01/02/2023 : 7:24 AM
আমার বাংলাদক্ষিণ বঙ্গপূর্ব বর্ধমান

প্লাটিনাম জয়ন্তী পালিত হলো গুসকরা বালিকা বিদ্যালয়ে

জিরো পয়েন্ট নিউজ – জ্যোতিপ্রকাশ মুখার্জ্জী,পূর্ব বর্ধমান, ১২ জানুয়ারী ২০২৩:


রামমোহন, বিদ্যাসাগরের হাত ধরে ধীরে ধীরে নারী শিক্ষার প্রসার ঘটতে শুরু করেছে এই বাংলায়। বেশ কিছু ভারতপ্রেমী ইংরেজ শিক্ষাবিদও একই পথের পথিক হন। সবার প্রচেষ্টায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে ওঠে একাধিক বালিকা বিদ্যালয়। দুর্ভাগ্যবশত তখনও অবিভক্ত বর্ধমানের গুসকরায় কোনো বালিকা বিদ্যালয় গড়ে ওঠেনি । এনিয়ে গুসকরাবাসীর মনে একটা আক্ষেপ থেকে গিয়েছিল। যতই হোক আশেপাশের এলাকায় গুসকরার একটা আলাদা মর্যাদা ও পরিচিতি আছে। তাদের আক্ষেপ থাকাটা স্বাভাবিক।এসব ইংরেজ আমলের ঘটনা।

তবে গুসকরা হলো বহু কৃতি মানুষের ধাত্রীভূমি। এখানে এই আক্ষেপ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই সেই আক্ষেপ দূর করতে এগিয়ে এলেন দুই কৃতি সন্তান ডা. অমূল্য বসু ও ডা. বিজয় গড়াই। পাশে পেলেন আরও একগুচ্ছ কৃতি সন্তানকে যারা প্রত্যেকেই ছিলেন ‘গুসকরা গৌরব’। জমি সমস্যা মেটাতে এগিয়ে এলেন চোংদার পরিবার সহ অন্যান্যরা। এমনকি গুসকরার বাইরের অনেক সহৃদয় ব্যক্তি বিদ্যালয় তৈরির উদ্দেশ্যে জমিদান করলেন। অবশেষে সবার প্রচেষ্টায় গুসকরাবাসীর আক্ষেপ দূর করে দিনের আলোর মুখ দেখল গুসকরা বালিকা বিদ্যালয়। ১৯৪৮ সালের ১ লা মে পাঁচজন ছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করে গুসকরাবাসীর স্বপ্নের বালিকা বিদ্যালয়। মূলত নারী শিক্ষার উন্নয়ন ছিল বিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য এবং গত পঁচাত্তর বছর ধরে সেই লক্ষ্যেই সফলভাবে এগিয়ে চলেছে বিদ্যালয়টি।

করোনার জনিত আতঙ্ক ও নিষেধাজ্ঞার কারণে নির্দিষ্ট সময়ে অনুষ্ঠান হতে না পারলেও আবেগকে চেপে রেখে গত ১৬ ই সেপ্টেম্বর ছোট্ট করে বিদ্যালয়ে পালিত হয়  পঁচাত্তরতম বছর পূর্তি উৎসব। সেইদিনই পরিচালন সমিতির সভাপতি ঘোষণা করেন জানুয়ারি মাসে তিনদিন ব্যাপী আড়ম্বড় পূর্ণভাবে দিনটি পালন করা হবে।

সেদিনের ঘোষণা যে নিছক একটা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ছিলনা সেটা প্রমাণ করার জন্য এবং বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রীদের আবেগকে সম্মান জানিয়ে ১২, ১৩ ও ১৪ই জানুয়ারি তিনদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ১২ ই জানুয়ারি ছিল গুসকরা বালিকা বিদ্যালয়ের তিনদিন ব্যাপী প্ল্যাটিনাম জয়ন্তী


