13/08/2022 : 8:16 PM
BREAKING NEWS
Top News আমার দেশ

মূল্যবৃদ্ধির আঁচে পুড়ছে দেশ!

জিরো পয়েন্ট নিউজ – কল্যাণ দত্ত, বর্ধমান, ২১ জুলাই ২০২২:


এমনিতেই বহু পণ্য জিএসটির আওতায় চলে গেছে অনেক আগেই। এবার জুনের শেষে জিএসটি কাউন্সিলর বৈঠকে স্থির হয় বেশ কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসের উপর জিএসটি লাগু হবে। সেই মতো এমন কিছু দ্রব্যের মধ্যে জিএসটি চাপানো হয়েছে যেগুলি বিগত দিনে জিএসটি-র আওতার বাইরে ছিল প্যাকেট জাত দ্রব্যের উপর বসল ৫% জিএসটি। এমনিতেই বিভিন্ন প্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজার অগ্নি মূল্য তার ওপর গত দুই বছর করোনার দাপটে প্রভাব পড়েছে দেশীয় অর্থনীতিতে। বহু মানুষ বর্তমানে কর্মহীন অবস্থায়, এই পরিস্থিতিতে কাল ঘাম ছুটছে সাধারণ মানুষের। এবার গোদের ওপর বিষফোঁড়া সাধারণ মানুষের উপর চাপলো আরও মুদ্রাস্ফীতির বোঝা। এবার থেকে দেশে কার্যকর হচ্ছে নতুন জিএসটির হার, ফলে আরো দামি হলো বহু নিত্য ব্যবহার্য দ্রব্য সামগ্রী।

ঠিক কোন কোন দ্রব্য গুলির ওপর ধার্য হবে জিএসটি? একটু দেখে নেওয়া যাক। দই, পনির, মধু, মাখন, সয়াবিন, মটর,গম, চাল, মুড়িসহ মাছ ও অন্যান্য খাদ্যশস্যের মতো পণ্যের উপর চাপছে জি এস টি। জিএসটির আওতায় আরো আসছে চিড়ে, খই, মুরকি,রাই, ওটস তাছাড়াও প্রতিদিন ৫০০০ টাকার উর্ধে হাসপাতালের রুম ভাড়ার উপর ৫% জিএসটি ধার্য করা হয়েছে। পূজার মুখে আমজনতার জন্য খুবই কষ্টকর একটা খবর বলাই যায়। বাড়তে চলেছে হোটেলেরও খরচ প্রতিদিন এক হাজার টাকার কম খরচের ঘরের জন্য দিতে হবে বারো শতাংশ কর। সোলার ওয়াটার হিটারে এখন ১২% জিএসটি লাগবে, যেটা আগে ছিল পাঁচ শতাংশ। তবে জ্বালানি খরচ কিছুটা হলেও কম করা হয়েছে। জ্বালানি সহ পণ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ট্রাক, যানবাহনে এখন জিএসটি ১৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১২ শতাংশ করা হয়েছে। এবার একটু দেখে নেওয়া যাক কোন কোন ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ জিএসটি লাগু হল। প্যাকেট জাত পণ্যের উপর ১৮% জিএসটি ধার্য হয়েছে। প্যাকেটজাত যে কোন খাবারের উপরে বসছে জিএসটি।

কেন্দ্রের চাপানো এই করের বোঝা নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমান জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা সুর ছড়িয়েছেন কেন্দ্রের করের বিরুদ্ধে। পূর্ব বর্ধমান জেলার অন্তর্গত খণ্ডঘোষ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মোহাম্মদ অপার্থিব ইসলাম জানিয়েছেন, ” কোভিডের কারণে একেই বিপর্যস্ত ছিল গরীব ও নিম্ন মধ্যবিত্তের আর্থিক পরিস্থিতি, এবার সেই অবস্থা আরো খারাপ হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের উপর লাগাতার মূল্য বৃদ্ধির জেরে দৈনন্দিন খরচ যোগাতে রীতিমত নাজেহাল অবস্থা। সাধারণ মানুষের জন্য যেখানে কিছুটা হলেও এই রাজ্যের মানুষকে স্বস্তি দিতে উদ্যোগী হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেখানে প্রতিটা পদক্ষেপে অস্বস্তি বাড়াচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতি। ২০২৪ সালে প্রতিটা মানুষ এর জবাব দেবে, উৎখাত করবে বিজেপি নামক দল সহ কেন্দ্রের সরকারকে”।

রায়না-২ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অসীম পাল প্রতিক্রিয়া স্বরূপ বলেন, ” দেশটা-কে বিক্রি করার খেলায় মেতেছে কেন্দ্র সরকার।গোটা দেশবাসী জানে কেন্দ্রীয় সরকার শুধু খুঁজে বেড়াচ্ছে কোথায় ট্যাক্স বসানো যায় বা কোথায় সাধারণ মানুষের পিছনে বাঁশ দেওয়া যায়। মানুষ অসময়ে এবার নিজেদের গচ্ছিত সোনা টুকুও বিক্রি করবে কিন্তু জানিনা হয়তো সোনা বিক্রি করলেও ট্যাক্স দিতে হবে কিনা।

জেলা যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি সাহাবুদ্দিন মন্ডল বলেছেন, ” দীর্ঘদিন ধরেই আমরা দেখে আসছি বিজেপি কিভাবে সাধারণ মানুষকে শেষ করে দেওয়া যায় তার একটা প্রক্রিয়া করে চলেছে। বিগত দিনে ও বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের উপর জিএসটির বোঝা চাপানো হয়েছে যার বিরুদ্ধে আমরা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। তবে এইভাবে মানুষকে নাস্তানাবুদ করে সরকার চালানো যায় না। মানুষ সবই বোঝে এবং জবাব ২০২৪ এই দেবে।

পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সদস্য বিশ্বনাথ রায় বলেছেন, “মূল্যবৃদ্ধির আঁচে পুড়ছে দেশ। পেট্রোল থেকে গ্যাস! প্রত্যেক জিনিসের দাম আকাশ ছোঁয়া। একই সঙ্গে শাক-সবজি সহ সমস্ত জিনিসের দাম ক্রমশ বাড়ছে। আর এর মধ্যেই গত ১৮ জুলাই থেকে একাধিক জিনিসের দাম বেড়ে গিয়েছে। জিএসটি লাঘু হওয়ার পর থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় একাধিক জিনিসের দাম বেড়েছে। এই অবস্থায় ডাল, ময়দা, চাল, দই এবং লস্যির মতো ব্র্যান্ডেড এবং প্যাকেটজাত খাদ্য আইটেমগুলির দামের উপর জিএসটি বসবে। ফলে আরও বেড়েছে দাম। যা কিনা মধ্যবিত্তের জ্বালা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের মানুষ বিরোধী নীতি-কে ধিক্কার জানাই “।

Related posts

বিজেপির হারের কারণঃ দলবদলু না নেতাদের মাত্রাছাড়া ঔদ্ধত্য?

E Zero Point

রাতের সিদ্ধান্ত সকালে বদলঃ স্বল্প সঞ্চয়ে সুদের হার কমছে না

E Zero Point

পশ্চিমবঙ্গ ও কেরলা থেকে ৯ জঙ্গি গ্রেপ্তার

E Zero Point

মতামত দিন