29/09/2022 : 8:16 PM
BREAKING NEWS
আমার বাংলা

বিলুপ্ত হয়ে যায়নি ঢেঁকির মাহাত্ম

জিরো পয়েন্ট নিউজ – কল্যাণ দত্ত, বর্ধমান, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২:


আমরা জানি বা শুনেছি ‘ঢেঁকি স্বর্গে গিয়েও ধান ভাঙে’। সেই সব ভাষা বর্তমানে গল্পকথা, ইতিহাস। যন্ত্র ও প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়ে চলায় ঢেঁকির কদর ইদানিং কালে একেবারেই কমে গেছে । তবুও এই রাজ্যের গ্রাম বাংলার কিছু মানুষ এখনও আগলে রেখেছেন সাবেকি ঢেঁকিকে। পৌষমাস শুরু হলে পিঠে-পুলির চাল কোটার জন্য তাই রাজ্যের গ্রাম বাংলায় বাড়ে ঢেঁকির কদর। যেমনটা এখন দেখা যাচ্ছে রাজ্যের শস্যগোলা পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকের একটি গ্রাম চাঁচাই-এ । সামনেই পৌষ সংক্রান্তি পেরিয়ে গেলেও এখনও সদাব্যস্ত ঢেঁকিতে চাল কোটার কাজে। কান পাতলেই ভেসে আসছে ঢেঁকিতে চাল কোটার শব্দ।


এক সময় পৌষ মাসের মাঝামাঝি থেকে গ্রাম বাংলার মহিলারা ঘরে ঘরে ঢেঁকিতে চাল কোটা শুরু করে দিতেন। ঢেঁকিতে ভাঙা চাল গুঁড়িয়ে তা দিয়েই তাঁরা তৈরি করতেন হরেক রকমের পিঠে-পুলি। কিন্তু যন্ত্রের ব্যবহার ও বৃদ্ধির ধাক্কায় ঢেঁকি এখন যেন মিউজিয়ামে জায়গা করে নিতেও আর দেরি নেই । ঢেঁকি ছেড়ে গ্রাম বাংলার অনেক মানুষ এখন চাল গুঁড়ানোড় জন্যে পৌছে যাচ্ছেন চাল ভাঙার যন্ত্রের কাছে । তবে তারই মধ্যে কিছু কিছু গ্রামের মানুষ এখন ঢেঁকির ঐতিহ্য বজায় রেখে বাড়ির সাবেকি ঢেঁকিকে আগলে রেখেছেন। যেমনটা আগলে রেখেছেন জামালপুর থানার চাঁচাইয়ের গ্রামের মানুষজন। তাঁরা চান না গম ভাঙানোর যন্ত্রে পিঠে-পুলির চালের গুঁড়ো তৈরি করতে। এই গ্রামের মহিলারা সহ পুরুষরাও প্রতিবছরের ন্যায় এই বছরও তাই ঢেঁকিতে ছাঁটা চালের গুঁড়ো দিয়ে পিঠে-পুলি তৈরি করে পরিবারের সকলকে তৃপ্ত করতে চান।


চাঁচাই গ্রামের এক গৃহকর্তা কিশোর বিশ্বাস বলেন, “ ঢেঁকিতে ছাঁটা চালের গুঁড়ি দিয়ে বানানো পিঠে- পুলির স্বাদটাই আলাদা। আর ঢেঁকিতে ছাঁটা চাল অনেকদিন ধরে রেখেও দেওয়া যায়, আমার বয়স এখন ৬০ বছর তবু আমি পায়ে করে চাল ভাঙছি আমার জামাইকে খাওয়াবো নানা স্বাদের পিঠে করে। পৌষ পার্বণের আগে থেকে এবং মাঘ মাসেও আমাদের ঢেঁকিতে চাল ভাঙাতে আসেন গ্রামের অনেক মানুষজন। ঢেঁকিতে চাল ভাঙানোর কাজে পুরুষরাও মহিলাদের সঙ্গে হাত লাগান আমাদের এখানে “। খেজুর গুড়ের সঙ্গে ঢেঁকিতে গুঁড়ো করা চাল দিয়ে তৈরি পিঠে-পুলি বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে এক ভিন্ন মহিমায় পৌছে দেয় বলে মনে করেন এই চাঁচাই গ্রামের মানুষজন।


বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ১০ই ফেব্রুয়ারী গিয়ে দেখা যায় চাচাই গ্রামের একটি ঘরে ঢেঁকিতে চাল গুঁড়ানোর কাজ করে চলছে। যন্ত্র ও স্মার্ট ফোনের ব্যবহার বৃদ্ধির যুগে সত্যি যেন এটা একটা বিরল দৃশ্য হিসাবেই সামনে আসে আমাদের সকলের । এর থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে যায় কাঠের তৈরি ঢেঁকি গ্রামবাংলা থেকে এখনও একেবারে বিলুপ্ত হয়ে যায়নি। পায়ে করে চাল গুঁড়োর দৃশ্য আরও একবার মনে করিয়ে দিল গ্রাম বাংলায় ঢেঁকির মাহাত্ম্যকে।

Related posts

মেমারিতে ১ টাকায় ১ পোয়া দুধ

E Zero Point

পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় চাষিরা চরম সমস্যায় মেমারিতে

E Zero Point

আজ থেকে রাজ্যে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাতে প্রযুক্তির আবির্ভাব

E Zero Point

মতামত দিন