01/02/2023 : 2:22 AM
আমার বাংলাদক্ষিণ বঙ্গপূর্ব বর্ধমান

মেমারিতে প্রকাশ্য সভায় তৃণমূল শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিলেন আইএনটিটিইউসি রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়

জিরো পয়েন্ট নিউজ ডেস্ক, এম.কে হিমু, মেমারি, ২৪ ডিসেম্বর ২০২২:


মেমারি শহরে আবারো প্রকাশ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্তর্কলহ। শহর তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি স্বপন ঘোষাল ও তৃণমূল শাসিত পৌরসভার চেয়ারম্যান স্বপন বিষয়ীর অনুগামীদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্বের কথা কে না জানে। এবার সেই অন্তর্কলহে পরোক্ষভাবে প্রকাশ্য সভায় সীলমোহর দিলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

মেমারি মন্তেশ্বর তৃণমূল বাস ট্রেকার ওয়ারকার্স ইউনিয়নের উদ্যোগে শনিবার পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি নতুন বাসষ্ট্যান্ডে আয়োজিত হয় রক্তদান শিবির ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির। মেমারি বিধাসভার বিধায়ক তথা ওয়ারকার্স ইউনিয়নের সভাপতি মধুসূদন ভট্টাচার্য্য, কালনা বিধানসভার বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ, আইএনটিটিইউসি জেলা সভাপতি মহঃ সেলিম, মেমারি শহর সভাপতি স্বপন ঘোষাল সহ অন্যান্য তৃণমূল নেতার উপস্থিতিতে রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মেমারি বাসস্ট্যাণ্ড নিয়ে প্রতিনিয়ত অভিযোগের ফলে মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে।

তিনি মঞ্চে উপস্থিত আইএনটিটিইউসি জেলা সভাপতি মহঃ সেলিমকে নির্দেশ দেন, ওই যে লোকটি বেআইনি ভাবে আই এন টি টি ইউ সি র অফিসঘর দখল করে রেখেছে সে আই এন টি টি ইউ সির কেউ নয়। ওই নেতার বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করুন। সংগঠনের নাম যত্রতত্র ব্যবহার করা যাবে না বলেও হুমকি দেন তিনি।

পরে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ওই অফিস ঘর নিয়ে অজস্র শ্রমিকদের যে অভিযোগ ছিল তা সত্যতা প্রমাণ হয়ে গেছে। এই অফিস যাতে দখলমুক্ত করা যায় প্রশাসনিকভাবে যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেব। স্থানীয় শ্রমিক নেতা সুকান্ত হাজরার বিরুদ্ধে সরাসরি অফিস দখলের অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ দেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই শ্রমিক নেতা সুকান্ত হাজরা ওই বিতর্কিত অফিসে বসে বলেন, রাজ্য নেতৃত্বের উপর কথা বলার অধিকার তার নেই তবে এটা বলতে পারি তিনি যেদিন থেকে রাজ্য সভাপতি হয়েছেন মেমারিতে একটি নতুন ট্রেড ইউনিয়ন গঠন হয়েছে, সেদিন থেকে তিনি কোন বাস ইউনিয়নের দায়িত্বে নেই। আর অফিসটা মেমারি পৌরসভার মার্কেটে এব্যপারে পৌর প্রধান সঠিক উত্তর দিতে পারবেন। উনি এফআইআর করুন, যদি এটা আইএনটিটিইউসি- র ঘর প্রমাণিত হয়, তাহলে ছেড়ে দেবেন। না হলে যেমন বসে আছি তেমনই থাকবো। উনার কাছে সঠিক তথ্য নেই। এফআইআর হলে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেব।

যদিও রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও স্থানীয় শ্রমিক নেতা সুকান্ত হাজরা দুজনেই এটা তৃণমূলের অন্তর্কলহ বলতে নারাজ এবং দুজনেই বলেন মমতা ব্যানার্জী তাদের নেত্রী ও অভিষেক ব্যানার্জী তাদের নেতা। তাহলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে কেন এত অন্তর্কলহ? মমতা ব্যানার্জী যে কমিটির নামে সীল মোহর দিয়েছেন সেই কমিটির নেতাদের মানতে কেন নারাজ স্থানীয় নেতারা।

 

Related posts

হরিপাল বিধানসভা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক কর্মী সম্মেলন

E Zero Point

আম্ফানে বিপর্যস্ত সুটিয়ার আদিবাসী পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক

E Zero Point

মহিলা ঋণ মুক্তি কমিটির ডেপুটেশন পূর্বস্থলীতে

E Zero Point

মতামত দিন