উৎসবের প্রথম দিন। ব্যাণ্ড সহযোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি পরিক্রমা করে শহরের বিভিন্ন এলাকা। পেশাদার ব্যাণ্ড বাদকদের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদেরও ব্যাণ্ড বাজাতে দ্যখা যায়। র‍্যালিতে পা মেলান পরিচালন সমিতির সভাপতি তথা পৌরপ্রধান, উপ-পৌরপ্রধান সহ অন্যান্য কাউন্সিলাররা, বর্তমান-প্রাক্তন শিক্ষিকা ও ছাত্রীরা এবং শহরের বেশ কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তি ও শিক্ষাবিদ।

র‍্যালি বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ফিরে আসার পর উদ্বোধনী সঙ্গীত ও সমবেত সঙ্গীতের মধ্যে দিয়ে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা মঞ্চে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বরণ করে নেয়। জাতীয় সঙ্গীতের মধ্যে দিয়ে বিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন স্হানীয় বিধায়ক অভেদানন্দ থাণ্ডার। তাকে সহযোগিতা করেন পরিচালন সমিতির সভাপতি কুশল মুখার্জ্জী। বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের দীর্ঘদিনের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়ে বিদ্যাসাগরের আবক্ষ মূর্তি উদ্বোধন করেন বিদ্যালয় অন্ত প্রাণ প্রাক্তন শিক্ষিকা পূরবী কর্মকার। এছাড়াও ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পত্রিকা প্রকাশ, বিজ্ঞান প্রদর্শনী, কৃতি ছাত্রীদের পুরস্কৃত করা, স্মৃতিচারণ ইত্যাদি।

বিদ্যালয়ের প্ল্যাটিনাম জয়ন্তী মানেই প্রাক্তনীদের ‘রি-ইউনিয়ন’। এখানেও তার ব্যতিক্রম ঘটলনা। দীর্ঘদিন পর বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে পুরনো বান্ধবীদের দেখে ওরা সব, প্রথম দিনের মত, কিশোরীসুলভ উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে। অথচ ওদের অধিকাংশের বয়স ষাট পেরিয়ে গ্যাছে। কিন্তু আবেগ দেখে মনে হবে এইতো সেদিনের মত আজও ওরা বিদ্যালয়ের ছাত্রী। শুধু ছিলনা সেদিনের মত ভয় ও বয়স জনিত কারণে ছুটোছুটি। সবার উপস্থিতিতে সত্যিকারের মিলন মেলা হয়ে ওঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গন।

সদ্য প্রাক্তনীরাও নিজেদের আবেগ ধরে রাখতে পারেনি। মাত্র বছর দু’য়েক আগে বিদ্যালয় ছেড়েছে মলি দাস। পুরনো বান্ধবী ও শিক্ষিকাদের আবার দেখতে পেয়ে বিদ্যালয় জীবনের উচ্ছ্বলতা ধরা পড়ে তাদের মধ্যে। মেতে ওঠে নিজস্বী তুলতে। তার বক্তব্য – আট বছরের টান কি ভোলা যায়? অন্যান্য প্রাক্তনীদের মধ্যে একই ধরনের আবেগ দ্যাখা যায়।

আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিএসপি ( ডি এণ্ড টি) বীরেন্দ্র কুমার পাঠক, আউসগ্রাম থানার আইসি আব্দুল রব খান, ছোড়া ও গুসকরা ফাঁড়ির ওসি যথাক্রমে পঙ্কজ নস্কর ও নীতু সিং, প্রাক্তন পৌরপ্রধান চঞ্চল গড়াই, বারাসত রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মহুয়া দাস সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সুব্রত শ্যাম ও পূরবী কর্মকার।

Related posts

বিধায়কের উদ্যোগে কম্বল বিতরণ মেমারিতে

E Zero Point

ভাতারে করোনা যুদ্ধে জয়লাভ করলো দুই বছরের শিশু

E Zero Point

তপশিলি জাতি আদিবাসী প্রাক্তন সৈনিক কৃষি বিকাশ শিল্প কেন্দ্র সরকারি স্বীকৃতি

E Zero Point

মতামত দিন