07/12/2022 : 8:53 AM
BREAKING NEWS
জীবন শৈলীধর্ম -আধ্যাত্মিকতা

হজরত মোহাম্মদের (সঃ) জন্মদিনঃ অহংকার নয়, বিনয় ; ঘৃণা নয়, প্রেমই ইসলাম

জিরো পয়েন্ট বিশেষ প্রতিবেদন, ৯ অক্টোবর ২০২২:

মহঃ ইব্রাহিম, পূর্ব বর্ধমান


হজরত মোহাম্মদের (সঃ) জন্মদিন আরবি মাসের ১২ রবিউল আওয়াল । খ্রিষ্টাব্দের হিসাবে তা ছিল ৮ জুন ৫৭0 সাল। মুসলিমদের অনেকেই তাঁর জন্মদিন পালন করেন না। যাঁরা করেন তাঁদের বেশিরভাগ তাঁকে কেবল ইসলাম ধর্মের প্রচারক হিসাবে দেখেন। কিন্তু তিনি ছিলেন সফলতম বিপ্লবী যিনি জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষকে মর্যাদা দিতেন, ভালবাসতেন এবং তাঁর মতাদর্শ তিনি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে তাঁর জীবদ্দশায় বাস্তবায়িত করেছিলেন। অস্পৃশ্যতা, বর্ণ বৈষম্য, দাসপ্রথা, মদ্যপান, সুদ শোষণ , শিশুকন্যা হত্যা, বহুবিবাহ ইত্যাদি বন্ধ করেছিলেন।

বন্ধ করেছিলেন ব্যাভিচার, প্রচলন করেছিলেন বিধবা বিবাহ। বাধ্যতামূলক করেছিলেন নারী পুরুষের শিক্ষা, নারীর সম্পত্তির অধিকার, জাকাত, ফেতরা (দরিদ্র মানুষদের প্রাপ্য দান), ইত্যাদি সামাজিক কল্যাণকর কাজ সমূহ।তিনিই প্রথম রাষ্ট্র পরিচালনায় গণতান্ত্রিক সংবিধান তৈরি করেন।

তিনি প্রথম সুস্পষ্ট যুদ্ধনীতি প্রণয়ন করেন। সপ্তম শতাব্দীর প্রথমাংশে (৬১০ থেকে ৬৩২খ্রি, এই সময়টুকুর মধ্যে ঐশী গ্রন্থ কোরান অবতীর্ণ হয় ) মাত্র ২৩ বছরে তিনি এই অভাবনীয় বিপ্লব এনেছিলেন মানব সভ্যতার ইতিহাসে। তাঁর এই অবদানসমূহ বিশ্বের আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠে। ইউরোপের বিভিন্ন বিপ্লব এবং সংস্কার হজরত মোহাম্মদের দেখানো পথে সংঘটিত হয়, – এমন কথা বিখ্যাত ফরাসি দার্শনিক ভলতেয়ার বলেন।

ভলতেয়ার, রুশো, নেপোলিয়ান মনে করেন যে, সমগ্র ইউরোপ, বিশেষ করে, ফ্রান্সের নবজাগরণে (The Age of Enlightenment – c. 1620 – 1722) হজরত মোহাম্মদের আদর্শ এবং ইসলামের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। ফ্রান্সের আর এক বিখ্যাত দার্শনিক ও ইতিহাসবিদ হেনরি দ্য বোলাঁবিলা (1658 – 1722) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ Vie de Muhammad (The World of Muhammad) বলেন যে, মানুষের যা কিছু অবাস্তব কাল্পনিক এবং কুসংস্কার তা হজরত মোহাম্মদ দূর করেছিলেন এবং যা ছিল যুক্তিপূর্ণ ও বৈজ্ঞানিক তা তিনি গ্রহণ করেছিলেন।

দার্শনিক রুশো তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ The Social Contract এ বলেন হজরত মোহাম্মদ আধ্যাত্মিক এবং পার্থিব উভয় ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় বন্ধন ঘটিয়েছিলেন। অপর ফরাসি রাজনীতিবিদ এবং গবেষক এমানুয়েল পাশটোরেট তাঁর গ্রন্থে মন্তব্য করেন যে হজরত মোহাম্মদ ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ আইন প্রণেতা।জার্মান দার্শনিক গ্যেটে এবং ইংল্যান্ডের এডওয়ার্ড গিবন হজরত মোহাম্মদকে কুসংস্কার এবং পাদ্রতান্ত্রিক দুর্নীতি দূরীকরণে সফল মহামানব বলে মনে করেন।

শুধু ইউরোপ নয়, আমেরিকা, অষ্ট্রিয়া, ব্রিটেন, জার্মানির, প্রখ্যাত মনীষীগণের কেউ প্রিন্সটন, কেউ চিকাগো, কেউ হার্ভার্ড, কেউ কলম্বিয়া প্রভৃতি বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ইসলামি বিভাগ স্থাপন করেন যেখানে ইসলাম ও হজরত মোহাম্মদের অবদানের উপর গবেষণা করা হয়।

কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে কিছু মৌলবাদী নিজেদের ইসলামের প্রচারক ও রক্ষক হিসাবে মনে করে এবং খুন সন্ত্রাস হিংসা বিদ্বেষকে ইসলাম সম্মত বলে জাহির করে। প্রকৃতপক্ষে কোরান বা হজরত মোহাম্মদের আদর্শের সাথে এদের কোনও সম্পর্ক নাই। ইসলামে শরিয়তি আইন বলে কোনও আইন নাই। ইসলামে কোনও ড্রেসকোড নাই। তাৎক্ষণিক তিন তালাকের কোনও বৈধতা নাই। কোনও অপরাধে পাথর ছুড়ে হত্যার বিধান নাই।

ধর্ম অবমাননা হয় না, তাই শাস্তির ব্যবস্থা নাই। এমনকি ইসলামে পুরুষের একাধিক বিবাহের যে অনুমতি আছে তাও নিঃশর্ত নয়। কোরান এবং হজরত মোহাম্মদ (সঃ) কেবল মানুষকে নয়, ভালবাসতে বলেন সকল জীব এবং প্রাণীকে। অহংকার নয়, বিনয় ; ঘৃণা নয়, প্রেমই ইসলাম।


Related posts

রান্নাঘরঃ ভাপা ডিমের কালিয়া

E Zero Point

দুর্বল হ্যান্ডশেক ডায়াবেটিসের লক্ষণ: গবেষণা

E Zero Point

রান্নাঘরঃ চিকেন বাটার মশলা

E Zero Point

মতামত দিন