তুমি আছো বলেই
খিদের জ্বালায় ককিয়ে ওঠে শিশু,
বইয়ের পাতায় অক্ষরেরা বেজে ওঠে ঝমঝম,
চোখের ভাষা ভালোবাসা হয়ে
ঝরে পরে টুপটুপ,
প্রেমিকের চিঠি আশা ভালোবাসা
জাগায় প্রেমিকার চোখে,
প্রবাসী সন্তানের দূরালাপ
ভিজিয়ে দেয় জননীর চোখ।
তুমি আছো বলেই
খামে ভরা প্রেম প্রিয়াকে পাঠায় সেনানী,
রাষ্ট্রসঙ্ঘে শান্তিচুক্তির অঙ্গীকার করে রাষ্ট্রনেতা,
পুরুষের অহংকারের খাস তালুকে নারী স্বাধীচেতা,
যারা এতদিন ছিল অন্ত:পুরে শুধু রমনী ও মাতা ।
তুমি আছো বলেই
বরকত,জব্বাররা মৃত্যুকে করেছিল বরণ নির্দ্বিধায়,
‘একবার বিদায় দে’মা’ বলে
ফাসির মঞ্চে গেয়েছিল গান
শহিদ ক্ষুদিরাম,
গুলিবিদ্ধ মুমূর্ষু মাহাত্মা
শেষবার উচ্চারণ করেছিল – হে রাম।
তুমি আছো বলেই
বিশ্বকবির জয়টিকা পরেছিল রবীন্দ্রনাথ,
কাল কুঠুরিতে বসে দুখু মিয়া জ্বেলেছিল
বিদ্রোহের আগুণ,
প্রকৃতি প্রেমের বিপ্লব ঘটিয়েছিল জীবনানন্দ।শ,
রানার কবিতায় জীবনের জয়গান গেয়েছিল সুকান্ত।
তুমি আছো বলেই
প্রচার মাধ্যমে মেকি দেশভক্তির
কথার ফানুস রাষ্ট্রনেতার,
‘একমুঠো অন্ন দাও’ বলে
নিরন্ন ভিখিরি হাত পাতে দ্বারে,
এজলাসে এজলাসে দানা বাঁধে
সত্য মিথ্যার তুমুল প্রতিযোগিতা।
তুমি আছো বলেই
সৃষ্টির মাটিতে বোনে শব্দের বীজ
শব্দচাষী,
অবুঝ প্রেমিক অর্থহীন ভাষায়
প্রেমিকাকে বোঝায় প্রেমের অর্থ।
তুমি আছো বলেই
‘জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গড়িয়সি’।♦

