথা?এনারা সব কারা? এটা তো রিপনদেরই ফ্ল্যাট নাকি? লুঙ্গি পরা একটা মোটা লোক এসে দাঁড়িয়ে বললো — –“ও বলেছে নাকি এটা ওদের ফ্ল্যাট? দিদিমনি আপনাকে আমি আগে দেখেছি এখেনে, আরো অনেক মেয়েই তো আসতো আপনার মতো। এটা আমার ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়ে রাখি। রিপন তো বাংলাদেশ থেকে এসে এখেনে এ বাড়ীতে ভাড়া থাকতো, আর টালিগঞ্জে সিনিমার নায়ক হবার জন্য ঘোরাঘুরি করতো । সিনেমায় কাজকম্মো কিছু পেল না বলে ও বাংলাদেশ ফিরে গেছে।”
শুভশ্রীর চোখ জলে ভরে যায়। কাকে ও বিশ্বাস করেছিলো। এতোটা বিশ্বাস করেছিলো যে তার সব কিছু দিতেও ও দ্বিধা করেনি। ওর দরকারে হাজার হাজার টাকা দিয়েছে, কোন খরচই ওকে করতে দিত না। শুধু বিশ্বাস? তার এতোটা ভালোবাস?
সব ই কি ভার্চুয়াল? শুভশ্রী চোখের জল মুছে ফেলে সবটাকে একটা দুঃস্বপ্ন ভাববার চেষ্টা করলো। সবটা ভার্চুয়াল।♦

রবিবারের আড্ডায় লেখা পাঠানোর নিয়মঃ


১) জিরো পয়েন্ট রবিবারের আড্ডা বিভাগে আপনার লেখা গল্প, কবিতা, ভাবনা প্রকাশের জন্য ইমেইল করুন zeropointpublication@gmail.com
(সাবজেক্ট এ অবশ্যই রবিবারের আড্ডা উল্লেখ করবেন)
২) লেখা পাঠানের পর ২ মাস অপেক্ষা করবেন
৩) আপনার প্রেরিত লেখাটি মনোনীত হলে ২ মাসের মধ্যে প্রকাশ করা হবে এই বিভাগে
৪) একবার লেখা পাঠানোর পর এই বিভাগে আবার  ২ মাস পর লেখা পাঠাবেন
৫) প্রত্যেকের লেখা পড়ুন, কমেন্ট বক্সে মতামত দিন

৬) অবশ্যই লেখাটি আপনার সোস্যাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন



জিরো পয়েন্ট সাহিত্য আড্ডা সাহিত্য চর্চার জন্য-
♦ facebook গ্রুপ জয়েন করুন :  https://m.facebook.com/groups/2327972437453442
♦ আপনার ও পরিচিত বিভিন্ন সাহিত্য অনুষ্ঠানের সংবাদ প্রকাশের জন্য যোগাযোগ করুন 9375434824
♦ স্বল্পমূল্যে আপনার বই অথবা সাহিত্য সংস্থার প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন আমাদের সংবাদ মাধ্যম ZERO POINT – এ যোগাযোগ করুন 9375434824


আপনার এলাকার বিভিন্ন খবরাখবর জানতে-
♦ facebook লাইক ও ফলো করুন :  https://www.facebook.com/zeropointpublication
♦ dailyhunt ফলো করুন : ZERO POINT ( https://dailyhunt.in/news/india/bangla/zero+point-epaper-zpoint )
♦ youtube চ্যানেল ZERO POINT NEWS সাবস্ক্রাইব করুন : https://www.youtube.com/channel/UCdHD7Yg21V6Rm-HSc__NraA
♦ দেশ-বিদেশের খবরাথবর সাথে সাহিত্য-বিনোদন মূলক খবর জানতে সাবস্ক্রইব করুন আমাদের
♦ ওয়েবসাইট  http://www.ezeropoint.net
♦ আপনার এলাকার বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশের জন্য যোগাযোগ করুন 9375434824 অথবা 9609529471
♦ স্বল্পমূল্যে আপনার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান অথবা সংস্থার প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন আমাদের সংবাদ মাধ্যম ZERO POINT – এ যোগাযোগ করুন 9375434824 অথবা 9609529471

 

Related posts

দৈনিক কবিতাঃ মেঘলাযাপন

E Zero Point

দৈনিক কবিতাঃ কনকাঞ্জলি

E Zero Point

সাহিত্যের ব্ল্যাকবোর্ড আঝাপুরে

E Zero Point

মতামত দিন